সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

বই পরিচিতি

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩০, ২০১৮ 

কুহেলী
রচনা : আকবর মোহাম্মদ
প্রকাশক : মোজাম্মেল প্রধান
সাহিত্যকাল
পুরানা পল্টন ঢাকা
প্রচ্ছদ : মোজাম্মেল প্রধান
প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা-২০১৩
পবিবেশক : আবাবিল, ফকিরের পুল
মূল্য : ১৩০ টাকা।

লেখক সংগঠক আকবর মোহাম্মদ-এর নামটি শিশু-সাহিত্যের সাথে যেভাবে জড়িয়ে আছে তেমনি শিশু-কিশোর সংগঠন আবাবিলের নামের সাথেও তাঁর নামটি অভিন্ন ভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। শিশু-সাহিত্য আর ক্রীড়া-সাহিত্য নিয়েই তাঁর পদচারণা। দৈনিক ইনকিলাবের শিশু-কিশোর পাতা ‘সোনালী আসর’-এর বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন। সংগঠক আকবর মোহাম্মদ নিজেও লিখেছেন অনেক লেখা। তাঁর প্রথম বইটি ছড়ার। নাম ‘ছড়াটিং’। প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে। এরপর একই সালে বের হয় ‘মহানবী (সা.)-কে নিবেদিত কবিতাগুচ্ছ’। তাঁর সম্পাদিত গল্পগ্রন্থ ‘অতি লোভে ক্ষতি খুব’ ও বিজ্ঞান গ্রন্থ ‘আলোয় ভুবন ভরা’ প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে।
আলোচ্য এই গল্পের বইটি একটি রহস্য গল্পের সংকলন। এক ডজন গল্প আছে এতে। গল্পগুলোর কোনটা ভৌতিক, কোনটা আদিভৌতিক, কোনটা অজানা আতঙ্কে ভরা বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত। রহস্যে ঘেরা গল্প শুনতে কে না ভালবাসে! ভূতের গল্প না শুনলে নাকি শৈশবই বৃথা। আকবর মোহাম্মদ তাঁর নিজের জীবনে দেখা কয়েকটি রহস্যে ঘেরা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন বইটিতে। তৃতীয় গল্প ‘কুহেলী’র নামে বইটি নামকরণ করা হয়েছে। ‘গণিত’, ‘ভয়’, ‘সেদিন রাতে’, ‘নোট বইটি’ এই গল্প চারটি খুবই আকর্ষণীয় ও রহস্যময়। কাল্পনিকও মনে হতে পারে। তবে ‘চামচা জীন’ গল্পটি কাল্পনিক গল্পই মনে হয়েছে। অফসেট কাগজে ছাপা ৪৮ পৃষ্ঠার এই বইটির প্রচ্ছদেও রয়েছে রহস্যের ছাপ। বইটি পড়ে শিশু-কিশোর, এমনকি বড়রাও পাবেন রহস্যে ঘেরা রোমাঞ্চকর আনন্দ।
□ আমিন আল আসাদ

ছড়ার সাথে সঙ্গী হলাম
রচনা : ওমর বিশ্বাস
প্রকাশক : কালো বুক
২২ ফ্রি স্কুল স্ট্রিট. কাঠাল বাগান, ঢাকা
প্রচ্ছদ : তানভীর এনায়েত
অলংকরণ : নাজমুল হুসাইন রাসেল
প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা-২০১৮
মূল্য : ১০০ টাকা।

