মিনাবের শহীদ শিশুদের স্মরণে এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ‘ইরানের বীর’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে
পোস্ট হয়েছে: জুন ১, ২০২৬
তেহরান – ইরনা: রাষ্ট্রপতি, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী, বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং দেশের ক্রীড়া বীরদের উপস্থিতিতে ‘ইরানের বীর’ (কাহরমান-এ ইরান) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে মিনাবের শহীদ শিশুদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
রবিবার রাতে ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর শীর্ষ সম্মেলন কেন্দ্রের হলে আয়োজিত ‘ইরানের বীর’ অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি, মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতি, জাতীয় ক্রীড়া নায়ক এবং ইরানের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মিনাবের শহীদদের এবং সাম্প্রতিক আরোপিত যুদ্ধে নিহত সকল শহীদের স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের করতালির মধ্য দিয়ে আজ আমাদের মাঝে আর নেই এমন সকল ইরানি ক্রীড়া বীর ও চ্যাম্পিয়নের স্মৃতিও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আলি ফারুগি, ইরানের চ্যানেল–৩-এর প্রধান, বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন:
“গত বছরের ‘ইরানের বীর’ উদ্যাপন থেকে এ বছরের উদ্যাপন পর্যন্ত সময়ে যেন আমাদের জীবনে এক যুগ কেটে গেছে। আমরা বিপ্লবের শহীদ নেতাদের এবং কয়েক হাজার শহীদের শোকে মুহ্যমান ছিলাম। যারা গত বছর আমাদের মাঝে ছিলেন কিন্তু আজ আমরা তাদের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলের পাশে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন এবং যারা মানুষের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাঁরা সবাই ইরানের বীর, এবং আমরা তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।”
তিনি আরও বলেন:
“গত বছর ‘ইরানের বীর’ নির্বাচনে ৭৫ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন, আর এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে ১ কোটিতে পৌঁছেছে। এই অনুষ্ঠান জাতীয় গণমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্বের প্রতীক, যার কাজ হলো জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়া। তাই আমরা জনগণকেই নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছি। জনগণই বিচারক, আর জাতীয় গণমাধ্যম তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি আয়না। আমি আশা করি, এই মূল্যবান উদ্যোগ আরও মূল্যবান ফলাফল ও অর্জন বয়ে আনবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে শিশুদের স্কুলব্যাগ প্রতীকীভাবে স্থাপন করে মিনাবের শহীদ শিশুদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের আরেকটি অংশে কারাতে জাতীয় দলের খেলোয়াড় সালেহ আবযারি-কে ‘তাখতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। তিনি এক প্রতিযোগিতায় নিজের গ্লাভস সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড়কে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারেন।
এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিনাবের স্কুলের ১৬৮ জন শহীদ শিক্ষার্থীর স্মরণে তৈরি একটি জার্সিতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে ১৬৮ সংখ্যাটি বিশেষভাবে অঙ্কিত ছিল।
এছাড়া ইরানের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দৃশ্য ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর পর জাতীয় ভলিবল দলের সামরিক সালাম প্রদর্শনের মুহূর্ত—অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। এটি উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপক করতালির মাধ্যমে স্বাগত পায়।
বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তরা
- শহীদ সংগঠন পুরস্কার: রোজান গুদারজি (তায়কোয়ান্দো), ইসরায়েলি প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য
- সেরা দল: ইরান পুরুষ জাতীয় ফুতসাল দল
- সেরা প্রাদেশিক ক্রীড়া দপ্তর: মাজান্দারান
- আগামীর তারকা: মোবিনা নেমাতজাদেহ (তায়কোয়ান্দো)
- সেরা ফেডারেশন: কুস্তি ফেডারেশন
- সেরা পুরুষ প্যারালিম্পিক খেলোয়াড়: আলি আকবর গারিবশাহি
- সেরা নারী প্যারালিম্পিক খেলোয়াড়: হাজের সাফারজাদেহ
- সেরা কোচ: পেজমান দোরোস্তকার (জাতীয় ফ্রিস্টাইল কুস্তি দল)
- সেরা গোল: মেহদি তারেমির উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল
- সেরা নারী ক্রীড়াবিদ: জাহরা কিয়ানি (উশু)
- সেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ: আমিরহোসেইন জারে (ফ্রিস্টাইল কুস্তি)
- ক্রীড়া সততা পুরস্কার: বেহরুজ রাহবারিফার্দ (সাবেক ফুটবলার)
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন অংশ ছিল শিশু শহীদদের স্মরণে প্রতীকী স্কুলব্যাগ প্রদর্শন, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।
সূত্র: ইরনা