বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ১৪, ২০১৬ 

মহানবী (সা.) বলেন : হে আলী! সত্যিই আল্লাহ্ খুশি হন তাঁর বান্দার ওপর যখন সে বলে : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর। তুমি ছাড়া পাপ মার্জনা করার আর কেউ নেই।’ আল্লাহ্ বলেন : ‘হে আমার ফেরেশতারা! আমার এ বান্দা জেনেছে যে, আমি ছাড়া পাপ মার্জনা করার কেউ নেই। তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাকে মার্জনা করে দিলাম।’

মহানবী (সা.) বলেন : প্রতিটি জিনিসেরই মর্যাদা থাকে। আর সভার মর্যাদা হলো কিবলামুখী হওয়া। যে ব্যক্তি সকলের চেয়ে প্রিয় হতে চায়, তার উচিত আল্লাহ্কে ভয় করা। যে ব্যক্তি চায় সবচেয়ে শক্তিমান হতে, তার উচিত আল্লাহ্র ওপর ভরসা করা। আর যে ব্যক্তি চায় সবচেয়ে ক্ষমতাবান হতে, তার উচিত নিজের কাছে যা আছে তার চেয়ে আল্লাহ্র কাছে যা আছে তার ওপর বেশি নির্ভর করা।…

মহানবী (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে রাগান্বিত করার মাধ্যমে শাসককে সন্তুষ্ট করে সে আল্লাহর দীনের বহির্ভূত।

মহানবী (সা.) বলেন : কল্যাণের চেয়ে কল্যাণকারী হলো উত্তম আর মন্দের চেয়েও মন্দকারী ব্যক্তি নিকৃষ্টতর।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : হে লোকসকল! নিশ্চয় আল্লাহর দেওয়া প্রত্যেক নেয়ামতে তাঁর হক রয়েছে। যে তা আদায় করবে, তিনি তার নেয়ামতকে বৃদ্ধি করে দেবেন। আর যে অবহেলা করবে, সে নিজেকে নেয়ামত হারানো এবং আল্লাহর শাস্তি দ্রুত ডেকে আনার বিপদের মুখে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহর তোমাদের যেন নেয়ামতের ব্যাপারেও ভীত দেখেন, যেমন পাপের ব্যাপারে ভীত দেখেন।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : যে ব্যক্তি অভাবে পড়ল এবং এটাকে আল্লাহরই একটি দয়া বলে মনে করল না, সে একটি আশাকে নষ্ট করল। আর যে ব্যক্তি সম্পদে প্রসার লাভ করল এবং এটাকে তার প্রতি আল্লাহর একটি ফাঁদ বলে মনে করল না, সে একটি বিপজ্জনক জায়গায় নিজেকে নিরাপদ মনে করল।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : যাকে চাও (তার) উপকার কর, যাতে তোমার (ভালোবাসায়) বন্দি হয়ে পড়ে।

ইমাম হাসান (আ.) বলেন : যে ব্যক্তি নিয়মিত মসজিদে যায় সে আট উপকারের যে কোনোটি লাভ করে- সুদৃঢ় নিদর্শন, কল্যাণকারী বন্ধু, নতুন জ্ঞান, প্রতীক্ষিত অনুগ্রহ, যে কথা তাকে সঠিক পথে চালিত করে কিংবা তাকে ধ্বংস থেকে বাঁচায়, জনগণের লজ্জায় পাপ ত্যাগ করা আর আল্লাহর ভয়।

ইমাম হাসান (আ.) বলেন : ঘনিষ্ঠ সেই ব্যক্তি, বন্ধুত্ব যাকে নিকটবর্তী করেছে, যদিও তার বংশীয় সম্পর্ক দূরের হয়। আর অচেনা সেই ব্যক্তি, যে বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকে, যতই তার বংশীয় সম্পর্ক নিকটের হোক না কেন। হাতের চেয়ে কোনো কিছুই দেহের নিকটবর্তী নয়। আর নিশ্চয় এ হাতই কখনও কখনও ভেঙে যায় এবং পচে নষ্ট হয়ে যায় ফলে তা কেটে ফেলতে এবং বিচ্ছিন্ন করতে হয়।

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন : স্বনামধন্য ও সর্বমান্য হওয়ার চিহ্নাবলির নির্দেশকসমূহের মধ্যে একটি হলো বুদ্ধিমানদের সাথে ওঠাবসা। আর মূর্খতার কারণসমূহের একটি চিহ্ন হলো মুসলমানদের সাথে বিবাদ করা। আর বিজ্ঞতার একটি চিহ্ন হলো নিজের বক্তব্যের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা এবং তত্ত্ববিদ্যাসমূহের (চিন্তার বিভিন্ন পদ্ধতির) সারসত্য জানা।

ইমাম আলী ইবনুল হোসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : তোমার প্রতি আল্লাহর এই সাহায্যই যথেষ্ট যে, দেখবে, তোমার শত্রু তোমার ব্যাপারে আল্লাহর অবাধ্যতা করছে।

ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : আল্লাহর নিকট তাঁর মারেফাত অর্জনের পরে পেট ও লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষার চেয়ে প্রিয়তর আর কিছু নেই। আর আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার চেয়ে তাঁর নিকট প্রিয়তর আর কিছুই নেই।

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বাকির (আ.) বলেন : একজন জ্ঞানী যার জ্ঞান কাজে লাগানো হয়, তিনি সত্তর হাজার আবেদ ব্যক্তির চেয়ে শ্রেয়।

ইমাম বাকির (আ.) বলেন :  ঈমান হলো (আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি) ভালোবাসা আর (তাঁর শত্রুদের প্রতি) ঘৃণার নাম।

ইমাম বাকির (আ.) বলেন : লজ্জা আর ঈমান একই সুতায় বাঁধা। একটি চলে গেলে অন্যটিও তার পিছে চলে যায়।