রবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ৯, ২০২১ 

১। বিশ্বনবী (সা.)-এর অবমাননার প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ন্যক্কারজনক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গত ৩ নভেম্বর ২০২০ ইরানি জনগণের পাশাপাশি গোটা মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। এতে তিনি আবারো ফ্রান্সে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন পুনঃপ্রকাশ এবং এর প্রতি দেশটির সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, একজন কার্টুনিস্ট যখন এ ধরনের অবমাননাকর কাজ করে কিংবা একটি পত্রিকা যখন তা প্রকাশ করে তখন বিষয়টি একরকম থাকে আর যখন সেই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই কুকর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় তখন সেটি অনেক বেশি জঘন্য চরিত্র ধারণ করে। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই ন্যক্কারজনক অপকর্মকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তবে আশার কথা মুসলিম বিশ্ব নীরব থাকেনি। প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যের সর্বত্র মুসলমানরা তাদের ঈমানি শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। তারা তাদের প্রাণপ্রিয় নবীর অবমাননার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ফ্রান্স দাবি করে, মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতার কারণে তারা এ কাজ করছে। অথচ এই ফ্রান্স উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। ফ্রান্স ইরানের সন্ত্রাসী মোনাফেকিন গোষ্ঠীকে সব রকম সহযোগিতা করেছে এবং এই গোষ্ঠী আমাদের দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিসহ ১৭ হাজার ইরানিকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, এই ফ্রান্স বন্য জন্তুতুল্য ও রক্তপিপাসু (ইরাকের সাবেক শাসক) সাদ্দামকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে। প্যারিস প্রকাশ্যে এই সহযোগিতা দিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে। সেই নির্লজ্জ ফ্রান্স এখন বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিশ্বনবীর (সা.) অবমাননা বারবার করা হয়েছে। কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা মহানবীর মর্যাদার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারেনি। যেভাবে মক্কা ও তায়েফের কাফেররা একদিন তাদের অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্বনবী কিংবা ইসলামের ক্ষতি করতে পারেনি বর্তমানেও পশ্চিমা বিশ্ব এই মহান নবী (সা.) বা ইসলামের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, এখান থেকে পশ্চিমাদের কথিত সভ্যতার কদার্য দিকটি ফুটে উঠেছে। তাদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি থাকায় তাদের এই পাশবিক ও বর্বর চেহারা ঢেকে রাখলেও মাঝেমধ্যে তাদের প্রকৃত চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ছে। কয়েক শতাব্দী ধরে তারা এই কথিত সভ্যতার দাবি করে আসলেও তাদের অসভ্যতা ও বর্বরতা বিশ্ববাসীর কাছে দিনদিন ¯পষ্ট হয়ে পড়ছে।
ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী তাঁর ঈদে মিলাদুন্নবীর ভাষণে আরো বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেইনী (রহ.) বর্তমানে ইমামের আহ্বান অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। ইমাম যখন এই ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেদিন মুসলিম বিশ্বের বহু নেতা এই আহ্বানের গুরুত্ব উপলব্ধি করেননি। আবার অনেকে উপলব্ধি করেও শুধু বিদ্বেষের কারণে তাতে সাড়া দেননি।
কিন্তু আজ মুসলিম বিশ্বে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে উপলব্ধি করা যায়, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য কতটা জরুরি ছিল। আজ ফিলিস্তিন সংকটকে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ফিলিস্তিন মুসলিম বিশ্বের প্রধান সংকট হলেও সেটি থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এসব অপচেষ্টায় কোনো কাজ হবে না। ফিলিস্তিন একদিন মুক্ত হবেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যে ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনি জাতির ভূমি দখল ও হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে সেই ইসরাইলের সঙ্গে স¤পর্ক স্থাপন করা এবং স¤পর্ক স্থাপন করে তৃপ্তির হাসি হাসা চরম ন্যক্কারজনক ঘটনা। এর চেয়ে অপমান আর হতে পারে না।
তিনি বলেন, ইমামের আহবানের গুরুত্ব মুসলমানরা উপলব্ধি না করলেও ইসলামের শত্রুরা বুঝতে পেরেছে। এ কারণে তারা ইসলামের বিভিন্ন মাজহাবের মধ্যে যাতে ঐক্য প্রতিষ্ঠা না হয় সেজন্য থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে বিভেদ সৃষ্টির সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কীভাবে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য আরো বেশি উসকে দেয়া যায় তারা সারাক্ষণ সে চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব এই বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার অংশ হিসেবে দায়েশ (আইএস) সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু এই দায়েশকে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব আরব দেশ অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সমর্থন দিয়েছে তাদের অপরাধ অনেক বেশি। যেসব সন্ত্রাসী মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে তাদের চেয়ে যারা তাদেরকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তাদের অপরাধ বহুগুণ বেশি।
কাশ্মির থেকে লিবিয়া পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের যত সংকট আছে তার সব সংকটের সমাধান মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্ভব বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।
ভাষণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। মার্কিন গণতন্ত্রকে যারা মডেল হিসেবে তুলে ধরে তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন তিনি বলছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি কারচুপির ফাঁদ আর কখনো তৈরি করা হয়নি। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হবে বলে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
আর নির্বাচনের অপর প্রার্থী বলছেন, ট্রা¤প বড় ধরনের কারচুপির চেষ্টা করছেন। এই হচ্ছে, মার্কিন গণতন্ত্রের উদাহরণ। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, যে ব্যক্তিই নির্বাচিত হোক না কেন তাতে আমেরিকা পতন ঠেকানো সম্ভব হবে না। আজ না হোক কাল আমেরিকার পতন হবেই।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাঁর দেশের সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতা থেমে নেই। আমেরিকার কোনো সরকার আমাদেরকে সহযোগিতা করবে না। আমাদেরকে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী হতে হবে।
আমেরিকাকে হতাশ করে দিতে হবে। ইরানের জনগণ নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। এজন্য তিনি ইরানি জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ
ভাষণের শেষাংশে তিনি নাগরনো-কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর অবসান দরকার। আজারবাইজানের যেসব ভূখ- আর্মেনিয়া দখল করে নিয়েছে তা ছেড়ে দিতে হবে। এটি আজারবাইজানের অধিকার।
সেইসঙ্গে এই ভূখ-ে যেসব আর্মেনীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করেন তাদের অধিকারও সমুন্নত রাখতে হবে। এ ছাড়া, এই যুদ্ধের সুযোগে কেউ যদি ইরান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের জড়ো করার চেষ্টা করে তাহলে সেসব সন্ত্রাসীকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
সর্বোচ্চ নেতার ভাষণ রেডিও ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

