বৃহস্পতিবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইসলাম ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণায় মিল-অমিল

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩০, ২০১৮ 

হুজ্জাতুল ইসলাম মুহাম্মাদ জাভেদ হুজ্জাতি কিরমানি: ‘ইসলামে মানবাধিকার’ বা ‘পাশ্চাত্যে ১ মানবাধিকার’ এই দুটি পরিভাষার পার্থক্য বিবেচনায় না নিয়ে এই নিবন্ধে বরং ইসলামে মানবাধিকারের যে ধারণা দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে পাশ্চাত্যের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা ও পরবর্তী বিভিন্ন সম্মেলনে গৃহীত সংযুক্তিতে মানবাধিকারের যে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে সেই দুটির মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্য এবং অসামঞ্জস্যগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সর্বোপরি এই নিবন্ধে ওই সামঞ্জস্য ও অসামঞ্জস্যের বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরার দিকেই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকবে।
ইসলাম ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার মধ্যে যেসব পার্থক্য রয়েছে সেগুলোর পরিবর্তে উভয়ের মিলগুলোর ওপর মনোযোগ দেবার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি আমাদের আকৃষ্ট করেছে সেটি হলো এই যে, অতীতের যে কোনও সময়ের মত বর্তমান যুগেও বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিসমূহের কাছ থেকে মানুষ শান্তির বার্তা পেতে চায়। মানুষ যে শান্তি চায় তার বড় প্রমাণ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তঃধর্ম সংলাপ বিশেষ করে ইসলাম ও খ্রিস্টবাদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের ধারার প্রচলন। আর এসব সংলাপ মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি এবং মুসলিম ও খ্রিস্টান দার্শনিক ও পণ্ডিতদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সন্দেহাতীতভাবে ভূমিকা রেখেছে।
যারা সব মানুষের সুখ-সাচ্ছন্দ্য কামনা করে, যারা বিশ্বশান্তি ও বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও আন্তঃসভ্যতা সংলাপের সত্যিকারের প্রবক্তা সেই সত্যসন্ধানীদের জন্য এটি এক অবশ্য পালনীয় কর্তব্য যে, তারা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনগুলো চিহ্নিত করবেন, সারা বিশ্বের সব মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করবেন এবং জাতিসমূহের মধ্যে বিভক্তি ও বৈরিতা জিইয়ে রাখার মধ্যেই যারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে সেই সাম্রাজ্যবাদী চক্রের মানবতাবিরোধী ও বৈরী প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
বিষয়টিকে যেভাবে দেখা হয়েছে
ইসলামের মানবাধিকার এবং পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দীর্ঘকাল ধরেই বিদ্যমান রয়েছে। এই বিষয়ের ওপর বহু গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করা হয়েছে। পাশ্চাত্যের এবং ইসলামি বিশ্বের পণ্ডিতরা এ বিষয়ে সাধারণভাবে তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন :
