জ্ঞানার্জন বিশেষকরে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর ইসলাম ধর্ম গুরুত্বারোপ করার কারণে মুসলমানরা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। এর ফলে মুসলমানরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হন। আবু আলী সিনা, জাকারিয়া ও ইবনে রূশদসহ আরও বহু মুসলিম মনীষী চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তারা চিকিৎসার নতুন নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। ইসলামের প্রথম শতাব্দিতেই মুসলিম বিশ্বের নানা প্রান্তে বহু সমৃদ্ধ হাসপাতাল গড়ে ওঠেছিল। এসব হাসপাতালে বিশেষ বিশেষ রোগের চিকিৎসার জন্য আলাদা আলাদা ইউনিটও ছিল। ফ্রান্সের বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তাবিদ পিয়েরে রুসো তার বিজ্ঞানের ইতিহাস বইয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে মুসলমানদের অগ্রগতি সম্পর্কে লিখেছেন, একবার স্পেনের এক বাদশা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে উপায়ান্তর না দেখে কর্ডোভা শহরে মুসলমানদের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।
চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনার আগে এটা বলে রাখছি যে, কোরআনে চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দিকনির্দেশনা থাকলেও তা চিকিৎসা শাস্ত্রের বই হিসেবে বিবেচিত হয়না। আল্লাহতায়ালা নিজেই বলেছেন, কোরআন হচ্ছে মানুষের জন্য সরল ও সঠিক পথের নির্দেশক এবং তা পারলৌকিক ও পার্থিব জীবনের কল্যাণ নিশ্চিতকারী গ্রন্থ। কোরআনে চিকিৎসা শাস্ত্রের কথা উল্লেখ করার অর্থ হলো মানুষের কল্যাণে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বকে তুলে ধরা। ‘কোরআন ও চিকিৎসা বিজ্ঞান’ শীর্ষক সেমিনারের সচিব মোহাম্মদ আব্বাসি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কোরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক দিকগুলোর একটি হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান, যা বিশ্বের গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা যদি মনোযোগের সাথে কোরআনের আয়াতগুলো লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই, আসমানী এ গ্রন্থে মানুষের দৈহিক ও মানসিক রোগ নিরাময়ের বিষয়টি একইসঙ্গে রয়েছে। সুরা রা’দের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জেনে রাখুন, কেবলমাত্র আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমেই আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।
অন্যদিকে, আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাবার কারণে মানুষ দুরবস্থায় পতিত হয় বলেও এই মহাগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সংকট ও সমস্যার মুহুর্তে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলা হয়েছে। ধৈর্য্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর স্মরণ মানুষকে আত্মিক প্রশান্তি দেয়। পাশাপাশি এর ফলে মানুষের কঠিন পরিস্থিতি ও সমস্যা মোকাবেলার শক্তিও বৃদ্ধি পায়। ইসলাম মুসলমানদেরকে এ শিক্ষা দেয় যে, আনন্দ এবং দু:খ-কষ্ট উভয়ই ক্ষণস্থায়ী। কাজেই মানুষকে যে কোন কঠিন পরিস্থিতির জন্যও সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং দুঃখ-কষ্টকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করতে হবে। আল্লাহতায়ালা নানা ভাবে মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। আর এর ফলে ঈমান আরও দৃঢ় হয়।
পবিত্র কোরআনে এমন সব দিক-নির্দেশনা রয়েছে, যা মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখে। যেমন ইসলামে তরুণদের বিয়ে এবং পরিবার গঠনের ওপর অপরিসীম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুরা রূমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন,যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে।’
