সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বই পরিচিতি

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০১৮ 

মাফাতিহুল্ হায়াত্
(ইহ ও পরকালীন জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি)
হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী অমোলী
অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী
প্রকাশক : সাঈদ বারী
সূচীপত্র, ৩৮/২ ক বাংলাবাজার, ঢাকা
প্রচ্ছদ : আরিফুর রহমান
প্রকাশকাল : আগস্ট ২০১৮
মূল্য : ১০০০ টাকা

বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি ইরানের স্বনামখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় মুজতাহিদ আলেম হযরত আয়াতুল্লাহ্ আব্দুল্লাহ্ জাওয়াদী অমোলী কর্তৃক ফারসি ভাষায় প্রণীত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাফাতিহুল্ হায়াত্’ এর অনুবাদ।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ জাওয়াদী অমোলী ইরানের সমকালীন মফাস্সিরীনে কোরআন, দার্শনিক ও ইসলামি চিন্তাবিদগণের অন্যতম- যিনি কোরআন মজীদের বিষয়ভিত্তিক তাফসীরসহ বহু জ্ঞানগর্ভ ইসলামি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তবে তাঁর একটি বিশেষ পরিচয় হচ্ছে এই যে, তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় ‘আরেফ্ বা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বও; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের টেলিভিশন থেকে সরাসরি প্রচারিত তাঁর র্দাসে কোরআন যে মিলিয়ন মিলিয়ন সংখ্যক দর্শকের হৃদয়কে আপ্লুত করেছে তাঁরা তাঁর আধ্যাত্মিকতার প্রভা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করেছেন। তাঁর এই বহুমুখী দ্বীনী বৈশিষ্ট্যের কারণেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহান নায়ক ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৎকালীন রাহ্বার হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.) যখন অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন ফার্স্ট সেক্রেটারি মিখাইল গর্বাচেভকে ইসলামের দাও‘আত্ দিয়ে তাঁর নিকট পত্র প্রেরণ করেন তখন সে পত্র বহনকারী তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে হযরত আয়াতুল্লাহ্ জাওয়াদী অমোলীকে মনোনীত করেছিলেন।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ জাওয়াদী অমোলী প্রণীত বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ মাফাতীহুল্ হায়াত্ এমন একটি গ্রন্থ যাতে মানব জীবনের ইহকালীন ও পরকালীন সর্বাত্মক কল্যাণের লক্ষ্যে পবিত্র কোরআনের নির্দেশিকা ও মহানবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের উক্তির আলোকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে জ্ঞানার্জন থেকে শুরু করে নাফ্সের হেফাযত, স্বাস্থ্যরক্ষা, পোশাক-পরিচ্ছদ, শিল্পকর্ম, বিনোদন, সামাজিক সম্পর্ক ও দায়িত্ব-কর্তব্য, জৈব পরিবেশ, আবহাওয়া, ইসলামি হুকূমাত, রাস্তাঘাট, শহর ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিপুল সংখ্যক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি এতে বস্তুবিজ্ঞানের বহু বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হযরত রাসূলে আকরাম (ছ¡াঃ) ও তাঁর আহ্লে বাইত্ (‘আঃ) এখন থেকে চৌদ্দ শতাব্দীকাল পূর্ব হতে শুরু করে এগারো শতাব্দী কালেরও বেশী পূর্ব পর্যন্ত সময়ে এ সব বিষয়ে যা কিছু বলে গিয়েছেন আজ সুদীর্ঘ কাল পরেও তার প্রাসঙ্গিকতা সামান্য পরিমাণেও হ্রাস পায় নি – যার কারণ এই যে, এ সব দিকনির্দেশনা ঐশী ওয়াহী ও ইল্হাম থেকে উৎসারিত। অন্যদিকে পাঠক-পাঠিকাগণ এই ভেবে বিস্মিত হতে বাধ্য যে, কতোখনি পা-িত্যের ও অধ্যবসায়ের অধিকারী হলে একজন মনীষীর পক্ষে এতো সব বিচিত্র জ্ঞানের একত্র সমাহার ঘটানো সম্ভবপর হতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, স্থান-কাল-পাত্রভেদে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যায়ের সার্বিক বিষয়াদি সম্বলিত গ্রন্থটিকে নিত্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তথা একটি সার্বিক কর্মপঞ্জিকা হিসেবে গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরা ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি ও সাফল্য পেতে পারি। প্রতিটি পরিবারের এ গ্রন্থটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, নিত্য পাঠ ও আমলের মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে সে সাফল্য নিশ্চিত হবে।
গ্রন্থটি শাহবাগের পাঠকসমাবেশ সহ সারা দেশের অভিজাত বই বিক্রয় কেন্দ্রে ও অনলাইন পরিবেশকদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে।