১. প্রাথমিকভাবে পণ্ডিতদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো বিষয়টিকে পুরোপুরি গ্রহণ বা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা; অন্য কথায়, তাঁরা কোনরকম ওজর-আপত্তি ছাড়াই হয় একটিকে গ্রহণ করেছেন বা অন্যটিকে নাকচ করে দিয়েছেন। কিছু কিছু মুসলিম চিন্তাবিদ সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণায় উল্লিখিত নীতিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং কেবল ইসলাম ধর্মেই এধরনের অধিকারের অনুসন্ধান করেছেন। তাঁরা ধারণা করেন যে, ওই ঘোষণায় যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো নেওয়া হয়েছে মানবিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, এমনকি নিরীশ্বরবাদ থেকে। এদের এই অবস্থানের বিপরীতে পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের কিছু প্রবক্তা ধারণা করেন যে, ইসলামে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো মোটেও যথেষ্ট নয়, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে অন্যায্য। তাঁরা ইসলামের উদ্ভবের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিশ্বাস করেন যে, ইসলামে মানবাধিকারের যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো স্থান-কালের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. এ বিষয়ে দ্বিতীয় যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তা পাশ্চাত্য সভ্যতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি হয়েছে। তারা সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা ছাড়া অন্য কিছুই গ্রাহ্য বলে মনে করে না। মানবাধিকারের বিষয়টিকে তারা দেখে ধর্মের আওতাবহির্ভূত একটি বিষয় হিসাবে। জাগতিক বিষয়ে ধর্মের কোনও ভূমিকা থাকলে সেটিকে তারা ধর্মের উদ্ভবকালের জন্য যতটা প্রাসঙ্গিক মনে করে বর্তমান সময়ের জন্য সেভাবে প্রাসঙ্গিক মনে করে না। সুতরাং ঐশী জ্ঞানের বাহক হওয়ার দাবিদার ধর্মে যদি এ বিষয়ে কোনও কিছু বলা হয়ে থাকে তাহলে সেটি কেবল ওই সময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং তা কখনই বর্তমান যুগসহ সর্বকালের জন্য সাধারণভাবে প্রযোজ্য হতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব খোদার পক্ষ থেকেই মানুষের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
আমরা যখন রাজনীতির বিষয়ে কথা বলি তখন এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয় যে, ধর্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ধর্ম ও রাজনীতির এই পৃথকীকরণ কোনও বিচ্যুতি নয়, বরং তা ধর্মের ঔৎকর্ষের লক্ষণ। তারা মনে করে যে, অনেক দিক থেকেই ধর্মের অবস্থান জাগতিক বিষয়ের অনেক ঊর্ধ্বে। যাই হোক, সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা এবং পবিত্র কুরআন বা অন্য কোনও ধর্মের নির্দেশনার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই নিবন্ধের উপসংহারে এই বিষয়ে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
৩. তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটা মাঝামাঝি অবস্থানের যা ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার উৎস, ভিত্তি এবং উপকরণের মধ্যে অনেক মিল ও সম্পর্ক খুঁজে পায়। এই নিবন্ধে এটাই দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, মানবাধিকারের উভয় ধারণার মধ্যে অমিলের চেয়ে মিলই বেশি।
এই নিবন্ধে যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে
এই নিবন্ধে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে এবং দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, উল্লিখিত উভয় ধারণায় অধিকারগুলো, এমনকি উৎসের দিক থেকেও অর্থাৎ আদর্শিক এবং সাধারণ কাঠামোগত তত্ত্বের দিক থেকে অভিন্ন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আয়াতুল্লাহ জাভাদি আমুলি মনে করেন, প্রথমে উৎসগুলো চিহ্নিত করে তারপর সেইসব সূত্র থেকে আইনগত ভিত্তিসমূহ বাছাই করতে হবে এবং সবশেষে আইনগত বিধিবিধানগুলো বাছাই করার লক্ষ্যে এ বিষয়ক আইনী নির্দেশনা (legal texts) তুলে আনতে হবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, আইনের চোখে সব মানুষ সমান। এই অনুচ্ছেদের ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। ন্যায়বিচারের ধারণারও সৃষ্টি হয় জনমানস এবং আদর্শিক (public and ideological approaches) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।