ইসলাম ধর্ম পারিবাবিক ও আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। সকল আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে পিতা-মাতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বারবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পারস্পরিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক, মানুষকে মানসিক দিক থেকে সুস্থ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে সহায়তা করে। মুসলমানদেরকে পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন, নামাজ আদায়, দোয়া করা এবং অন্যান্য এবাদতের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এর ফলে মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত হবে। মানুষ যদি মনপ্রাণ দিয়ে আন্তরিকতার সাথে তার সৃষ্টিকর্তাকে ডাকে তাহলে অবশ্যই সে তার ফল পাবে। আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আমাকে ডাক,আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।
পবিত্র কোরআন, মানষিক ও আত্মিক সমস্যার সমাধানসূত্রের পাশাপাশি দেহের নানা রোগ নিরাময়েরও পথ বাতলে দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম রোগ প্রতিরোধের ওপরই সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসে এমন সব দিকনির্দেশনা রয়েছে,যা রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। যেমন বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, ক্ষুধার্ত না হলে খেতে বসনা এবং পেট পরিপূর্ণ হবার আগেই খাওয়া শেষ কর। রাসূল (সাঃ) ও ইমামগণ এমন সব খাদ্যদ্রব্যের নাম উল্লেখ করেছেন,যা ব্যাথা উপশমসহ নানা রোগ থেকে মানুষকে মুক্ত রাখে। একই সাথে কোরআনে অনেক খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে। মানুষের মন-মানষিকতার ওপর খাদ্যের প্রভাবের কথাও কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সূরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মানব-জাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে তোমরা খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু । মহাগ্রন্থ আল কোরআনে কিছু কিছু খাদ্য ও পানীয়কে হারাম বা অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।এসব খাদ্য ও পাণীয় মানুষের শরীর ও মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে মদ, শুকরের গুশত ও মৃত প্রাণীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কোরআনে রোগ নিরাময়কারী কিছু খাদ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে,যা আল্লাহতায়ালার শক্তি ও সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশও বটে। এছাড়া পবিত্র কোরআনে কিছু ওষুধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের একটি সূরার নাম নহল বা মৌমাছি। ফুলের মধু আহরণ ও চাক তৈরীসহ মৌমাছির বিভিন্ন কর্মপ্রণালী সম্পর্কে বর্ণনা তুলে ধরে সূরা নহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,” ওদের উদর হতে বিবিধ বর্ণ-বিশিষ্ট পানীয় নির্গত হয়ে থাকে, এতে মানুষের জন্য ব্যাধির প্রতিকার আছে।” এই আয়াতে মধুর গুণাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মধুর মতো এত বেশী কার্যকর আর কোন উপাদান নেই। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মধুর নানা বিশেষত্ব রয়েছে এবং তা রোগ নিরাময়ে ব্যাপক কার্যকর।
পবিত্র কোরআনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। শুক্রানু থেকে ভ্রুণ গঠন ও ভ্রুণের বেড়ে ওঠার যে পর্যায়গুলো কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে,তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। চৌদ্দ’শ বছরেরও বেশি সময় আগে যখন তৎকালীন সমাজে এ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা বিরাজ করছিল, তখন পবিত্র কোরআন স্পষ্ট ভাবেই ঘোষণা করে যে, শুক্রাণু জরায়ুতে স্থাপিত হয়। পবিত্র কোরাণে ভ্রুণের পূর্ণতালাভের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।সূরা মো’মেনুনের ১২ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় আমি মানুষকে মৃত্তিকার উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করি। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি, অত:পর জমাট রক্তকে মাংস পিন্ডে পরিণত করি এবং মাংস পিন্ডকে অস্থি-পঞ্জরে, অত:পর অস্থি-পঞ্জরকে মাংস দ্বারা ঢেকে দেই। অবশেষে আমি তাকে চরম সৃষ্টিতে পরিণত করি, অতএব আল্লাহ মহান,যিনি শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিকর্তা।”
