বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

English

মধ্য ইরানে অ্যালেকজান্ডারের রূপকথার কারাগার

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৮, ২০২০ 

news-image

এক পৌরাণিক স্থানের নাম অ্যালেকজান্ডারের কারাগার। স্থানীয়ভাবে স্থানটিকে জেন্দান-ই ইসকান্দার নামে অভিহিত করা হয়। অ্যালেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের নামে এর নাম রাখা হয় অ্যালেকজান্ডার কারাগার। যিনি খ্রিন্টপূর্ব ৩৩০ সালে পারস্য সাম্রাজ্য দখল করেন। এছাড়া ভবনটি অ্যালেকজান্ডার অব ম্যাসেডোনিয়া হিসেবেও পরিচিত।

রহস্যময় স্থানটি মধ্য ইরানের ইয়াজদের অন্যতম প্রাচীন একটি অঞ্চলে অবস্থিত। আজকের দিনে আধুনিক দর্শনার্থীদের জন্যও শতাব্দীকালের পুরনো গম্বুজবিশিষ্ট ভবনটিতে দেখার অনেক কিছু রয়েছে। এটি নির্মাণ করা হয় ইট, কাদামাটি আর মর্টার দিয়ে। কারাগার বলা হলেও আদতে কোনো কারাগারের সাথে এর মিল নেই।

কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে একটি গভীর কূপ। ইটের সারিযুক্ত গর্তগুলো দশ মিটার ব্যাসের। ভবনটির প্রাণকেন্দ্রে পাওয়া গর্তগুলো একটি প্রাচীন অন্ধকূপের সদৃশ। এছাড়া আঙ্গিনায় কিছু তাকও রয়েছে।

ইরানের ১৪ শতকের পারস্য কবি খাজা শামস আল-দ্বীন মুহাম্মাদ হাফেজ-ই শিরাজির কবিতায় সবচেয়ে উৎসাহী বর্ণনা পাওয়া যায় ভবনটি সম্পর্কে। একটি উপাখ্যান মতে, কাঠামোটির আঙ্গিনার মাঝখানে গভীর একটি কূপ রয়েছে। অ্যালেকজান্ডার দ্যা গ্রেট এটি নির্মাণ করেন আবেং এটি অন্ধকূপ হিসেবে ব্যবহার করেন।

স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জানান, অ্যালেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের অনুরোধে ইয়াজদের ফাহাদান পাড়ায় অ্যাকেজান্ডারের কারাগার বা জিয়া’ইয়া স্কুল নির্মাণ করা হয়। অ্যাকেজান্ডারের ইরান আক্রমণের সময় কমপ্লেক্সটি একটি স্কুল হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

কিছু কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্কুলটির অ্যালেকজান্ডারের সাথে কোনো যোগসূত্র নেই। আরেকটি বর্ণনায় ঠিক এর বিপরীত বলা হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে অ্যালেকজান্ডার দ্যা গ্রেট কিছুসংখ্যক পারসিক প্রতিবাদকারীর বন্দিশালা হিসেবে এটি নির্মাণ করেন।

ভবনটি নির্মাণে কোনো টালি ব্যবহার করা হয়নি। ধারণা করা হয়, স্মৃতিস্তম্ভটি আজও টিকে থাকার পেছনে গোপন রহস্য হচ্ছে এটি। ভবনটির সুন্দর গম্বুজটি ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি আজুর ও সোনালি আস্তর দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। স্থাপনাটির একটি প্রাচীন চত্বর রয়েছে যেখানে রয়েছে তিনটি বারান্দা। চত্বরের মাঝখানে রয়েছে একটি কূপ। গম্বুজের রয়েছে লক্ষণীয় স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য যা থেকে সহজেই এটি ইরানে মঙ্গোলীয় আমলে নির্মিত গম্বুজগুলো থেকে পৃথক করা যায়। গম্বুজের প্রত্যেক পাশ ৯ মিটার দীর্ঘ এবং এটি ১৮ মিটার লম্বা। সূত্র: তেহরান টাইমস।