মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী সরকার : একটি পর্যালোচনা

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০১৪ 

news-image

হুজ্জাতুল ইসলাম মুহাম্মদ ইয়াজদী

মানুষের মনে করা উচিত আইন হলো মহান আল্লাহর অধিকার। কেননা, আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ এবং কেবল তিনিই তাঁর অমান্যকারীদের যে কোন ধরনের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এই একই কথা ইমামত দর্শনের ভিত্তিতেও বলা যেতে পারে।

নবী-রাসূলগণ খোদায়ী আইন-কানুন দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর নির্বাচিত প্রতিনিধি। এখন এসব আইন-কানুন দুনিয়ার বুকে বাস্তবায়ন এবং তার বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একজন নেতা বা ইমাম থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই নবুওয়াতের নীতিমালাকে ইমামতের নীতিমালা থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। এই কারণেই নবী-রাসূলগণ একই সময়ে নবুওয়াত ও ইমামত প্রাপ্ত ছিলেন অর্থাৎ খোদায়ী আইন-কানুন প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন- এ উভয় ক্ষমতাই তাঁদের হাতে ছিল।

হযরত ইবরাহীম (আ.) ছিলেন এরূপ একজন নবী-ইমাম। পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১২৪ নং আয়াতে তাঁর ইমামত সম্বন্ধে বলা হয়েছে :

‘এবং স্মরণ কর যখন ইবরাহীমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করেছিল; আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি।’ সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও’? আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের প্রতি প্রযোজ্য নয়’।’

উপরোক্ত আয়াত থেকে এটা সুস্পষ্ট হয় যে, ইমামত (শাসনের অধিকার) অত্যাচারী শাসকদের কাছে যেতে পারে না।

ইসলামের পবিত্র নবীও একই সাথে ইমামত ও নবুওয়াতপ্রাপ্ত ছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে একই সময়ে আল্লাহর পক্ষ হতে মানবজাতির জন্য দূত ও শাসক হিসাবে মনোনীত করেছিলেন। রাসূল হিসেবে ইসলামে পবিত্র নবীর পদমর্যাদা সম্পর্কিত কুরআনে অনেক আয়াত আছে। ঐসব আয়াতের কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো :

‘মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে পুরুষের পিতা নন, বরং সে আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সূরা আহযাব : ৪০)

‘মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র; তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয়, তবে তোমরা কি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনও আল্লাহর ক্ষতি করবে না; বরং আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৪৪)

‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ২৯)

এরূপ আরো আয়াত আছে যেগুলোতে আল্লাহর রাসূল হিসেবে নবীর পদমর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে :

‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তা স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।’ (সূরা আহযাব : ৩৬)

‘নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর এবং তার পত্নীগণ তাদের মাতা। আল্লাহর বিধান অনুসারে মুমিন ও মুহাজিরদের চেয়ে যারা আত্মীয়, তারা পরস্পরের নিকটতর।’ (সূরা আহযাব : ৬)

‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং সতর্ক হও; যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রেখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রাসূলের কর্তব্য।’ (সূরা মায়েদা : ৯২)

‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা কৃপা লাভ করতে পার।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩২)

‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী, কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট উপস্থাপন কর। এটাই উত্তম ও পরিণামে শ্রেয়।’ (সূরা নিসা : ৫৯)

‘লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে; বল, ‘যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের; সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (৮ : ১)

‘হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং যখন তোমরা তার কথা শ্রবণ করছ তখন তা হতে মুখ ফিরিও না।’ (৮ : ২০)

‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে ও নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না, করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে; ধৈর্যশীল হবে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।’ (৮ : ৪৬)

‘আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর।’ অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী; এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে, রাসূলের কাজ তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।’

‘সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ (২৪ : ৫৬)

‘হে মুমিনগণ! আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের কর্ম বিনষ্ট করো না।’

‘তোমরা কি চুপে চুপে কথা বলার পূর্বে সাদাকা প্রদানকে কষ্টকর মনে কর, যখন তোমরা সাদাকা দিতে পারলে না, আর আল্লাহ তোমাদিগকে ক্ষমা করে দিলেন; অতএব, তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং  আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা সম্যক অবগত।’ (৫৮ : ১৩)

‘আল্লাহর আনুগত্য কর, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে প্রচার করা।’ (৬৪ : ১২)

রাসূল (সা.)-এর ইমামতের বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা এ প্রবন্ধে করা হচ্ছে না। তবে পবিত্র হাদীস ও রাসূলের জীবন চরিত থেকে জানা যায় যে, যুদ্ধ, সন্ধি স্থাপন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, শত্রুর বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির জন্য লোক নিয়োগ, ঐ সময়কার পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ কিংবা যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়ে পত্র লিখন, উসামার সেনাবাহিনী গঠন এবং এরূপ আরো অনেক বিষয়েই রাসূলের আদেশ বস্তুত সরকারি আদেশ ছিল।

রাসূল (সা.) একই সময় নবুওয়াত ও ইমামত প্রাপ্ত হন। মক্কাতে ১০ বছর গোপনে ও প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের পর মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় পৌঁছার পর সেখানে তিনি ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এভাবে মদীনা প্রথম ইসলামী সরকারের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং মদীনায় বসবাসরত ইহুদি ও অন্যান্য কাফের গোত্র একটি চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করে ইসলামী শাসনকে মেনে নেয়।

অতঃপর রাসূলকে মদীনার বাইরে বসবাসরত কাফের ও মুশরেকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। মক্কা বিজয় ও পরিশেষে সমগ্র আরব-ভূভাগে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়া পর্যন্ত এরূপ যুদ্ধ চলে। কাজেই পবিত্র নবীর মক্কা আগমনের পরই প্রথম ইসলামী সরকার তার কাঠামোগত ভিত্তি পায়।

নবী করিম (সা.)-এর আমলের পরবর্তীকালে ইসলামী শক্তি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, সকল অঙ্গনেই তার দৃপ্ত পদচারণার স্বাক্ষর রাখে। হযরত আলী (আ.) তাঁর চার বছরের শাসনামলে ইসলামী সরকারের স্বরূপকে আরো বিস্তৃত পরিসরে ব্যাখ্যা করেন। হযরত আলী (আ.) তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও রাজনীতিক মালিক আশতারের কাছে রাজ্য শাসনের ওপর যে ঐতিহাসিক সনদ লিখে পাঠান তাতে তিনি একটি ইসলামী সরকারের স্বরাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন- খুব কম মুসলমান আছে যারা এই ঐতিহাসিক সনদ সম্পর্কে জানেন না।

এটা এমন এক সনদ যাতে ইসলামী সরকারের রূপরেখাকে যথাযথ ও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। এটা এমন এক সনদ যার মর্ম উপলব্ধি করে জ্ঞানীরা লাভবান হতে পারেন।

ইসলামী সরকারের নীতিমালা

ইসলামী সরকার দর্শনে মানুষ হলো এক উন্নত চরিত্রসম্পন্ন মর্যাদাশীল প্রাণী। জগতের সবকিছুই মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে। কাজেই সমস্ত পরিকল্পনা কর্মসূচি হবে মানুষের এই উন্নত চরিত্র ও নৈতিকতাবোধকেন্দ্রিক। এভাবেই মানুষ খোদায়ী পরিচিতি এবং তাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্যের মর্ম উপলব্ধি করে তার ওপর আরোপিত ঐশী কর্তব্যগুলো সম্পাদন করতে পারে।

এমনকি ইসলামী সরকারাধীন অমুসলিমদের সাথেও এমন ব্যবহার করতে হবে যাতে তাদের মানবীয় মূল্যবোধগুলো চাঙ্গা হয় এবং এক সময় ইসলামের একত্ববাদের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। নাস্তিক্যবাদী মুশরিক, এমনকি আহলে কিতাবদের সাথে ইসলামী সরকারের আচরণ সম্পর্কে ইসলামে বিস্তৃত আলোচনা আছে। এ বিষয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গঠনতন্ত্রের আর্র্টিকেল-১-এ আলোকপাত করা হয়েছে।

(ক) ইসলামী সরকারের ভিত্তি দেশের ইসলামী জনতার ওপর নির্ভরশীল। রাসূলের নবুওয়াত ও ইমামতের প্রতি মুসলিম জনতার বিশ্বাসের ওপরই ইসলামী সরকারের ভিত্তি নিহিত। কেননা, রাসূলের কাছে আসা খোদায়ী বিধানের ভিত্তিতেই ইসলামের পরিচিতি। ইসলামী প্রজাতন্ত্রে সরকার কাঠামো জনতার পছন্দের ধর্মীয় নেতার ওপর নির্ভর করে। এই নেতা আবার ধর্মীয় মাপকাঠির ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য নির্বাচন, পরামর্শ পরিষদের সদস্য নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সবধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইসলামী শরীয়তের ভিত্তিতে হয়। গঠনতন্ত্রের চতুর্থ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ে উল্লেখ আছে। যেখানে বলা আছে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সকল আইন-কানুন ইসলামের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে।

