শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

English

পশ্চিম তীর দখলের ষড়যন্ত্র: ফিলিস্তিনিদের নতুন ইন্তিফাদার হাতছানি

পোস্ট হয়েছে: মে ১৭, ২০২০ 

news-image

করোনাভাইরাস মহামারি সত্বেও আগামী কিছুদিনের মধ্যে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকা দখলের ষড়যন্ত্র করছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। একইসাথে পূর্ব জেরজালেমে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের বসতঘর ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে দেশটি। বিষয়টি নিয়ে ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, ইহুদিবাদী ইসরাইলের এহেন গর্হিত কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা বিনষ্ট করবে।

গত মার্চে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকায় ইহুদিবসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে ইহুদি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পর তার সাথে তাল মিলিয়েই তিনি এই ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি ইসরাইলি পার্লামেন্টের (নেসেট) কিছু সদস্য ফিলিস্তিনি এসব অঞ্চলে ইহুদি দখলদারিত্বের বৈধতা দিতে একটি বিল প্রস্তাব করেন। বিলটিতে ইহুদিবসতি কাউন্সিলের প্রধানরা সমর্থন দিয়েছেন। দখল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা নেসেটকে ভোটের আয়োজন করার অনুরোধ জানান।  

এদিকে, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দখল পরিকল্পনা থেকে ফিরে আসতে ইসরাইলকে চাপ দিতে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দল ও গোষ্ঠীর সাথে কথা বলেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) বলেছে, গাজা, পশ্চিম তীর ও অধিকৃত জেরুজালেমে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা দায়ের করবে।

পিএলও বলছে, বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় ব্যস্ত ইসরাইল তখন সেটার সুযোগ নিতে চাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অবজ্ঞা করে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। দেশটি ফিলিস্তিনি এলাকায় ২২টি সতর্কবার্তা জারি করেছে। ফিলিস্তিনি ভুখণ্ড ও জর্ডান উপত্যকায় বাসাবাড়ি ধ্বংস অব্যাহত রেখেছে। আইসিসি বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপনে ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অবৈধভাবে পশ্চিম তীর সংযুক্তকরণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তেল আবিবে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা নেতানিয়াহুর কাছে দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন।  

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১২৭জন সদস্য তাদের প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছেন। এতে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্য মানবিক সমন্বয়কারী জেমি ম্যাকগোল্ড্রিক সম্প্রতি মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে তিনি করোনা মহামারি ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বসতঘর ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকার অনুরাধ জানান।

এমতাবস্থায় ইসরাইল যদি তাদের আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে তাহলে ফিলিস্তিনি জনগণের নতুন ইন্তিফাদার সূত্রপাত ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এবার যে ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অধিকতর আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ করতে সমর্থ হবে সেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। মুসলিম বিশ্ব যখন বিশ্ব কুদস দিবস পালনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব পাবে। সূত্র: আইআরএনএ।