এছাড়া পবিত্র কোরআনে মানুষের সুস্থতার প্রতি ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোজার বিধান অন্যতম। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, রোজা রাখুন তাহলে সুস্থ্য থাকবেন। চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নীতিশাস্ত্র। তেহরানে অনুষ্ঠিত কোরআন ও চিকিৎসা শীর্ষক সেমিনারে এ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। চিকিৎসা শাস্ত্রের নীতিমালার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, একজন মুসলিম চিকিৎসক, রোগীর সাথে সুন্দর আচরণ করতে বাধ্য। বলা হয়ে থাকে, ডাক্তারের আচার-ব্যবহার, রোগীকে অর্ধেক সুস্থ্য করে তোলে। কোরআনে সদাচরণের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেমিনারে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়- শিক্ষক ও ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ কেইথ মোর বলেছেন, গবেষকরা নতুন নতুন বিষয় আবিস্কার করছে আর এটা বুঝতে পারছে যে, কোরআনে এ সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে।
রেডিও তেহরান
১) রাসূলে খোদা (সা) বলেছেনঃ বেহেশ্ত হচ্ছে মায়েদের পায়ের নিচে। ( কানযুল উম্মালঃ ৪৫৪৩৯, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ )
২) ইমাম সাদেক (আ) বলেছেনঃ এক লোক রাসূলের খেদমাতে এসে আরজ করলো-হে রাসুল! খেদমত করবো কার? রাসূল বললেনঃ তোমার মায়ের। লোকটি বললো-তারপর কার? রাসূল বললেনঃ তোমার মায়ের। লোকটি বললো-তারপর? রাসূল বললেন-তোমার মায়ের। লোকটি আবারো জিজ্ঞেস করলো তারপর কার? নবীজী বললেন-তোমার বাবার। ( আল-কাফিঃ ৯/১৫৯/২,মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ )
৩) রাসূলে কারিম (সা) বলেছেনঃ নারীর প্রতি সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে তার স্বামীর,আর পুরুষের উপর সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে তার মায়ের। ( কানযুল উম্মালঃ ৪৪৭৭১, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ২৫৪ )
রেডিও তেহরান
এক. মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে যায়েদ ইবনে আরকাম হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (স.) একদিন মদিনা ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থলে “খুম” নামক একটি জলাশয়ের কাছে খোতবা দান করেন। উক্ত খোতবায় তিনি আল্লাহর প্রশংসার পর লোকদেরকে নসিহত করে বলেন:
ألا أيّها الناس، فانّما أنا بشرٌ يوشک أن يأتی رسول ربّی فأجيب، و أنا تارکت فيکم ثقلين: أولهما کتاب الله فيه الهدی و النور، فخذوا بکتاب الله و استمسکوا به -فحث علی کتاب الله و رغّب فيه ثم قال: – و أهل بيتی، أذکرکم الله في أهل بيتی، أذکرکم الله فی اهل بيتی، أذکرکم الله فی اهل بيتی
হে লোকসকল! আমি একজন মানুষ। খুব শিগগিরি আমার প্রভুর নিযুক্ত ব্যক্তি (তথা মৃত্যুর ফেরেশতা) আমার কাছে আসবে এবং আমিও তাঁর আহ্বানে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি অতি মূল্যবান জিনিস রেখে যাচ্ছি; যার একটি হল আল্লাহর কিতাব; যাতে রয়েছে নূর এবং হেদায়েত। আল্লাহর কিতাবকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর। রাসূল (স.) আল্লাহর কিতাবের উপর আমল করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অত:পর বলেন: আর অপরটি হলো আমার আহলে বাইত। আমার আহলে বাইতের বিষয়ে তোমাদেরকে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি (অর্থাৎ মহান আল্লাহকে ভয় করে তাদেরকে অনুসরণ কর) এই বাক্যটিকে তিনি তিনবার উচ্চারণ করেন। সূত্র: সহীহ মুসলিম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ.১৮০৩।
দারেমি এই টেক্সট বা মাতন তথা হাদিসের মূলপাঠটি নিজ ‘সুনান’-শীর্ষক বইয়ে বর্ণনা করেছেন। সূত্র:সুনানে দারেমী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৩১-৪৩২।
দুই. তিরমিযি এই হাদিসটিতে ((وعترتی أهل بيتی)) শব্দগুলো বর্ণনা করেছেন। মূল হাদিসটি হলো:
إنی تارکت فيکم الثقلين ما ان تمسکتم به لن تضلّوا بعدی؛ أحدهما أعظم من الآخر: کتاب الله حبل ممدود من السماء إلی الأرض و عترتی اهل بيتی، لن يفترقا حتی يردا عليَّ الحوض، فانظروا کيف تخلفونی فيها.