২। রাসূল (সা.)-এর অবমাননা মানবীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমাননার শামিল : ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর যেকোনো ধরনের অবমাননা করা প্রকারান্তরে মানবীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও স্বাধীনতাকে অপমান করার শামিল। তিনি বিশ্বনবী (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের কাছে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ মন্তব্য করেন।
গত অক্টোবর মাসে ফরাসি পত্রিকা ‘শালি এবদো’ মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী (সা.)-এর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন পুনঃপ্রকাশ করার পর বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রেসিডেন্ট রুহানি এ মন্তব্য করেন। এসব অবমাননাকর কার্টুন ২০০৫ সালে একটি ড্যানিশ পত্রিকা প্রথম প্রকাশ করে এবং ২০০৬ সালে এই ‘শার্লি এবদো’ পত্রিকাই এগুলো একবার পুনঃপ্রকাশ করেছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব কর্মকর্তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া, ইরানের সাধারণ জনগণ গত বেশ কয়েকদিন ধরে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর বার্তায় আরো বলেন, মহনবী (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম পুরুষ এবং গোটা বিশ্বের জন্য রহমত। এমন একজন আদর্শ পুরুষের অবমাননা সব ধরনের নীতি-নৈতিকতার অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঘৃণিত পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একই কাজ করার জন্য সব মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’
আহলে সুন্নাতের বর্ণনা অনুযায়ী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল ধূলির ধরায় আগমন করেন। তবে শিয়া মাজহাবের বর্ণনায় বলা হয়েছে, মানবতার মুক্তির দূত ১৭ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিবস নিয়ে এই মতপার্থক্য যাতে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ তৈরি করতে না পারে সেজন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেইনী (রহ.) প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল পর্যন্ত সময়কে ঐক্য সপ্তাহ পালন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত চার দশক ধরে ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঐক্য সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে।