৪. ইসলামি ও পশ্চিমা অধিকারের জনমানসগত ও অভিন্ন উৎস
বস্তুবাদী ও ধর্মীয় চিন্তাধারায় অধিকারের উৎস ভিন্ন। যাঁরা অধিকারের ধর্মীয় উৎস স্বীকার করেন না সেই আইনজীবীরা বিশ্বাস করেন যে, অধিকারের জন্ম মানুষের বিবেক এবং প্রজ্ঞা থেকে যা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে শুভ ও অশুভের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবনে সক্ষম। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, জাঁ জ্যাক রুশো তাঁর ‘এমিল’ (Emile) গ্রন্থে বিবেককে বর্ণনা করছেন ঐশী অমর প্রেরণা, স্বর্গীয় কণ্ঠস্বর এবং শুভ ও অশুভর কল্যাণকামী ও সত্যনিষ্ঠ বিচারক হিসাবে। অন্যদিকে নবী-রাসূলের শিষ্যরা বিশ্বাস করেন যে, নবীরা মানুষকে ওইসব অধিকার সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন খোদার নির্দেশেই। মনে হয়, এই দুটি পর্যবেক্ষণ পরস্পরবিরোধী নয়, বরং বাস্তবে একে অপরের পরিপূরক। মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে :
‘শপথ মানুষের এবং তার, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও তার সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন।’ (সূরা আস-শামস : ৭-৮)
এই আয়াতে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে যে, খোদায়ী অনুপ্রেরণা প্রতিটি মানুষকেই দেওয়া হয়েছে এবং সবাইকেই শুভ ও অশুভ পথ দেখানো হয়েছে। সুতরাং কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায়, মানুষের প্রকৃতি, বিবেক ও প্রজ্ঞা ঐশী প্রেরণার ভিত্তিতেই ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। অন্যদিকে, প্রত্যাদেশ হলো এক অতীব মহিমাময় গুণ যা বিকশিত হয় কেবল সমুন্নত চেতনা ও প্রজ্ঞার মধ্যে। অন্য কথায়, প্রত্যাদেশ হলো মানবিক প্রজ্ঞার সর্বোচ্চ শিখর এবং তা কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যাঁদের মধ্যে সমুন্নত চেতনা ও শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞা রয়েছে। এজন্যই আমাদের পণ্ডিতরা মহান নবী (সা.)-কে পরম প্রজ্ঞার অধিকারী বলে মনে করেন।
সুতরাং এই দুটি ধারণার বিরোধিতা করার পরিবর্তে বরং এদের ভেতরকার সম্পর্কের বন্ধন খুঁজে বের করাই উত্তম। কারণ, বস্তুত এই দুটি ধারণাই মানবিক প্রজ্ঞা ও চেতনার ওপর আলোকপাত করে। এদের মধ্যে পার্থক্য শুধু এটুকু যে, ঐশী চিন্তাধারা অনুযায়ী এই মানবিক চেতনা ও প্রজ্ঞার স্ফূরণ ঘটে ব্যতিক্রমধর্মী উত্তম মানুষের মধ্যে যাঁরা নবী এবং যাঁদেরকে খোদায়ী প্রত্যাদেশ গ্রহণ করার মতো সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মতাত্ত্বিক পণ্ডিতেরা মানুষের প্রজ্ঞার ওপর আস্থাশীল, কিন্তু সেটা হলো সেই প্রজ্ঞা যা তাঁদেরকে ঐশী প্রত্যাদেশের সাহায্য নিয়েই সত্যের পরিপূর্ণ উপলব্ধিতে পৌঁছার সক্ষমতা দান করে। এদিকে অন্য পণ্ডিতদের, এমনকি দার্শনিক, আইনজ্ঞ এবং চিন্তাবিদ যাঁরা নতুন চিন্তাধারার জন্ম দিতে সহায়তা করেছেন তাঁদের ভাবনায় সব সময়ই ভুল-ভ্রান্তি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এটা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় যে, এই দৃষ্টিভঙ্গির ভুলগুলোর দৃষ্টান্ত পাশ্চাত্যের অগ্রনায়কদের কাজের মধ্যেই দৃশ্যমান। যেমন, রুশো তাঁর লেখার এক জায়গায় বলেছেন : ‘জনগণের জন্য শ্রেষ্ঠ বিধি-বিধান ও আইন উদ্ভাবনের জন্য মানুষের সব আশা-আকাক্সক্ষা উপলব্ধি করার মতো এমন পরিপূর্ণ প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন রয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে যাঁর কোনও ধরনের সম্পর্ক আছে এবং একে পুরোপুরি জানেন, যাঁর সুখ আমাদের সুখের সঙ্গে সম্পর্কিত বা নির্ভরশীল নয়, কিন্তু আমাদের সুখ নিশ্চিত করতে যিনি প্রস্তুত। কিন্তু তেমন প্রজ্ঞাসম্পন্ন কোনও মানুষের ধারণা আমাদের নেই।’২
