বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন পেজেশকিয়ান ও ট্রাম্প: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৮, ২০২৬ 

news-image

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘোষণা করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, সমঝোতা স্মারকে ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ইরান-আমেরিকার সমঝোতা স্মারকটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করায় এর গুরুত্ব বেড়েছে।

বাকায়ি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত জেনেভায় আলোচনাকারী দলের উপস্থিতির পরিকল্পনা বহাল রয়েছে, তবে সমঝোতা স্মারকটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সুইজারল্যান্ডে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, “ইরান ও আমেরিকার সমঝোতা স্মারক এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষ এতে স্বাক্ষর করেছে।”

বাকায়ি জোর দিয়ে বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের বন্ধুদের একা ফেলে রাখে না। আমাদের জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের সমাপ্তি ইরানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এখনও আছে। সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় তিনবার লেবাননের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই পর্যায়ে আমরা যুদ্ধ সমাপ্তির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি, এর অর্থ এই নয় যে আমরা অতীতকে ভুলে গেছি বা বড় মূল্য দিয়ে শেখা শিক্ষাগুলোকে ভুলে গেছি। এখন আমাদের কাজ আগের চেয়ে আরও কঠিন, কারণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা তা প্রণয়নের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। বিশেষত এমন পক্ষগুলোর ক্ষেত্রে, যারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।”

তিনি বলেন, “কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান জনগণের সর্বাত্মক সমর্থন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে এমন একটি স্মারকে পৌঁছেছে, যা আমাদের মতে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে। এখন থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এমনভাবে কাজ করা হয় যে অপর পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি; বরং কাজ এখনই শুরু হয়েছে। একদিকে আমাদের দেখতে হবে অপর পক্ষ এটি বাস্তবায়ন করছে কি না, অন্যদিকে পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।”

‌ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “সমঝোতা স্মারকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, আলোচনা কেবলমাত্র পারমাণবিক বিষয় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করেই হবে।”#

পার্স টুডে