৩। বিশ্বনবীকে অবমাননার নিন্দা ও ফ্রান্সের যুবকদেরকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কিছু প্রশ্ন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফরাসি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনারা আপনাদের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করুন কেন তিনি একজন আল্লাহর রাসূলকে অবমাননা করার পক্ষে অবস্থান নিলেন? এবং কেন এটাকে তিনি বাকস্বাধীনতা বলছেন?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ফরাসি যুবকদের উদ্দেশ্যে দেয়া বাণীতে প্রশ্ন করেছেন, পবিত্র ও ঐশী ব্যক্তিত্বদেরকে অপমান অপদস্থ করাই কি বাকস্বাধীনতা? তিনি আরো বলে, ফ্রান্সের যেসব মানুষ ম্যাক্রনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন ম্যাক্রন সেই সব মানুষকে তাঁর এই বোকামিপূর্ণ কর্মকা-ের মাধ্যমে মূলত তাদেরকে কি অপমান করেননি? ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো প্রশ্ন করেন, তথাকথিত ইহুদি নিধনযজ্ঞের কল্পকাহিনী বা হলোকাস্টের বিরুদ্ধে কথা বলাকে কেন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়? যদি কেউ হলোকাস্টের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে কিংবা সন্দেহ করে অথবা অস্বীকার করে তাহলে কেন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়? অথচ বিশ্বনবীকে অবমাননার ঘটনাকে বাকস্বাধীনতা বলে দাবি করা হচ্ছে!
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন সম্প্রতি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে অবমাননা করে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের বিষয়টিকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও ওই দেশটির সরকার এটাকে বাকস্বাধীনতা বলে দাবি করছে। এমনকি পাশ্চাত্যের আরো অনেক দেশও এটাকে বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করছে। ফ্রান্সসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলাম ভীতি ছড়ানোর মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে, অথচ এ ধর্ম রহমত, শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা বয়ে এনেছে।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হচ্ছেন মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং এমনকি এ ধর্ম অন্যান্য ঐশী ধর্মের প্রতিও সম্মান দেখাতে বলে। সব ধর্মেই উগ্রপন্থাকে ঘৃণা ও নিন্দা জানানো হয়। তাই কারোরই উচিত নয় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উগ্রন্থীদেরকে হাতিয়ার বা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা। কিন্তু ফরাসি কর্মকর্তারা এ অপকর্মটিই করছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন বাকস্বাধীনতার দোয়াই দিয়ে বিশ্বনবীকে অবমাননা করার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তার কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না এবং তাঁর এ আচরণ সব ধর্মের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা, সহাবস্থান ও শান্তির জন্য সহায়ক নয়।
ইরাকের খ্রিস্টান পাদ্রি কার্ডিনাল মার লুইস রাফায়েল সাকু এক বিবৃতিতে বলেছেন, সব ধর্মের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঘৃণা ও সহিংসতার পরিবর্তে পার¯পরিক ভালোবাসা, শান্তি, সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুসলমানদের ব্যাপারে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আচরণ কোনো ধর্মেরই নীতি আদর্শের মধ্যে পড়ে না এবং তিনি সারা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রেসিডেন্টের পদে বসে বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে ম্যাক্রণের দ্বিমুখী নীতি সেদেশের জনগণের প্রতি অবমাননা যারা কিনা তাঁকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। কারণ, বাকস্বাধীনতার অর্থ অন্য ধর্মের প্রতি অবমাননা করা নয়।
বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট খুব সহজে বিশ্বনবীকে অবমাননার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। অথচ ওই দেশটিতেই হলোকাস্টের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যায় না এবং এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

৪। সারা দেশে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
যথাযথ মর্যাদায় গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের কাছে ১২ রবিউল আউয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণময় দিন।
বাংলাদেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন এবং দেশের মুসলিমরা এ দিন বিশেষ ইবাদত করেন। দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদরাসা।
এক তথ্য বিবরণীতে পিআইডি জানায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে জাতীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন শুরু করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী পালন উপলক্ষে ২৯ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

৫। ‘শত্রুরা কখনোই ইসলামের নূরকে নিভিয়ে দিতে পারবে না’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ রেজা নাফার বলেছেন, শুত্রুরা যত চেষ্টাই করুক না কেন তারা কখনোই ইসলামের নূরকে নিভিয়ে দিতে পারবে না। বরং দিন দিন তা আরও প্রজ¦লিত হবে। গত ২ নভেম্বর ২০২০ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই ওয়েবিনারে রাষ্ট্রদূত বলেন, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, এমাসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির রহমতস্বরূপ পৃথিবীতে আগমন করেন। তাঁর সৃষ্টি গোটা সৃষ্টিজগৎ ও মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ঘটনা।
হাদিসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে নবী! আপনাকে যদি সৃষ্টি না করতাম তাহলে পৃথিবীর কোনো কিছুই সৃষ্টি হতো না।’ তাই আমাদের কাছে এই প্রিয় নবীর জন্মদিনের চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে?
পৃথিবীতে তাঁর শুভাগমন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদ। যদিও ইসলামের বিভিন্ন মাজহাবের মধ্যে তাঁর জন্মদিন নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো মাজহাবের মতে ১২ই রবিউল আউয়াল রাসূলের জন্মদিন আবার কোনো কোনো মাজহাবের মতে ১৭ই রবিউল আউয়াল হলো রাসূলের জন্মদিন। সুতরাং এ ধরনের বিষয় মুসলমানদের মধ্যে যাতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেইনী (রহ.) ১২ই রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ই রবিউল আউয়ালকে ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যাতে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
মোহাম্মাদ রেজা নাফার বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য যখন অত্যন্ত জরুরি তখন তাদের একটি অংশ ইহুদি-নাসারাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ফিলিস্তিনের মুসলমানরা যখন ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃক চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানের মতো মুসলিম দেশ এই অবৈধ রাষ্ট্রের সাথে সরাসরি স¤পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিনের মুসলিম ভাইদের যন্ত্রণাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দুটি ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত। একটি প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস এবং আরেকটি ইসলাম আতঙ্ক। পশ্চিমারা গত দুই দশক ধরে ইসলামের সাথে দ্বন্দ্বের পথ বেছে নিয়েছে। ফ্রান্সে রাসূল (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করাই তার প্রমাণ।
কেন ফ্রান্স আজ ইসলামের দুশমনের পতাকাবাহী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে? কারণ, তারা ইসলামকে ভয় পায়। ফ্রান্সের একজন খ্রিস্টান ধর্মজাজক সম্প্রতি বলেছেন, ফ্রান্স আগামী দিনে মুসলিম দেশে পরিণত হবে। আমাদের সকল শিশু ভবিষ্যতে মুসলমান হয়ে যাবে। ইসলাম সকল জায়গায় বিস্তৃত হবে। দুনিয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুর নাম মুহাম্মাদ। যদি আমরা এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ না নেই তাহলে ইসলাম ইউরোপেও বিজয়ী হবে।
আইরিশ নাট্যকার ও রাজনীতিবিদ জর্জ বার্নার্ড শ যিনি ৭০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁর দুটি বইয়ে লিখেছেন, আমি ভাবিষ্যদ্ববাণী করছি যে, আগামী দিনে ইউরোপ মুহাম্মাদ (সা.)- এর ধর্মের দিকে ফিরে যাবে। মুহাম্মাদ (সা.) ব্যতীত আর
কেউই বিশ্বের সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি রাসূল (সা.)-এর অবমাননার পিছনে মূল কারণ কী। তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতার বিষয়টি আজ আর কোনো মুসলমানের কাছেই গোপন নয়। ইসলামের শত্রুরা আজ প্রকাশ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে। কারণ, ইসলামি বিশ্বের শক্তি আগের চেয়ে আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মুসলমানরা আজ দু-ধারবিশিষ্ট তলোয়ারের মুখে পড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ছে। তাই মুসলমানদের এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই।
ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এ. কে. এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ হাসান সেহাত।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ডা. খিজির হায়াত খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক চেয়ারমান ড. মোঃ আতাউল্ল্যাহ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবু আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে নাতে রাসুল পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের ছাত্র হাসান কিবরিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।

৬। পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার পর যে বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে বলেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা-সন্দেহের অবকাশ নেই। পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহর শাহাদাত উপলক্ষে এক বার্তায় তিনি গত ২৮ নভেম্বর ২০২০ এ কথা বলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এই হত্যাকা- যারা ঘটিয়েছে এবং যারা এর পেছনে রয়েছে তাদের সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিজ্ঞান, গবেষণা ও কারিগরি ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞানীর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও অবদানের কারণে এই মহান বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে কবুল করেছেন। তিনি শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছেন। এটা তাঁর জন্য ঐশী পুরস্কার। উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রিসার্চ ও ইনোভেশন সংস্থার প্রধান মোহসেন ফাখরিজাদেহ সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হন।

৭। মরণোত্তর সামরিক পদক পেলেন শহীদ পরমাণুবিজ্ঞানী ফাখরিজাদে
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেকে মরণোত্তর সামরিক পদকে ভূষিত করেছেন।
গতমাসের শেষদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে এক সন্ত্রাসী হামলায় ফাখরিজাদে নিহত হন। এই পাশবিক হত্যাকা-ের জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলকে দায়ী করেছে তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি গত ১৩ ডিসেম্বর ফাখরিজাদের বাসভবনে গিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে সর্বোচ্চ নেতার স্বাক্ষরিত ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অব নাস্র [বিজয়]’ পদক হস্তান্তর করেন।
এ সময় জেনারেল বাকেরি বলেন, ইসলামি বিপ্লব এবং ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান করা হলো। পদক প্রদানের সময় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সামরিক কমান্ডার জেনারেল বাকেরিকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা এবং লজিস্টিক অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এটি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ পদক। ফাখরিজাদে শহীদ হওয়ার পর ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি তাঁকে উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
জেনারেল বাকেরি আরো বলেন, উপযুক্ত সময় ও স্থানে এই শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হবে।