(খ) ইসলামী সরকার খোদায়ী বিধান বাস্তবায়নে আপোষহীন। ইসলামী সরকার কোন অবস্থাতেই কোন ইসলামী বিষয়ে ইসলামের শত্রুদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। ইসলাম ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার্থে, তার উন্নতিকল্পে এবং তা ধরে রাখতে ইসলামী সরকার আত্মরক্ষা, জিহাদ, তাবলীগ (ইসলামের প্রচার), ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ প্রভৃতি নীতিতে বিশ্বাসী।

বিভিন্ন ইসলামী রচনাবলিতে এসব নীতির বিশদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

(গ) ইসলামী সরকারের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায়পরায়ণতা এবং এই ন্যায়পরায়ণতা হবে যথার্থ অর্থে। এ প্রেক্ষিতে ইসলামী সরকার দেশের সকল প্রাণী ও বস্তুর ন্যায্য প্রাপ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়। নিশ্চিত সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো যাতে সকল নাগরিক সমভাবে ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করে। এরূপ সরকার সর্বদা জনতাকে খোদায়ী পথে পরিচালনায় নিবেদিত থাকে।

ইসলামী সরকারের উদ্দেশ্যাবলি

খোদার নবীর রেখে যাওয়া পথ ও মত অনুসরণই ইসলামী সরকারের মূল উদ্দেশ্য। ইসলামী সরকারের মহান উদ্দেশ্যাবলির কতিপয় উদ্দেশ্য নিচে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো :

-মানুষকে খোদায়ী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা যাতে সে এক উন্নত মানবীয় জীবনযাপন করতে পারে।

-প্রকৃতিকে মানবসেবায় ব্যবহার করা যাতে মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদাদি ব্যবহার করে অধিকতর সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারে।

-রক্তপাত, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, হঠকারিতা ব্যাভিচার, বিদ্রোহ এবং এ জাতীয় যাবতীয় পাপকাজের বিরোধিতা করা এবং যে পর্যন্ত এসব পাপাচার ও অনাচার দুনিয়ার বুক থেকে তিরোহিত না হয় সে পর্যন্ত এগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।

এ পর্যন্ত আমরা যা আলোকপাত করেছি, তা হলো একটি ইসলামী সরকারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আমরা এখন সংক্ষেপে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার কাঠামোর ওপর সংক্ষেপে আলোকপাত করব।

ইরানের সরকার হলো একটি ইসলামী সরকার। অধিকাংশ জনমতের ভিত্তিতে এরূপ সরকার গঠন করা হয়। ৯৮.২ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক লোক ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দেয়। এই একচেটিয়া রায় থেকে এটাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইরানের জনতা ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোন শাসনব্যবস্থার অধীনে যেতে রাজি নয়।

এটা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার যে, এই প্রজাতন্ত্রের সিংহভাগ জনতা পবিত্র নবীর রেখে যাওয়া সত্যিকার ইসলামকে গ্রহণ করেছে। তারা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ও পবিত্র আহলে বাইত কর্তৃক বিবৃত ইসলামকেই গ্রহণ করেছে। কাজেই এ ইসলাম কোন বিশেষ গোষ্ঠীর মনগড়া ব্যাখ্যার সংকীর্ণতার বেড়াজালে বন্দি নয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গঠনতন্ত্রে এরূপ ইসলামের কথাই বলা হয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গঠনতন্ত্রে সরকারের ভিত্তির প্রকৃতি, এর বৈশিষ্ট্যাবলি, উদ্দেশ্যাবলির সারসংক্ষেপ আলোকপাত করা হয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯৭৯ সালের ২রা এপ্রিলের গণভোটে প্রজাতন্ত্রের সরকার কাঠামো নির্ধারিত হয়। এই সরকারের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই)। এই সরকার কাঠামোর মুখ্য উদ্দেশ্য হলো নবুওয়াত, পুনরুত্থান, ইমামত, ইজতিহাদ, (কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে মুজতাহিদ কর্তৃক কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান), বিজ্ঞানের অগ্রগতি থেকে লাভবান হওয়া এবং সব ধরনের অত্যাচারী শাসন, অন্যায়, অনাচার, বিদেশী প্রভাব ইত্যাদির বিরোধিতা করা।

এ সরকার ন্যায়বিচার, সমঅধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও নিবেদিত। প্রজাতন্ত্রের সকল আইন-কানুন ইসলামী নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যশীল।