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (মূল্যবান) জিনিস (আমানত হিসেবে) রেখে যাচ্ছি। যদি তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধর তবে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। সেগুলো একটি অপরটির উপর প্রধান্য রাখে। ( সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর কিতাব যা আসমান হতে জমিন পর্যন্ত প্রসারিত (রহমতের) ঝুলন্ত রশির ন্যায় এবং অপরটি হলো আমার বংশধর; আমার আহলে বাইত। এরা হাউযে কাওসারে আমার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত কখনও একে অপর হতে আলাদা হবে না। অতএব, তোমরা লক্ষ্য রেখ যে, আমার (ছেড়ে যাওয়া) আমানতের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করো।” (সূত্র: সুনানে তিরমিযি, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬৬৩।)
১) রাসুলে খোদা (সা.) বলেছেন, উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা দূরীভূত হয়।
১১) নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লোক হচ্ছে তারা, যাদের চরিত্র তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।
১২) হযরত আলী (আ.) বলেছেন : যে ব্যক্তি তার অন্তরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করার জন্য সচেষ্ট হবে, মহান আল্লাহ তার বাহ্যিক দিককে পরিশীলিত করবেন। যে ব্যক্তি ধর্মের মূল নীতি মেনে চলবে, মহান স্রষ্টা তার পার্থিব বিষয়গুলো সহজ করে দেবেন আর যে ব্যক্তি তার স্রষ্টা ও মাবুদের সাথে নৈকট্য প্রতিষ্ঠা করবে, মহান আল্লাহ তার সঙ্গে অন্যদের সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে দেবেন।
১৩) হযরত আলী (আ.) বলেছেন, অপরের ধন-সম্পদের ব্যাপারে নিরাসক্ততা ও নিস্পৃহতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঐশ্বর্য্য বা সন্পদ।
৪) হযরত আলী (আ.) বলেছেন, নম্র ও ভদ্র আচরণের অধিকারী ব্যক্তি সহজেই মানুষের ভালবাসা অর্জন করে।
১৫) হযরত আলী (আ.) বলেছেন, নির্বোধ ও অজ্ঞ লোকদের সাহচর্য মানুষের নৈতিকতা ও আচার -ব্যবহারকে ধ্বংস করে দেয়।
১৬) হযরত আলী (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মহত্বপূর্ন ও উদার চরিত্রের অধিকারি তার জিবিকা এবং রুজি বৃদ্ধি পায়।
১৭) হযরত ফাতেমা (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ইবাদত এবং অন্যান্য সব কাজ কেবলমাত্র আল্লার সন্তুষ্টির জন্য করবে মহান আল্লাহ তার প্রতি বিশেষ রহমত ও অনু গ্রহের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবেন।
১৮) ইমাম রেজা (আ.) বলেছেন, কৃপণ ব্যক্তি মহান আল্লাহ, বেহেশত এবং মানুষের কাছ থেকে বহু দূরে আর দোযখের কাছাকাছি অবস্থান করে।
১৯) ইমাম রেজা (আ.) বলেছেন, কৃপন ব্যক্তি মহান আল্লাহ ,বেহেশত এবং মানুষের কাছ থেকে বহু দূরে আর দোযখের কাছাকাছি অবস্থান করে।
২০) ইমাম সাদেক (আ.) বলেছেন, অলসতা এবং অসহিষ্ণুতা থেকে দূরে থাক কেননা এ দুটো তোমাকে দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করবে।
রেডিও তেহরান
‘সন’ ও ‘তারিখ’ দুটিই আরবী শব্দ। প্রথমটির অর্থ হল ‘বর্ষ’ বা ‘বর্ষপঞ্জী’ এবং অন্যটির অর্থ ‘দিন’। ‘তারিখ’ বলতে আবার ইতিহাসও বোঝায়। ‘সাল’ হচ্ছে একটি ফারসী শব্দ, যার অর্থ হল বৎসর। বাংলা সনের সূত্রপাত হয় আরবী হিজরী সনের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ ইসলামী সনের ওপর ভিত্তি করেই একজন মুসলমান বাদশাহ কর্তৃক বাংলা সনের প্রবর্তন। স্বভাবতই, যারা ইতিহাসকে স্বীকার করেন না বা যারা ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ, তারাই মনে করেন যে, বাংলা সন অমুসলিমদের দ্বারা প্রবর্তিত একটি বর্ষপঞ্জী।
‘ইংরেজি’ তথা ‘গ্রেগরীয়ান’ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মক্কা থেকে মদীনায় ঐতিহাসিক হিজরত অবলম্বন করে প্রবর্তিত, এই হিজরী সন শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১৬৫ জুলাই তারিখ থেকে। বাংলা সনের মূলে হিজরী সন বিদ্যমান বিধায় হিজরী সালকেই সুকৌশলে বাংলা সনে রূপান্তরিত করা হয়।
মোঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে তারই নির্দেশে ৯৯৮ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। বাদশাহ আকবর ৯৬৩ হিজরীতে অথাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে (১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে) দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা চিরন্তরণীয় করে রাখার জন্য ৯৬৩ হিজরী অবলম্বন করেই বাংলা সন চালু করা হয়। অর্থাৎ ১, ২, ৩-এভাবে হিসেব না করে মূল হিজরী সনের চলতি বছর থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়। ফলে জন্ম বছরেই বাংলা সন ৯৬৩ বৎসর বয়স নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
হিজরী সনের ক্ষেত্রে যে রকম হিজরতের দিন ও মাস (১২ রবিউল আউয়াল) সুনির্দিষ্টভাবে অবলম্বন না করে শুধুমাত্র সালটিকেই (৬২২ খ্রিস্টাব্দে) সংরক্ষণ করা হয়, বাংলা সনের ক্ষেত্রেও তেমনি সম্রাট আকবরের রাজ্যভিষেকের দিন ও মাস (১৪ইং ফেব্রুয়ারি) অবলম্বন না করে শুধুমাত্র বৎসরটি (৯৬৩ হিজরী) সংরক্ষিত হয়।
হিজরী সনের প্রথমদিন হল পহেলা মহররম। বাংলা সনে তা পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখ করা হয়। ৯৬৩ হিজরীতে মহররম মাস ও বৈশাখ মাস একই সঙ্গে আসে। ফলে, তদানীন্তন শকাব্দের প্রথম মাসটি গ্রহণ না করে হিজরী সনের প্রথম মাস মহররমের অর্থাৎ বৈশাখ মাসকেই বাংলা সনের মাস হিসাবে পরিচিহ্নিত করা হয়।
বাংলা সনের সৃষ্টি হয় ফসল তোলার সময় লক্ষ্য করে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌর বৎসর অবলম্বনে এই নতুন সন গণনা শুরু হয়। তাই, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ‘ফসলী সন’ নামে অভিহিত হতো। ‘বাংলা’র জন্য উদ্ভাবিত বলে এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিহ্নিত হয়। উল্লেখ্য, একইভাবে ভারতের উড়িষ্যা ও মহারাষ্ট্র প্রদেশে যথাক্রমে ‘বিলায়তী’ ও ‘সুরসান’ নামে আঞ্চলিক সনের সৃষ্টি হয়। এসব সনেরও উৎস-সন হিসেবে হিজরী সনকেই গ্রহণ করা হয়।
সম্রাট আকবরের আমলে সুবা-এ-বাংলা (বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা) মোগল শাসনের আওতাভুক্ত হয়। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এক জটিল সমস্যা দেখা দেয়। প্রজাদের দেয় খাজনা ফসলের মাধ্যমে আদায় করতে হলে বছরে একটি সময় নির্দিষ্ট থাকা আবশ্যক। কিন্তু সে কালের রাজকীয় সন অর্থাৎ হিজরী সন চন্দ্র সন হওয়ার প্রতি বছর একই মাসে খাজনা আদায় সম্ভব হতো না। ফলে, সম্রাট আকবর একটি সৌরভিত্তিক সন প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। উল্লেখ্য, চান্দ্র বৎসর ৩৬৫ দিনের না হয়ে ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে। ফলে, চান্দ্রভিত্তিক আরবী মাস বৎসরের সৌরভিত্তিক ঋতুর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোন সামঞ্জস্য বহন করে না। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, বাংলাদেশে পবিত্র রমযান এখন পুরোপুরি না হলেও প্রায় শীতকালে উদযাপিত হয়। কিন্তু ১৫-১৬ বৎসর পূর্বে এটি প্রচণ্ড ও দুর্বিষহ গ্রীষ্মের সময় উদযাপিত হতো।
সম্রাট আকবরের নির্দেশে প্রচলিত হিজরী সনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ-জ্যোতিষী আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী বহু ভাবনা-চিন্তার পর সনসমূহের উদ্ভাবন করেন তাদেরই একটি হচ্ছে “ফসলী সন’’ বা ‘বাংলা সন’। পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে যে, ফসলের মওসুমের কথা বিবেচনায় রেখে এই নতুন সনের প্রবর্তন হয় বলে এর নাম ‘ফসলী সন’ হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন অঞ্চলের নাম অনুযায়ী ‘ফসলী সন’ পরিবর্তিত রূপ ধারণ করে এবং বাংলাদেশে তা ‘বাংলা সন’ নামে অভিহিত হয়।
বঙ্গাব্দের বারো মাসের নামকরণঃ
বঙ্গাব্দের বারো মাসের নামকরণ করা হযেছে নক্ষত্রমন্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে । বাংলা মাসের এই নামগুলি হচ্ছেঃ
• বৈশাখ – বিশাখা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• জ্যৈষ্ঠ – জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• আষাঢ় – উত্তর ও পূর্ব আষাঢ়া নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• শ্রাবণ – শ্রবণা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• ভাদ্র -উত্তর ও পূর্ব ভাদ্রপদ নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• আশ্বিন – অশ্বিনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• কার্তিক – কৃত্তিকা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• অগ্রহায়ণ(মার্গশীর্ষ) – মৃগশিরা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• পৌষ – পুষ্যা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• মাঘ – মঘা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• ফাল্গুন – উত্তর ও পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
• চৈত্র – চিত্রা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত তারিখ-ই-ইলাহী-র মাসের নামগুলি প্রচলিত ছিল পারসি ভাষায়, যথা: ফারওয়াদিন, আর্দি, ভিহিসু, খোরদাদ, তির, আমারদাদ, শাহরিযার, আবান, আযুর, দাই, বহম এবং ইসক্নদার মিজ।
বাংলা দিনের নামকরণঃ
বাংলা সন অন্যান্য সনের মতোই সাত দিনকে গ্রহণ করেছে এবং এ দিনের নামগুলো অন্যান্য সনের মতোই তারকামন্ডলীর উপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে।
• সোমবার হচ্ছে সোম বা শিব দেবতার নাম অনুসারে
• মঙ্গলবার হচ্ছে মঙ্গল গ্রহের নাম অনুসারে
• বুধবার হচ্ছে বুধ গ্রহের নাম অনুসারে
• বৃহস্পতিবার হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহের নাম অনুসারে
• শুক্রবার হচ্ছে শুক্র গ্রহের নাম অনুসারে
• শনিবার হচ্ছে শনি গ্রহের নাম অনুসারে
• রবিবার হচ্ছে রবি বা সূর্য দেবতার নাম অনুসারে
বাংলা সনে দিনের শুরু ও শেষ হয় সূর্যোদয়ে । ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরু হয় যেমন মধ্যরাত হতে ।
নজিরবিহীন সাইবার হামলায় সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা তছনছ হয়েছে। হামলায় বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের গতি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটের ইতিহাসে এ ধরনের বড় হামলা এর আগে আর হয়নি।
বাজে বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মেইল পাঠানো হয়। এ সব মেইলে ক্লিক করলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে বা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার কাজে জড়িত এমন সব ওয়েবসাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার আশংকাও থাকে। এ জাতীয় মেইলকে স্পাম বলা হয়।
স্পাম-বিরোধী লড়াইয়ে জড়িত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে ওয়েবসাইট হোস্টিং বিবাদের জের ধরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়। আর এ হামলার প্রভাবই পড়েছে ইন্টারনেটের ওপর। জনপ্রিয় অনেক ওয়েবসাইটে এরইমধ্যে এ হামলার কুপ্রভাব পড়েছে এবং ব্যাংকিং এবং ই-মেইল সিস্টেমেও হামলার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
লন্ডন এবং জেনেভাভিত্তিক স্পাম্পহাউস নামে একটি গোষ্ঠী ইন্টারনেটের স্পাম মেইল-বিরোধী ততপরতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। স্পাম মেইলসহ অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু কি করে ফিল্টার করা যাবে সে বিষয়ে ই-মেইল প্রোভাইডারদের সহায়তা করছে স্পাম্পহাউজ।
এ কাজ করতে গিয়ে এ গোষ্ঠীটি স্পামের সঙ্গে জড়িত সার্ভারগুলোর একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছে এবং তাদের ব্লক করে দেয়ার একটি তালিকা রয়েছে স্পামহাউজের হাতে।
সম্প্রতি সাইবারবাঙ্কার নামের একটি ডাচ ওয়েব হোস্ট পরিচালিত বেশ কয়েকটি সার্ভার ব্লক করে দিয়েছে স্পামহাউজ। শিশু পর্নোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত বিষয়বস্তু ছাড়া আর সবই রাখবে অর্থাত হোস্ট করবে বলে ঘোষণা করেছিল সাইবারবাঙ্কার।
পূর্ব ইউরোপ এবং রাশিয়ার সহযোগিতায় সাইবারবাঙ্কার এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে স্পামহাউজ। অবশ্য, এ বিষয়ে সাইবারাবাঙ্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাংবাদিকরা তাদের মন্তব্য জানতে পারেননি।
এ হামলা চালানোর জন্য ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনাইয়াল অব সার্ভিস বা ডিডিওএস নামে পরিচিত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এই কৌশলে মিথ্যা চাহিদা সৃষ্টি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সার্ভার অকেজো হয়ে যায়।
অবশ্য, এ হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি স্পামহাউজ।
সূত্র: রেডিও তেহরান, ২৮ মার্চ, ২০১৩