৮। আইআরজিসিতে যুক্ত হলো নতুন যুদ্ধজাহাজ
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র নৌ ইউনিটে গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ যুক্ত হয়েছে নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘শহীদ রুদাকি’। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল আকৃতির এই জাহাজকে হঠাৎ দেখলে মনে হয় সাগরে ভাসমান এক ছোট্ট শহর। জাহাজটির ভিডিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে বিশাল এই যুদ্ধজাহাজ সংযোজনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বিশাল এই যুদ্ধজাহাজ বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহন করতে সক্ষম। এতে রয়েছে থ্রিডি রাডার, জাহাজ থেকে জাহাজে এবং আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া রয়েছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এই যুদ্ধজাহাজ দূরবর্তী মহাসাগরে গিয়েও অভিযান চালাতে সক্ষম। বিশাল আকারের হওয়ার কারণে ইরানের এই জাহাজকে সাগরে ভাসমান শহর হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধজাহাজ সাগরে ইরানসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার কাজও করবে। ইরানের রয়েছে বিশাল পানিসীমা। এ কারণে দেশটি ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই সামরিক বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার কাজে মনোনিবেশ করেছে।

৯। মালবাহী ওয়াগন নির্মাণে স¤পূর্ণ স্বনির্ভর ইরান
মালবাহী ওয়াগন উৎপাদনে স¤পূর্ণ স্বনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে ইরানের রেলওয়ে শিল্প। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রেলওয়ে (যা আরএআই নামে পরিচিত) প্রধান সাইদ রাসুলি এই তথ্য জানান।
গত ৮ ডিসেম্বর ২০২০ দেশীয়ভাবে তৈরি ওয়াগন ব্রেক সিস্টেম এবং রেল চাকার উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আরএআই মালবাহী ওয়াগনের জন্য ৫০০টি মনোব্লক চাকা ও ৫০০টি ব্রেক সিস্টেম ক্রয়ের জন্য দেশীয় উৎপাদনকারীদের সাথে একটি চুক্তি সই করতে যাচ্ছে।
ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, এবছর প্রথমবারের মতো দেশীয়ভাবে তৈরি চাকা জাতীয় রেলে যুক্ত হচ্ছে।

১০। আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই কেবল ইরান থেকে অস্ত্র ক্রয় করা যাবে : আলী রাবিয়ি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, যেসব দেশ ইরান থেকে অস্ত্র কিনতে চায় তারা শুধু আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা কিনতে পারবে। কোনো দেশ যুদ্ধকামী নীতি থেকে ইরানি অস্ত্র কিনতে পারবে না।
ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিয়ি গত ২৩ অক্টোবর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরবি-কে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ ইরান থেকে অস্ত্র কিনতে চায় তাদেরকে ইরানের শর্ত মেনেই তা করতে হবে, কোনো দেশ তাদের নিজেদের শর্ত ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। অস্ত্র ক্রেতাদের দেশগুলোকে অবশ্যই অস্ত্র কেনার যৌক্তিক এবং নৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে হবে, তারা কেউ যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে ইরানের অস্ত্র কিনতে পারবে না।
আলী রাবিয়ি সু¯পষ্টভাবে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি এবং কাঠামোর ভেতরে থেকেই ইরান অস্ত্র বিক্রি করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকৃতপক্ষে অস্ত্রের ভক্ত নই, আমরা শান্তি চাই এবং মধ্যপ্রাচ্যকে অস্ত্র-গুদামে পরিণত করতে চাই না।’
ইরান সরকারের মুখপাত্র আরো বলেন, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্ত্রের গুদামে পরিণত করেছে এবং এর মাধ্যমে মূলত মার্কিন অস্ত্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। তাঁদের কাছে সবসময় মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থগত লাভটাই বেশি পছন্দের।

১১। ইরানে বিশালায়তনের ভূগর্ভস্থ শহরের সন্ধান
মধ্য ইরানের তাফতেশে বিশালায়তনের একটি ভূগর্ভস্থ শহরের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতœতাত্ত্বিকরা বলছেন, সম্প্রতি তাঁরা যে একটি প্রবেশপথ আবিষ্কার করেছেন সেটি বিশাল একটি ভূগর্ভস্থ শহরের প্রবেশদ্বার হতে পারে। গত ৮ ডিসেম্বর তাফরেশের গভর্নর আব্দোলরেজা হাজালিবেইগি এই তথ্য জানান।
ওই কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি এক সপ্তাহে খনন কাজ পরিচালনা করা হয়। এসময় তাফরেশের ভূগর্ভস্থ ওই শহরটির প্রধান এলাকায় প্রবেশের প্রথম চিহ্ন প্রকাশিত হয়। হাতে খোদাই করা ভূগর্ভস্থ শহরটি তাফরেশ আধুনিক শহরের নি¤œদেশে অবস্থিত। যার আয়তন তিন হেক্টর। ইরান এমনকি পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ এলাকা এটি।
গভর্নর আরও জানান, ভূগর্ভস্থ শহরটিতে প্রথম প্রতœতাত্বিক অনুসন্ধান চালানো হয় গত গ্রীষ্মকালে এবং বর্তমানে স্থানটিতে দ্বিতীয় পর্বের অনুসন্ধান চলছে।

১২। ইরানে প্রথম পর্যটন ফার্মের উদ্বোধন
ইরানে পাঁচ হেক্টর জায়গার ওপর দেশটির প্রথম পর্যটন ফার্ম চালু করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশে ঘনবন সংলগ্ন একটি প্রাকৃতিক উর্বর জমিতে ফার্মটি তৈরি করা হয়েছে।
গত ৯ নভেম্বর ২০২০ প্রাদেশিক পর্যটন বিভাগের উপপ্রধান বলেন, গোলেস্তান প্রদেশে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষি পর্যটন অন্যতম অবহেলিত দিক। অথচ এই পর্যটনের ৯২টি কৃষি পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং গোলেস্তান কাসপিয়ান সাগরের নিকটে একটি অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমিসমৃদ্ধ এলাকা।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত মাসে (২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ অক্টোবর) তাসকেস্তানে পর্যটন ফার্মটি উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রদেশ জুড়ে কৃষি পর্যটনে বিনিয়োগের নতুন অধ্যায় উন্মুক্ত করবে এই ফার্মটি।

১৩। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইরানের রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইরানের তেল-বহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
২০২০ সালের প্রথম নয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ইরানের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩৪৫ বিলিয়ন ইউরো। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বাণিজ্যর পরিমাণ ১১ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইরানের তেল-বহির্ভূত পণ্য সামগ্রীর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ।

১৪। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় ১২ ইরানি অধ্যাপক
বিশ্বে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গবেষকদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ইরানের ১২ জন অধ্যাপক। ক্লারিভেট (ডাব্লিউওএস) প্রকাশিত ‘হাইলি সাইটেড রিসার্চার্স ২০২০’-এর সদ্য-উন্মোচিত তালিকায় এই চিত্র উঠে এসেছে।
মুসলিম বিশ্বের বিজ্ঞান সাইটেশন ডাটাবেজ আইএসসি এর প্রধান মোহাম্মাদ জাভাদ দেহকানি জানান, ক্লারিভেট অ্যানালিটিকসে (আইএসআই) প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী যেসব গবেষকের নিবন্ধ সর্বাধিক উদ্ধৃত হয়েছে তাদেরকে পরিচয় করানো হয়।
২০২০ সালের শীর্ষ গবেষক হিসেবে প্রায় ৬ হাজার ৩৮৯ জন গবেষককে বাছাই করা হয়। ২০২০ সালে বিশ্বের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গবেষকদের এই তালিকায় ইরানের ১২ গবেষক স্থান পেয়েছেন বলে জানান দেহকানি।

১৫। বিজ্ঞান গবেষণায় ৫ম স্থানে ইরান
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে ৫ম স্থানে রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। এছাড়া, বৈজ্ঞানিক উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশটি বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মানসুর গোলামি এ তথ্য জানান।
নির্বাচিত কয়েকজন বিজ্ঞান গবেষক ও প্রযুক্তিবিদকে দেয়া সম্মাননা অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থানেরও প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
মানসুর গোলামি বলেন, বিশ্বে যেসব দেশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইরান তাদের মধ্যে রয়েছে। তবে এই অবস্থান ধরে রাখতে হলে বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বাত্মক সমর্থন দিতে হবে।
ইরানের এ মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে দেশে যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্ক গড়ে উঠেছে তা এখন গর্ব ও আশার উৎস। এই পার্ক দেশের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন আমরা গর্বের সঙ্গে দাবি করতে পারি যে, জ্ঞানের ধারা তৈরি, সেগুলোকে প্রযুক্তি খাতে ব্যবহার ও স¤পদ অর্জনের জন্য বিজ্ঞানকে কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছি আমরা।’

১৬। কমসটেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইরানি অধ্যাপক জাফরি
গণিতে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কমসটেক অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ লাভ করলেন ইরানি অধ্যাপক। ইরানের আমিরকবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অনুষদ সদস্য সাজ্জাদ জাফরি এই পুরস্কার লাভ করেন।
কমসটেক ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিষয়ক কার্যনির্বাহী স্থায়ী কমিটি। ইরানি অধ্যাপক পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার মার্কিন ডলার লাভ করেন।
জাফরি ১৯৮৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আমিরকবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০০৫ সালে বিএসসি, ২০০৮ সালে এমএসসি ও ২০১৩ সালে পিএইচডি করেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি এখানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

১৭। অ্যাস্ট্রোনমি অলি¤িপয়াডে ইরানি শিক্ষার্থীদের ৮ মেডেল
ইন্টারন্যাশনাল অলি¤িপয়াড অন অ্যাস্ট্রোনমি এবং অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইওএএ) এ আটটি রঙিন মেডেল জিতেছে ইরানি শিক্ষার্থীরা। ন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অব এক্সসেপশনাল ট্যালেন্টস গত ৪ নভেম্বর এই তথ্য জানায়।
আইওএএ এর এবারের পর্বের আয়োজন করে স্লোভাকিয়া। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এবছর ভারচুয়ালি এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানি শিক্ষার্থীরা দুটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জপদক লাভ করে। এছাড়া দুটি সম্মানজনক ডিপ্লোমা লাভ করে দেশটির শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিশ্বে পঞ্চম অবস্থান দখল করে তারা।
স্বর্ণজয়ী ইরানি দুই শিক্ষার্থী হলো কাসরা হাজিয়ান ও পারশান জাভানরুদ। রুপা জিতেছে আলি রাজ কান্দি ও মতিন মোহাম্মাদি সারাই। আর ব্রোঞ্জপদক লাভ করে আমির হোসাইন হাজী মোহাম্মদ রেজায়ে, ফাতেমেহ আলী মুরাদী, হোসেইন মোহাম্মদী, এবং মোহাম্মদ মেহেদী ওয়াহেদী।

১৮। ইরানের তৈরি হলো সেরা ইসলামি ক¤িপউটার গেম
‘অ্যাম্বাসেডর অব লাভ’ তথা ভালোবাসার দূত নামে একটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেম তৈরি করল ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশন সেন্টার ফর ডিজিটাল প্রোডাক্ট অ্যান্ড পাবলিকেশন মাটনা। গেমটির প্রযোজকরা এটিকে সবচেয়ে বড় ইরানি-ইসলামি ক¤িপউটার গেম প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর মাটনা প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেহদি জাফরি জোজানি বলেন, গেমারদের চাহিদা পূরণ করতে দেশের তরুণ দক্ষ গেম নির্মাতারা বৃহত্তম এই ইরানি-ইসলামি ক¤িপউটার গেম প্রকল্পটির কাজ স¤পন্ন করেছে।
থার্ড পারসন অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেম ‘অ্যাম্বাসেডর অব লাভ’ শুরু হয়েছে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দূত মুসলিম ইবনে আকিল আল হাশিমির (আ.) কুফায় আগমন দিয়ে। আশুরা বিদ্রোহের কয়েক দিন আগে তিনি কুফায় আগমন করেন। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের এই ঘটনায় ইমাম ও তাঁর সঙ্গী-সাথিরা শাহাদাত বরণ করেন।

১৯। অস্কারে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবে মাজিদির ‘দ্যা সান’
২০২১ অস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা আন্তর্জাতিক বিদেশি ভাষার ছবি হিসেবে ইরানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মজিদ মাজিদির ‘দ্যা সান’। অস্কারের জন্য ইরানের সিনেমা বাছাই কমিটির মুখপাত্র রাইদ ফরিদজাদেহ এই ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি জানান, এবছর অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২টি ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। এসব চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে বাছাই কমিটি ‘দ্যা সান’কে এ বছর ইরান থেকে অস্কারে পাঠানোর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেন।
‘দ্যা সান’ ছবিটিতে ১২ বছর বয়সী বারক আলি ও তার তিন বন্ধুর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ও পরিবারের সহায়তায় তারা একত্রে কঠোর পরিশ্রম করে। তারা একটি গ্যারেজে ছোটখাটো কাজ নেয়। দ্রুত টাকা আয় করতে গিয়ে তারা ছোট অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ৭৭তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মজিদ মাজিদির ছবিটি অ্যাওয়ার্ড জিতে।

২০। তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কার জিতলো ইরানি ছবি ‘উইকেন্ড’
তিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতলো ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘উইকেন্ড’। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্রকার আরিয়ো মোতেভাকেহ।
‘উইকেন্ড’ আমেরিকার ৫১তম নাশভিল্লে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, ১৭তম সেডিকিকোরতোত উৎসবের ইরানি চলচ্চিত্র বিভাগ ও ট্রিয়ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিভাগে দেখানো হয়।
স্বল্পদৈর্ঘ্যটি নাশভিল্লে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গ্রেভইয়ার্ড শিফট অ্যাওয়ার্ড এবং সেডিকিকোরটোট ও ট্রিয়নে আর্টিস্টিক ইভেন্টে সেরা ফিকশন স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
এছাড়া আর্মেনিয়ায় ওয়ান শট এর আন্তর্জাতিক উৎসবে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে চলচ্চিত্রটি।

