রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জায়নবাদী শাসনের সামরিক অভিযানের সময় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গণগ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের গণগ্রন্থাগার সমিতির মহাসচিবের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি ও প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন (আইএফএলএ)-এর সভাপতির কাছে পত্র

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০২৬ 

news-image

মিস লেসলি উইয়ার

মাননীয় সভাপতি

আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি ও প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন (আইএফএলএ)

 

প্রিয় মিস উইয়ার

আমি ইরানের গণগ্রন্থাগার সমিতি এবং ইরানি গ্রন্থাগারিক সমিতির পক্ষ থেকে আপনাকে লিখছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জায়নবাদী শাসনের সামরিক অভিযানের সময় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গণগ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ২০২৬ সালের ৭ই এপ্রিল, মঙ্গলবার পর্যন্ত এই হামলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৬২টি গণগ্রন্থাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ‘সাইয়্যেদুশ শোহাদা (আ.) হোসেইনিয়েহ আজম জানজান’ এবং ‘দেহলোরান বর্ডার রেজিমেন্ট ইলাম’ নামক দুটি গণগ্রন্থাগার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গণগ্রন্থাগারগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং সামাজিক কাঠামোর অপরিহার্য অংশ। এগুলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আমাদের সম্মিলিত জ্ঞান সংরক্ষণ, সামাজিক সংহতি জোরদার করা এবং তথ্য সম্পদে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে তা কেবল ভৌত স্থানের ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজের বৌদ্ধিক ক্ষমতার এক উল্লেখযোগ্য ক্ষতি।

এটা উল্লেখ করা অপরিহার্য যে, সাংস্কৃতিক ও জনপ্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা এবং সাংস্কৃতিক সম্পত্তি সুরক্ষাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দলিলে স্বীকৃত বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন, যেমন সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন।

এই পরিস্থিতিতে, ইরানের গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠান সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ নথিভুক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। আমরা মহামান্য আপনাকে এবং আন্তর্জাতিক গ্রন্থাগার সমিতি ও প্রতিষ্ঠান ফেডারেশনকে (IFLA) আমাদের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান পরিকাঠামোর উপর এই আক্রমণের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে সসম্মানে আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য আপনার পেশাগত ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কাঠামোর মধ্যে থেকে আমরা একটি যথাযথ ও দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করি। আমাদের গণগ্রন্থাগারগুলোতে সাংস্কৃতিক পরিষেবার ধারাবাহিকতা নিঃসন্দেহে গ্রন্থাগারিকদের পেশাগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সমাজের সমর্থন এবং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার উপর নির্ভর করবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রন্থাগারগুলোর পুনর্নির্মাণ আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। এই জরুরি বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার বিশ্বস্ত

আজাদেহ নাজারবোলান্দ

ইরানের গণগ্রন্থাগার সমিতির মহাসচিব