আমাদের পরিচিত সৌরজগতের বাইরে বৃহস্পতি গ্রহের মত বিশালাকার গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জোতির্বিজ্ঞানীরা। এ গ্রহটি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ারও দাবি করেছেন তারা। বিজ্ঞানীরা এ গ্রহটির নাম দিয়েছেন এইচ আর- ৮৭৯৯।
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানলপ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের কুইন কনোপ্যাকি ও একদল জোতির্বিজ্ঞানী এ খবর জানিয়েছেন। কনোপ্যাকি জানান, “কেক-২ টেলিস্কোপ, ডেটা প্রসেসিং কৌশলসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করে নজিরবিহীন তথ্য পেয়েছি। বিশেষ করে গ্রহটির পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জোতির্বিজ্ঞান দলের প্রধান হিসেবে কনোপ্যাকি তার গবেষণা পত্র বিখ্যাত জার্নাল সায়েন্সে ২২ মার্চ প্রকাশ করবেন। জোতির্বিজ্ঞানীদের দলটি হাই রেজুলেশনে ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে গ্রহটির পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিকের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন। তারা জানান, গ্রহটির মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশের কথা, যেখানে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইড ও জলীয় বাষ্প এবং ‘এ ধরনের আরো অনেক বেশি কিছু’।
কনোপ্যাকির গবেষণা পত্রের সহকারি লেখক জানান, গ্রহটির পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ ও অক্সিজেনের উপস্থিতির তুলনা করে এবং রাসায়নিক মিশ্রণের বিশ্লেষণ করে আমরা জানতে পারবো, কিভাবে সম্পূর্ণ গ্রহটির ব্যবস্থাপনা গঠিত হয়েছে।”
বিজ্ঞানীরা জানান, এটি যেন একটি বিশাল গ্যাস দানব। কার্বন ও অক্সিজেনের পরিমাণ এবং মিশ্রণ হল মহাবিশ্বের গ্রহগুলোর সৃষ্টি ও বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ এক রহস্য।
এইচ আর- ৮৭৯৯ গ্রহটি পৃথিবী থেকে ১৩০ আলোক বর্ষ দূরে। এর আগে বিজ্ঞানীরা এ গ্রহের অন্য তিন সঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন। ওই তিনটি গ্রহই আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটির চেয়েও তিন থেকে সাত গুণ বড়।
এমনকি ওই গ্রহগুলোর কক্ষপথ আমাদের সৌরজগতের তুলনায় অনেক বেশি বড়। এ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন দানবাকৃতির গ্রহের সৌরজগতটি অনেক বেশি বড়।
সূত্র: রেডিও তেহরান, ১৭ মার্চ, ২০১৩
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা পাঁচ ধরনের রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস প্রস্তুত করেছে। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসরিন সুলতানখাহ এ খবর জানিয়েছেন।
তিনি আজ (রোববার) বলেন, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা পাঁচ ধরনের রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করেছে যা দিয়ে জটিল রোগের চিকিতসা করা হবে। বিশেষ করে মরণঘাতি ক্যান্সারের চিকিতসায় এসব ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি। ২০ এপ্রিল রেডিওফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরির খবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীকে জানানো হবে বলে জানান নাসরিন।
রেডিওফার্মাসিউটিক্যালসগুলো তৈরি করতে ২০ মাত্রা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়। ইরানের আণবিক সংস্থা ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পর তেজস্ক্রিয় ওষুধগুলো প্রস্তুত করেছে। এছাড়াও, ইরানের প্রায় ১০ লাখ রোগীর জন্য আইসোটোপ থেকে তৈরি করা ওষুধ প্রয়োজন।
তিনি জানান, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে আট ধরনের ওষুধ বাইরে থেকে আমদানি করতো। কিন্তু ইরানের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা গোষ্ঠীর অবৈধ অবরোধের কারণে দেশের ক্যান্সার রোগীদের জন্য এ ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। অবৈধ এ অবরোধের কারণে ক্যান্সারসহ বহু রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় ইরানে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, থ্যালাসেমিয়া, লিউকেমিয়া, হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা সঠিক চিকিতসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র: রেডিও তেহরান, ৭ এপ্রিল ২০১৩