Development of Muslim Art and Architecture in Bangladesh

রচনা : মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ নুরুল ইসলাম মজুমদার
সম্পাদনা : ড সৈয়দ মাহমুদুল হাসান
পর্যালোচনা : অধ্যাপক ড কে এম মোহসিন (অব), ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
: অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ভুইয়া, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)
বাড়ি নং- ৪, রোড- ২, সেক্টর- ০৯, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা
প্রকাশকাল : জানুয়ারি ২০১৪
মূল্য : ৩৫০ টাকা

বিশিষ্ট ইতিহাস-গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ নুরুল ইসলম মজুমদার-এর যৌথ প্রচেষ্টায় রচিত আলোচ্য গ্রন্থটি মুসলিম শিল্পকলা, চিত্রকলা, লিপিকলা (ক্যালিগ্রাফি), ঐতিহাসিক ও পুরাকীর্তি বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং স্থাপত্যশিল্পের ওপর ইংরেজিতে লেখা একটি সমৃদ্ধ তাত্ত্বিক গবেষণা গ্রন্থ। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। রয়েছে ধর্মবিশ্বাস ও জাতীয় বোধ। সেইসব বোধ-বিশ্বাসের ছাপ ফুটে ওঠে একদিকে তাদের সাহিত্যে, সংগীতে, তেমনি ফুটে ওঠে তাদের চিত্রকলায় ও নানারকম শিল্পের মাধ্যমে। ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপত্য শিল্পে সেই সব বোধ-বিশ্বাসের ছাপ বিরাজমান থাকে। এসব নিদর্শন হচ্ছে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্পদ। পৃথিবীর মানবসভ্যতার অমূল্য সম্পদÑ যা অতীত ইতিহাসের তত্ত্ব-উপাত্ত বহন করে চলে। সেটি হতে পারে পুরোনো বাড়ি-ঘর, প্রাসাদ, সৌধ, নানা রকম বস্তুসামগ্রী, শিল্পনিদর্শন, মসজিদ, মন্দির, মাযার, সমাধি, গির্জা, প্যাগোডা, মনুমেন্ট, এপিটাফ, মূর্তি, ভাস্কর্য, মুদ্রা, তৈজসপত্র, শিলালিপি, খোদাইকার্য, ক্যালিগ্রাফি ইত্যাদি নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করা হচ্ছে সভ্য জাতির পরিচায়ক। কোন সভ্য জাতি এসব নিদর্শন তার পূর্ব ধর্মবিশ্বাসের হলেও সেগুলো ধ্বংস করে না। কারণ, এসব নিদর্শন ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করে। কোন ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের দিক যদি আমরা বিবেচনায় নাও আনি তবু নিরেট ইতিহাস-গবেষণার জন্য হলেও এসব নিদর্শন মহামূল্যবান। কোন জাতি, দল, গোষ্ঠী যদি খোঁড়া যুক্তি দিয়ে, নিজস্ব সীমাবদ্ধ চিন্তা-চেতনায় আবদ্ধ থেকে ধর্মের নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করে অথবা বাদ-মতবাদের ও দলান্ধ শত্রুতায় আচ্ছন্ন হয়ে প্রতিপক্ষের বোধ-বিশ্বাসের এসব নিদর্শন ধুলায় মিশিয়ে দেয় তবে তারা গ-মূর্খ, অসভ্য ছাড়া আর কি?
বইটি আলোচনা করতে গিয়ে উপরিউক্ত কথাগুলো অনায়াসে বলতে হলো। কারণ, তা বলা জরুরি। আলোচ্য গ্রন্থটিতে মোঘল, পাঠান ও সুলতানি আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের মুসলিম শিল্পকলা, চিত্রকলা, লিপিকলা, স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে এসব শিল্পের বৈশিষ্টসমূহ। বাংলাদেশে মোঘল আমলের মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনসমূহে রয়েছে পারস্য বা ইরানি স্থাপত্যরীতি ও আরব স্থাপত্য রীতির মিশ্রণ। অথবা কোথাও সরাসরি পারস্য স্থাপত্যরীতিই প্রয়োগ করা হয়েছে। কারণ, এদেশে ইসলাম এসেছে আরব থেকে ইরানের ভেতর দিয়ে সূফি, দরবেশ, অলি-আওলিয়াদের মাধ্যমে।
বইটিতে প্রাসঙ্গিক ও আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ের সংযোজন ঘটানো হয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম শিল্পকলা ও স্থাপত্যের প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্থাপনাগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি ইতিহাসপ্রেমিক পাঠক, গবেষক, পর্যটক, প্রতœবিদ, শিল্পী সবার কাছেই সমাদৃত হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্বের ছাত্রছাত্রীদের রেফারেন্স বই হিসেবেও এই বই সমাদৃত হবে বলে আশা রাখি। বইটিকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় গ্রন্থাগারে প্রেরণ করা হবে বলেও বইটির লেখক সূত্রে জানা গেছে।

□ আমিন আল আসাদ