২১। তেহরান অ্যানিমেশন উৎসবে ৮৫ দেশের সহস্রাধিক ছবি
দ্বাদশ তেহরান আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে দেখানো হবে ৮৫টি দেশের সহ¯্রাধিক ছবি। বেশিরভাগ অ্যানিমেশন জমা পড়েছে জাপান, চীন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, ইতালি ও ব্রাজিল থেকে। আর বাকি দেশগুলো থেকে কয়েক ডজন ছবি দেখানো হবে।
উৎসবের জাতীয় বিভাগে প্রায় ৪৬০টি ইরানি অ্যানিমেশন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। উৎসবের এবারের দ্বাদশ আসর আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত।
তেহরান আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন উৎসবের আয়োজক শিশু ও তরুণদের মেধা বিকাশ বিষয়ক ইন্সটিটিউট আইআইডিসিওয়াইএ।

২২। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসছে ৩৫টি ইরানি ছবি
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০ এ দেখানো হবে ৩৫টি ইরানি ছবি। আসছে বছরের জানুয়ারিতে উৎসবের ১৯তম আসর বসবে। ঢাকা উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে ছবিগুলো দেখানো হবে।
এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগে ইরানি চলচ্চিত্রকার আব্বাস আমিনির ‘দ্যা স্লটার হাউজ’, শাহরাম মোকরির ‘কেয়ারলেস ক্রাইম’ ও সাফি ইয়াজদানিয়ানের ‘সাডেনলি এ ট্রি’ দেখানো হবে।
সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড এ দেখানো হবে মাহমুদ রেজা সানির ‘কিয়ারোস্তামি অ্যান্ড হিজ মিসিং কেইন’, কেইভান আলি মোহাম্মাদির সিনেমা ‘শাহর-ই কেসসেহ’, কারিম মোহাম্মাদ আমিনির ‘দ্যা ব্ল্যাক ক্যাট’, বোরজু নিকনেজাদের ‘অ্যাম্ফিবিয়াস’ ও কাজেম মোল্লায়ির ‘দ্যা বাদগার’। এছাড়াও এই বিভাগে ইরান ও জাপানের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হোটেল নিউ মুন’ দেখানো হবে।
উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগে দেখানো হবে ফেরেসতেহ তাভাক্কোলির ‘সিকিং লস্ট’, শাকিবা খালেকির ‘টিরিশকো’, মাসুমেহ নূরমোহাম্মাদি কোমির ‘ফুকুশিমা ট্রাভেলর’, আজাদেহ মুসাভির ‘দ্যা ভিজিট’, নিলুফার জামানের ‘দ্যা ডার্ক ডেজ’, মানিজেহ হেকমাতের ‘বন্দর ব্যান্ড’ ও হান্না জালালির ‘ইন্টারভিউ’।
স্পিরিচুয়াল বিভাগে দেখানো হবো আব্বাস আমিনির ‘আই অ্যাম হেয়ার’, হামেদ তেহরানির ‘ডায়াপ্যাসন’, সাইয়িদ নেজাতির ‘ডাবুর’, আবোদ কাজেমির ‘আরসু’ ও মেহরদাদ ওসকুয়ির ‘সানলেস শ্যাডোস’।
চিলড্রেন ফিল্মস বিভাগে দেখানো হবে কেইভান মাজিদির ‘দ্যা ব্লু গার্ল’, হামিদ রেজা কোতবির ‘দ্যাট নাইটস ট্রেইন’, মোজগান বায়াতের ‘বর্ন অব দ্যা আর্থ’, তেইমুর কাদেরির গান্দো’ ও বাবাক নাবিজাদেহর ‘দ্যা ওসান বিহাইন্ড দ্যা উইন্ডো’। এছাড়া শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম বিভাগে দেখানো হবে আলি আসগারির ‘উইটনেস’, হুমান ফাখতেহর ‘টেল অব ইবি’, মেহরান হেম্মাতজাদেহর ‘দ্যা ড্রিমার’ ও মাহশাদ ভালির ‘আই’।

২৩। মিউনিখে ইরানি আলোকচিত্রীর প্রথম পুরস্কার জয়
কোভিড-১৯ মহামারিকালীন সাংস্কৃতিক শাটডাউনের ওপর আয়োজিত ফটো প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে ইরানি আলোকচিত্রী আলি হাদ্দাদি ও জোহরেহ সালিমি। তাঁদের সংগৃহীত ১২টি ফটো প্রতিযোগিতায় শীর্ষ স্থান দখল করে।
এই আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জার্মানির বাভারিয়ার মিউনিখের সাবেক ফ্যাক্টরি প্যাসিঞ্জার ফ্যাবরিক।
স্থানটি এখন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইভেন্ট ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য জমা পড়া ছবিগুলো থেকে বাছাইকৃত সব ফটো ২৩ অক্টোবর থেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিতে প্রদর্শন শুরু হয়। প্রদর্শনী চলে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত।
ফটো প্রদর্শনীর কিউরেটর হচ্ছেন থোমাস লিনসমায়ার ও স্টেফ্যান-মারিয়া মিটেনডোরফ।