বলতেই হবে যে, এই পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা খোদার নবীদের মধ্যে সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ পেয়েছে, যদিও রুশোর ইঙ্গিত থেকে বোঝা যায় তিনি ঈশ্বরকেই বুঝিয়েছেন।
অভিন্ন ভিত্তি
মানব জাতির ঐক্য
প্রথম সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার মূল কাঠামোটি হলো মানব জাতির ঐক্য। এই পর্যবেক্ষণ কেবল যে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাই নয়, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এটির উদ্ভব হয়েছে ধর্ম থেকেই। মানব জাতিকে সাধারণভাবে যখন ‘হে জনগণ!, ‘হে মানবসকল!, ‘হে মানব জাতি! বলে সম্বোধন করা হচ্ছে তখন স্পষ্টতই কুরআনের ‘সকল মানুষ সমান’ এই সূক্ষ্মদৃষ্টিই প্রকাশ পাচ্ছে।
‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পরো।’ (সূরা আল-হুজারাত : ১৩)
কুরআনের পবিত্র এই বাণী ওই ধারণার যথার্থতা প্রমাণ করে।
এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের পর গৃহীত সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণায় পরিবারকে একক সত্তা হিসাবে গ্রহণের বিষয়টিও ওই সময়ের জনমানস এবং একটি আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। মানুষের অস্তিত্বের বাস্তবতার ভিত্তিতেই তার ঐক্যের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও আমরা ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকার ব্যবস্থার মধ্যে সাজুয্য খুঁজে পাই। ইসলামেও পরিবারকে অভিন্ন লাভ-ক্ষতির শরিক একটি একক সত্তা হিসাবে দেখা হয়।
ইরানের বিশিষ্ট কবি শেখ সাদী যেমনটা বলেন :
‘আদম সন্তান পরস্পরে এক দেহের অঙ্গ
সৃষ্টির উৎসে তাদের উপাদান যে অভিন্ন
কালের দুর্বিপাকে ব্যথিত হয় যদি একটি অঙ্গ
স্বস্তিতে থাকতে পারে না, বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
অন্যদের দুঃখ-কষ্টে তুমি যে নির্বিকার
তোমাকে মানুষ বলা অনুচিত, অবিচার।’ (গুলিস্তান, ১ম অধ্যায়, হেকায়ত নং ১০)

মানুষের প্রকৃতিগত মূল্য
ইসলাম ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার আরেকটি অভিন্ন উপাদান হলো মানুষের প্রকৃতিগত মূল্য ও তার প্রতি শ্রদ্ধা।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ।’ আর সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার মুখবন্ধে মানব পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সহজাত গুণাবলির স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে। আমাদের মনে হয় যে, এই ঘোষণা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কুরআনের মাধ্যমে প্রভাবিত অথবা অন্ততপক্ষে উভয়টিই পরম কার্যকারণ এবং মানবিক প্রজ্ঞার ধারণার সঙ্গে সাজুয্যপূর্ণ। উভয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু এটুকু যে, একটির উদ্ভব সরাসরি ঐশী প্রত্যাদেশ থেকে আরেকটি কিছু মধ্যবর্তী উপাদানের ভেতর দিয়ে প্রত্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ব্যক্তি ও সমাজ
ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার মধ্যে আরেকটি যোগবন্ধন হলো ব্যক্তি ও সমাজের বিষয়টি এবং মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এবং সমাজবাদ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক ও দার্শনিক আলোচনার দিকটি বিবেচনায় না নিয়েও বলা যায় যে, আইনী ব্যবস্থায় উভয় ক্ষেত্রেই সমাজের স্বার্থকে ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উপায়-উপকরণের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তি বা সমাজের স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দিলে কেবল সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এই গভীর অভিজ্ঞতা থেকেই মানব জাতি ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির এবং সমাজের সম্পর্ক নিয়মিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং একে ক্ষমতা ও বৈধতা দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে মানুষের তৈরি সংবিধিবদ্ধ আইন এবং পবিত্র কুরআন ও রাসূলের বিধি-বিধানের মধ্যে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অভিন্ন বিধানসমূহ
মানবাধিকারের মৌল ধারণা ও উৎস সম্পর্কিত যেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি তার বাইরে এর বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং নীতির মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে আমরা কিছু উদাহরণ তুলে ধরব :
ক. জীবন
খ. স্বাধীনতা
গ. ন্যায়বিচার

জীবন
কোন কোন মুসলিম বিজ্ঞানী জীবনকে দুভাগে ভাগ করছেন : বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক। ইসলামে আধ্যাত্মিক দিকের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা থেকে এই বিষয়টি মুছে ফেলা হয়েছে। পাশ্চাত্যের চেয়ে এখানেই ইসলামের প্রাধিকার।৩ ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকার ব্যবস্থায় আমরা বস্তুগত জীবন বলতে বুঝি মানুষ একদিন জন্ম গ্রহণ করে আরেক দিন মৃত্যুবরণ করে এবং এই জীবনের (বস্তুগত) প্রতিই থাকে তার সমস্ত মনোযোগ। এটি উভয় ধারণার আরও একটি মিল এবং সম্পর্কের বন্ধন। ‘রক্তক্ষয় এবং হত্যার’ ব্যাপারে ইসলাম এতটাই কঠোর এবং এই কাজটি এতটাই নিন্দনীয় যে, একজন ব্যক্তিকে হত্যা করাও সমগ্র মানব জাতিকে হত্যার সমান বলা হয়েছে। এ সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত- ‘যে বিনা কারণে একজন ব্যক্তিকে হত্যা করল সে যেন সমগ্র মানব জাতিকেই হত্যা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা : ৩২)
নিশ্চিতভাবেই ‘হত্যা’ সম্পর্কে আমাদের মনোগত ধারণার অভিন্ন অর্থ।
স্বাধীনতা
স্বাধীনতার মূল্য সর্বোচ্চ এবং এটি হলো দুই আইনী ব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্কসূত্রের আরেকটি ক্ষেত্র। এ সম্পর্কে বলা যায় যে, অধ্যাত্মবাদ ও ধর্মীয় দিক থেকে স্বাধীনতার অর্থ হলো কেবল ঈশ্বর ছাড়া অন্য সব জাগতিক আকাঙ্ক্ষার গোলামি থেকে মুক্তি। এটিকে কোনভাবেই পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
স্বাধীনতা বলতে আমরা সাধারণভাবে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণায় বর্ণিত স্বাধীনতাই বুঝি যেখানে মানুষকে জন্মগতভাবে স্বাধীন বলা হয়েছে এবং সব ধরনের দাসত্ব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যুক্তিযুক্ত হবে যে, মানুষের দায়িত্ববোধের জন্ম হয় তার স্বাধীনতার চেতনা থেকে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই মুক্ত সত্তা। বিজ্ঞ বলেই সে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সংযম রক্ষা করে চলার বিষয়টিকে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার পরিচায়ক বলে মনে করে। সংযমের এই যৌক্তিক প্রয়াস আরও বিশুদ্ধ ও প্রকৃত রূপ লাভ করে অধ্যাত্মবাদ ও ঐশী প্রত্যাদেশের আলোকধারায়।
ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণার মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকলে সেটা আছে স্বাধীনতার মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। সেটা স্বাধীনতার যৌক্তিকতা ও মৌলিক ভিত্তির কোন ব্যত্যয় ঘটায় না।
অন্য কথায়, মানবাধিকারের উভয় ধারণাই মানুষের জন্মগত স্বাধীনতার ওপর কিছু সীমারেখা টেনে দেয়। খোদায়ী বিধানে যৌন স্বাধীনতার ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে তেমন নিয়ন্ত্রণ অনেক কম। তার পরও পাশ্চাত্যের ভোগবাদী আদর্শেও যৌন স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে, যেমন ধর্ষণ এবং প্রকাশ্য যৌনাচার নিষিদ্ধ। তার মানে হলো, সবচেয়ে মুক্ত সমাজের ক্ষেত্রেও মানুষের যুক্তিশীলতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে নি, সেখানেও খুব সামান্য হলেও স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
ন্যায়বিচার
সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার মুখবন্ধে বলা হয়েছে যে, মানবাধিকারের স্বীকৃতি না থাকলে বর্বরতার সৃষ্টি হয় যা মানুষকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং সাধারণভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে যাতে মানুষ অবিচার ও নির্মমতার বিরুদ্ধে শেষ উপায় হিসাব বিদ্রোহের পথ বেছে নিতে বাধ্য না হয়। মুখবন্ধের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে এসব বিষয়ে সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে।
এসব উপকরণ বস্তুতপক্ষে ন্যায়বিচার বলবৎ করা এবং অবিচার দূর করার আকাক্সক্ষার উদাহরণ যা ইসলামি ও পাশ্চাত্যের মানবাধিকারের ধারণায় খুবই জোরালো এবং সংহতরূপে রয়েছে এবং এটি উভয়ের মধ্যে আরেকটি সংযোগসূত্র। প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচারের ধারণাই গোটা বিশ্বকে স্থিতিশীল করেছে। আমরা সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণায় যা দেখতে পাই তা হলো মানুষের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন। আসলে মানুষ একটি সত্যিকারের অভীষ্ট থেকে উৎসারিত মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিশ্বজগতে বিরাজমান ন্যায়বিচারের একটি প্রকৃত বৈশ্বিক নমুনাকে নিজেদের জন্য আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছে।৪
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসিগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনও সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করবে, এটা খোদাভীতির নিকটতর।’ (সূরা আল-মায়িদা : ৮)
এবং
‘যখন তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায্য কথা বল সেটা তোমার আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্কে হলেও।’ (সূরা আল-আন’আম : ১৫২)
এছাড়াও এধরনের অনেক আয়াত রয়েছে যা থেকে কুরআনের নির্দেশনায় ন্যায়বিচারকে কতটা সমুন্নত করা হয়েছে তা বোঝা যায়। এ বিষয়ে সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণায় যা কিছুই বলা হয়ে থাকুক না কেন সেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের পবিত্র শিক্ষারই প্রতিফলন।
উভয় ধারণার মধ্যে যেসব পার্থক্য রয়েছে
আসুন এখন আমরা সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার এমন কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করি যা ইসলামের ধারণা থেকে পৃথক। আমরা এসব বিষয় নিয়ে পাশ্চাত্য ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে সংলাপ ও আলোচনার আহবান জানাই
১. মানব পরিবারের সব সদস্যের সমান অধিকার রয়েছে (ভূমিকা)। এতে মনে হয়, ইসলামে অমুসলিমদের বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
২. মর্যাদা ও অধিকারের দিক থেকে সব মানুষ সমান ( অনুচ্ছেদ-১)
