মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

ইসরায়েলকে ‘কঠোর শাস্তি’ দিয়ে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান

পোস্ট হয়েছে: জুন ৯, ২০২৬ 

news-image

লেবাননের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার পর সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আজ (সোমবার) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ‘খাতামুল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “অপরাধী আমেরিকার” সমর্থনে দক্ষিণ লেবানন এবং দাহিয়েহ এলাকায় “বর্বর জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা” যে “নৃশংসতা” চালিয়ে আসছিল, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পরই এই অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই জবাব থেকে ভুয়া জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং তার সমর্থকদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

এর আগে গত রোববার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ‘রামাত ডেভিড’ বিমান ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি। লেবাননে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করার জবাবে এই হামলা চালানো হয়, কারণ এই ঘাঁটিটি থেকেই লেবাননে বিমান হামলা চালানো হচ্ছিল। এরপর সোমবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালালে, তার জবাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নেভাতিম’ এবং ‘তেল নোফ’ বিমান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি।

ইরানি কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ এপ্রিল ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তার প্রধান শর্তই ছিল সব যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা বন্ধ রাখা। কিন্তু ইসরায়েল আমেরিকার সবুজ সংকেত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতার সুযোগ নিয়ে প্রতিদিন নিষিদ্ধ ফসফরাস বোমাসহ নানা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে লেবাননে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের সামরিক কমান্ড জোর দিয়ে বলেছে, অভিযান এখন স্থগিত করা হলেও ইসরায়েল যদি আবারও লেবানন কিংবা ইরানে কোনো ধরনের উস্কানি বা হামলা চালায়, তবে এবার আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হানা হবে।

আইআরজিসি’র সিনিয়র কমান্ডার এবং খাতামুল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জুলফিকারি সোমবার বলেন, “আমরা দেশের মানুষকে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমাদের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি প্রমাণ করেছে যে তারা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষায় কতটা প্রস্তুত। আমরা যা বলি, তা দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করে দেখাই।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সুনির্দিষ্ট ও বুদ্ধিদীপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত অঞ্চলের ভেতরে বিশাল ও চড়া মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে। অপরাধী আমেরিকা ও বর্বর ইসরায়েলের জেনে রাখা উচিত—একটি গর্বিত ইরান এবং অঞ্চলের প্রতিরোধ যোদ্ধারা কখনোই যুদ্ধে হেরে যাওয়া শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই আগ্রাসন ও দুষ্টচক্র অব্যাহত থাকে, তবে আরও অনেক বেশি তীব্রতার সাথে তাদের মোকাবিলা করা হবে।”#

পার্সটুডে