বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

‘ইরানের নেতার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হলে তা কেটে ফেলা হবে’

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২১, ২০২৬ 

news-image

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব হবে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক।

গতকাল (মঙ্গলবার) তেহরানে এক বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইরান গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না এবং এগুলো একটি বৃহত্তর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারণা যুদ্ধের অংশ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের হুমকি দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে জেনারেল শেকারচি বলেন, “ট্রাম্পের এই চিৎকার-চেঁচামেচিকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না।”

শেকারচি আরও বলেন, “ট্রাম্প ভালোভাবেই জানে, যদি আমাদের নেতার দিকে আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলবই না বরং আমরা তাদের পুরো দুনিয়াকে আগুনে জ্বালিয়ে দেব এবং এই অঞ্চলে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।”

তিনি যোগ করেন, “শত্রুরা বিষয়টি জানে। তারপরও তারা প্রচালণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জানে, আমাদের ভূখণ্ডের সামান্য অংশেও যদি লঙ্ঘন ঘটে, আমরা হুমকিকে বিস্তারের আগেই নিষ্ক্রিয় করে দেব।”

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধকে এই সক্ষমতার ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন জেনারেল শেকারচি।

তিনি বিশেষভাবে ইরানের বাজার (বাজার ব্যবস্থা) ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সমন্বিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জেনারেল শেকারচি বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধের সময় শত্রুর একটি বড় পরিকল্পনা ছিল সামরিক চাপের পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।”

তিনি জানান, সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় শত্রুপক্ষ আবারও একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এবারও তা ব্যর্থ হয়েছে।

তার ভাষায়, “ব্যবসায়ী ও তাদের সংগঠনগুলো যখনই বুঝতে পেরেছে যে, শত্রুরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাচ্ছে, তারা এক মিনিটও দেরি করেনি। ৯ জানুয়ারির রাতে সব দুষ্ট গোষ্ঠী ও দল সংগঠিতভাবে মাঠে নামে। কিন্তু ব্যবসায়ী ও গিল্ডগুলো আবারও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছে এবং শত্রুকে হতাশ করেছে।”

সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দাঙ্গার চরিত্র সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জেনারেল শেকারচি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো একটি “রক্তাক্ত কৌশল” গ্রহণ করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল পরিচয় নির্বিশেষে যত বেশি সম্ভব হতাহত ঘটানো।

তিনি জানান, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে নিহতদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিল নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু ও তরুণরাও রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সংযমের কথাও তুলে ধরেন। পুলিশ, বাসিজ ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত সতর্ক ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

শেকারচির মতে, অনেক সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই মাঠে নেমেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না হয়। এতে তারা নিজেরাই চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বাহিনী ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে… তারা যুবকদের রক্ষা করতে মানবঢাল হিসেবে কাজ করেছে… আমাদের বাহিনীর সদস্যদের দেহ ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

চলতি মাসের শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক অসন্তোষের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারা বলেছে, এই সংকট সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞার ফল, যা ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল রপ্তানিকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।#

পার্সটুডে