কবি ওমর বিশ্বাস বিংশ শতাব্দীর নব্বই দশকের একজন অন্যতম সাহসী ছড়াকার ও কবি। তাঁর কবিতা ও ছড়া নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে সাহিত্যে। ফলে তিনি একজন স্বতন্ত্র সফল কবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। গল্পও লিখেছেন তিনি। শিশু-সাহিত্যেও তাঁর অবস্থান বেশ মজবুত। নানা বিষয়ে তিনি ছড়া ও কবিতা লেখেন। আর শিশু-কিশোরদের জন্য লেখেন নিজের শৈশবের অনভূতির সাথে বর্তমান সময়ের শিশু-কিশোরদের চাওয়া পাওয়াগুলোর তুল্য মূল্য বিচার করে। দেশপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম অথবা আনন্দ-অনুভূতি তো আছেই। সেই সাথে তাঁর ছড়া ও কবিতায় থাকে মূল্যবোধের গান। শিশু-কিশোরদের ভেতরের শক্তিকে নৈতিকতার আলোয় পুষ্ট করার প্রেরণা সংগীত হয়ে ওঠে তাঁর এক একটি কবিতা।
যেমন তাঁর আলোচ্য ছড়ার বইটিতে রয়েছে ‘আমার ডানা কে দেখেছে’ শীর্ষক একটি ছড়া। ‘আমারও তো ডানা আছে/ পাখির মতো জানা আছে/ কেমন করে উড়তে হয়/ কেমন করে আকাশ জুড়ে/ জগতময় দেখতে হলে / উড়তে হবে পাতাল ফুড়ে// আমারও তো জানা আছে/ কেমন করে ঘুরতে হয়/ আমারও তো ভাষা আছে/ দু-চোখে যার স্বপ্ন আছে/ কোন ভাষাতে বললে কথা / করতে পারি বিশ্বজয়।’ যা শিশু-কিশোরদের ভেতরের স্বপ্নডানাকে নিঃসীম আকাশে মেলে ধরবার প্রেরণা যোগায়।
সময় কারো জন্য বসে থাকে না। গতিশীল সময়ের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন বইয়ের প্রথম ছড়া ‘সময়গুলো নদীর মতো’ ছড়াটিতে। ‘যাচ্ছে চলে সময়গুলো নদীর মতো/ কোথায় থেকে যাচ্ছে কোথায় অবিরত/ কেউ জানে না কোথায় গিয়ে ধরবে তাকে/ সময় কি আর কারো জন্য আটকা থাকে?’
মহাকাশ, নভোমণ্ডল, চাঁদ-তারকা মহান আল্লাহর অপূর্ব ও অসাধারণ সৃষ্টি। ‘চাঁদের নায়ে’ ছড়াটিতে পাই সেই কথার বাস্তবতা। ‘ডাক পড়েছে আকাশ গাঁয়ে/ যাচ্ছি সেথা চাঁদের নায়ে/ চাঁদ তারাদের জগৎ ঘুড়ে দেখব আজি/ কে বানালো কার-ইশারা’-র কারসাজি’। বইটির নামছড়া ‘ছড়ার সাথে সঙ্গী হলাম’ জেগে ওঠা শিশু-কিশোরদের স্বভাব বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। ‘‘আমরা দেখি স্বপ্ন অনেক দু-চোখে ওই তারার মতো/ তাইতো সবাই ছুটে চলি সামনে আসে বাধা যত// আমরা খুঁজি কেমনে আসে আকাশ থেকে আলো/ রাত্রি এলে প্রশ্ন মনে ঢাললো কে ওই কালো?// আমরা খুঁজি সাগর নদী মেঘের বসতবাড়ি/হাজার ফুলের ঘ্রাণ ছড়ানো ফুল বাগানের সারি।’
এছাড়া ‘সাহসটাকে জড়িয়ে নাও’, ‘সূর্য’, ‘বৃষ্টি’, ‘দুপুর’, ‘কাল বোশেখির ঝড়’, ‘অংকের ঠ্যাং’, ‘ভূত’, ‘মেঘের বাসা’ ‘আমাদের গাঁয়ে’, ‘ছোটখুকু’, ‘ঈদ’, ‘চলো বনে যাই’, ‘ছড়ার গুপ্তধন’, ‘দেখে আসি অজানার দেশ’, ‘একটি ছেলে’, এই সব ছড়া কবিতাগুলো সুপাঠ্য।
বইটি শিশু-কিশোরদের ভালো লাগবে আশা করি।
□ আমিন আল আসাদ