শনিবার, ৩রা জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

মায়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, বিশাল জনসমুদ্রে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১, ২০২৬ 

news-image

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গ

আজ (বুধবার) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা তথা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শুরু হয় জানাজা অনুষ্ঠান। জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অংশ নিয়েছেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান জানাজায় অংশ নেন

মায়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজার আগে উপস্থিত লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে মা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের অন্তিম বিদায়ের এই মুহূর্তে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন।

লোকে লোকারণ্য ঢাকা

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান অত্যন্ত বিনম্র স্বরে বলেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আমি মরহুমা খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় কারো কাছ থেকে যদি কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। একই সাথে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার ব্যবহারে বা উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে বেহেশত দান করেন, আসসালামু আলাইকুম।

মায়ের অন্তিম বিদায়ের মুহূর্তে দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন তারেক রহমান

আপসহীন নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢল নামে শোকার্ত মানুষের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনও ছুটে আসেন। দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনা ফুটে উঠেছে তাদের চোখে-মুখে।

জানাজার ইমামতি করছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।

জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই জানাজাস্থলে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। বিকেল ৩টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল

তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন। তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় বুধবার। এছাড়া সাতদিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

জানাজায় জিয়া পরিবারের নারী সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন

খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।#

পার্সটুডে