৩. ঘোষণাপত্র অনুযায়ী যে কোন ধর্মের অনুসারীরা সব অধিকার ও স্বাধীনতা লাভের অধিকারী হবেন (অনুচ্ছেদ-২)
৪. জাতিগোষ্ঠী, জাতীয়তা বা ধর্মের কারণে কোনরকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ বিয়ে করার এবং পরিবার গঠনের অধিকারী হবেন (অনুচ্ছেদ-৬)
৫. প্রতিটি মানুষেরই স্বাধীনভাবে চিন্তা, বিবেক ও ধর্ম পালনের অধিকার আছে; এই অধিকারের মধ্যে ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তন এবং এককভাবে বা সমাজের অন্যদের সঙ্গে মিলে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে নিজের ধর্ম বা বিশ্বাসের শিক্ষাদান, চর্চা করা, ইবাদত-বন্দেগি করা বা পরিপালনের স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত (অনুচ্ছেদ-১৮)
৬. প্রত্যেকেরই স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে (অনুচ্ছেদ-১৯)
৭. বিবাহিত দম্পতি বা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে জন্ম গ্রহণকারী যে কোন শিশুই একই রকম সামাজিক সুরক্ষা লাভ করবে (অনুচ্ছেদ-২৫, ২য় প্যারা)
এই বিষয়গুলো ইসলাম প্রদত্ত অধিকারের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনা করতে হবে।
সব শেষে আমরা ইসলামের মহান শিক্ষা থেকে উৎসারিত কিছু জোরালো ও মহত্তর বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। যদিও কিছু দার্শনিক, আইনবিদ ও রাজনীতিকের মতে এই বিষয়টি সম্ভবত আমাদের পর্যালোচনার এখতিয়ার বহির্ভূত, আমরা মনে করি যেহেতু এই নিবন্ধে পাশ্চাত্য ও ইসলামি অধিকারের মিল ও অমিল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে সেজন্য এখানে ওই বিষয়গুলোর উপস্থাপন যথাযথ।
বিষয়টি সৃষ্টিকর্তার অধিকার এবং তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলামের দৃষ্টিতে এই অধিকার হলো সব মানবাধিকারের ভিত্তি। আগে যেমনটা বলা হয়েছে, মানুষের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা হলো আল্লাহ প্রদত্ত উপহার আর বিষয়টি হলো এই যে, ঐশী জ্ঞান হলো শুধুই তার পবিত্র প্রকৃতি। এ বিষয়ে চলুন আমরা ইমাম যায়নুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন (রা.)-এর একটি বক্তব্য বিবেচনা করে দেখি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের প্রতিটি কর্মকা- ঐশী অধিকার দিয়েই নিয়ন্ত্রিত এবং এই অধিকার পূরণ করার দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের ওপর আরোপিত। তিনি বলেন : ‘আল্লাহর সবচেয়ে বড় অধিকার হলো সেটি যেটি তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এটি হলো সেই অধিকার যা সব অধিকারের উৎস এবং যত রকমের অধিকার আছে তার সবই এটি থেকে উদ্ভূত। আর আল্লাহর সবচেয়ে বড় অধিকার হলো তাঁর উপাসনা করা এবং কাউকেই তাঁর সঙ্গে শরিক না করা।’
টীকা
১. এই ভ্রান্তিটা ঘটেছে এজন্য যে, সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত অনেক নিবন্ধই একদিকে সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমন সম্পত্তি, নিরাপত্তা, মালিকানা ইত্যাদির অধিকার সম্পর্কিত নিবন্ধ; অন্যদিকে ইসলামের মানবাধিকার বলতে বোঝানো হয় কায়রো ঘোষণায় গৃহীত ইসলামের অভিন্ন শিক্ষাভিত্তিক অধিকারগুলোকে যেখানে বিকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বলাই নিরাপদ যে, আমরা মুসলমানরা আমাদের ব্যক্তিগত পঠন-পাঠন এবং ব্যাখ্যাকে ইসলামের প্রতি আরোপ করব না।
২. জাঁ জ্যাক রুশো, সোশিয়াল কন্ট্যাক্ট, পৃষ্ঠা ৮১।
৩. দেহজ জীবনের ধারণা ভ্রান্তিমুক্ত নয়। কারণ, জীবন আত্মার ওপর নির্ভরশীল আর আত্মা হলো বিমূর্ত।
৪. আয়াতুল্লাহ জাভাদি আমুলির ব্যবহৃত শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে।