সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
পোস্ট হয়েছে: মে ২৬, ২০২৬
তেহরান – ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্যকে সংকট ও হুমকি মোকাবিলায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী -এর অনুমোদন ছাড়া ইরানে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-এর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, সংবেদনশীল সময়ে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে জনগণ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তম্ভের মধ্যে সংহতি ও সহমর্মিতা।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের প্রধান উদ্বেগ যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমাবর্ষণ নয়; বরং শান্তি, সংহতি ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা। বহু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিভাজন ও মতবিরোধ এড়াতে তিনি অনেক বিষয় প্রকাশ্যে তোলেন না বলেও জানান। তার মতে, জাতীয় ঐক্য সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন যেন ইসলামি বিপ্লবের নেতার দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে কিছু না বলেন কিংবা এমন কোনো অবস্থান না নেন, যা রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে বা শত্রুরা কাজে লাগাতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরানে কোনো সিদ্ধান্তই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাঠামোর বাইরে এবং নেতার সমন্বয় ও অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, “কূটনীতির ক্ষেত্রে যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন সব প্রতিষ্ঠান, প্ল্যাটফর্ম ও রাজনৈতিক ধারাকে সেটির পক্ষে সমর্থন দিতে হবে, যাতে বিশ্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর উপস্থাপিত হয়।”
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আইআরআইবিকে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রচারক হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি উপসংহারে বলেন, যদি সবাই নেতার নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখে, তবে ইরানের শত্রুরা কখনোই তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারবে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত তেহরান
বৈঠকের পাশে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা চায় না।
রবিবার প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের আগেও আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম—এবং এখনও পুনরায় বলছি—আমরা বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না।”
তিনি আরও বলেন, ইরান অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা চায় না; বরং “বৃহত্তর ইসরায়েল”-এর স্বপ্ন দেখা ইসরায়েলি শাসনই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানি আলোচকরা দেশের মর্যাদা ও সম্মানের প্রশ্নে কোনোভাবেই আপস করবেন না।
এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন পাকিস্তান, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের-এর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তেহরান, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরি করতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সূত্র: তেহরান টাইমস