বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী নৈতিকতা পুনরুজ্জীবনে ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর অবদান

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০১৫ 

news-image

ড. এম এ আনজালদুস মোরেলিস

মানব জীবন ও ইতিহাসের ওপর ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর প্রভাব চলতি শতাব্দী এবং এর পূর্বেকার বহু শতাব্দীর যে কোন ব্যক্তিত্বের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী। আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি যে, তাঁর আবির্ভাবের পূর্ব ও পরবর্তীকালে মানব সমাজের অবস্থা বহু দিক বিচারে অভিন্ন নয়।

ইমাম খোমেইনী (রহ.) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, আচরণ, রাজনীতি, নেতৃত্ব ও যুদ্ধবিগ্রহ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন দিকে মান নির্ণয় করে গেছেন। অবশ্য এই মান নতুন কিছু নয়। তিনি তা নতুনভাবে আবিষ্কারও করেননি। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের এসব মান মহানবী (সা.) সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত ও নির্দেশিত করে গেছেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রত্যাদিষ্ট ও কুরআনে প্রকাশিত নির্দেশাবলি মান্য করে চলতেন।

ইদানীং সমগ্র বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম সমাজ ইসলামী মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও মানদণ্ড ভুলে গেছে বা সেগুলোর ব্যাপারে অজ্ঞতার মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। আর এসবের জায়গায় স্থান নিয়েছে উপনিবেশবাদী পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া মানদণ্ড। এই পশ্চিমা উপনিবেশবাদীরা ইসলামী বিশ্বকে জবর দখল করেছে, এর সম্পদরাজি লুণ্ঠন করেছে, এর বাসিন্দাদের দাসে পরিণত করেছে এবং এর মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির ধ্বংসসাধন করেছে। আর নির্লজ্জভাবে চার হাতপায়ে নতজানু হয়ে শাসকদের পদচুম্বনকারী, হাদীস বিকৃতকারী এবং প্রভুদের খেয়ালখুশি মোতাবেক কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী দরবারি আলেমদের দ্বারা তাদের এসব কার্যকলাপকে ন্যায়সঙ্গত বলে সমর্থন করিয়ে নিয়েছে।

ইমাম খোমেইনী (রহ.) ইসলামী উম্মাহকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, তাদেরকে ইসলামী মূল্যবোধ ও রীতিনীতি শিক্ষা দিয়েছেন এবং পরাশক্তি বলে কথিত পশ্চিমা ও বস্তুবাদীদের প্রাধান্য খর্ব করেছেন। সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, সমস্যা ও বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে প্রমাণ করে তিনি দেখিয়ে গেছেন যে, একটি জাতি কিভাবে টিকে থাকতে পারে। কেননা, ইসলামী জীবনযাপনই হচ্ছে আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার একমাত্র পন্থা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও কবুল করা হবে না এবং সে হবে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আলে ইমরান ; ৮৫) পবিত্র কুরআনের এই বাণী মোতাবেক কেউ সাফল্য অর্জন করলে শয়তান অসন্তুষ্ট হয়, তাই সবসময় সে বান্দার ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করে।

নৈতিকতা একটি সমাজে সুখের জন্য অপরিহার্য। আর মহানবী (সা.) প্রদত্ত শিক্ষা এবং ইমাম খোমেইনী (রহ.) কর্তৃক পুনরুজ্জীবিত ইসলামী নৈতিকতা সঠিক জীবন যাপনের একমাত্র পন্থা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যে আদেশ দিয়েছেন, হাদীসের মাধ্যমে মহানবী (সা.) যে বাণী প্রকাশ করে গেছেন এবং আহলে বাইতগণ যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন সে মোতাবেক যে জীবন্ত ইসলামী নীতিবিধান তৈরি হয়েছে ইসলামী নৈতিকতা তা ছাড়া আর কিছু নয়।

নৈতিকতা খোদা ও তাগুতের মধ্যে পার্থক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। সততা বা ভালো কর্মের স্বীকৃতি দিতে হবে, তার আনুকূল্য দান করতে হবে এবং তার বিকাশ ঘটাতে হবে। পক্ষান্তরে অসৎ বা মন্দ কর্মকে চিহ্নিত করতে হবে, তার নিন্দা করতে হবে এবং মানব জীবনের সকল কর্মকাণ্ড ও বিষয়াদিতে তা নিষিদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সকল নবী-রাসূলের মাধ্যমে মানব সমাজের কাছে এই পার্থক্য তুলে ধরেছেন এবং একটি নৈতিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনামূলক নীতি তাদের মনে জাগরুক রেখেছেন। এছাড়া, মহানবী (সা.)-এর পরে যেহেতু আর কোন নবীর আবির্ভাব হবে না তাই আল্লাহ তাআলা জনসাধারণকে নৈতিকতা সম্পর্কে সজাগ রাখার জন্য ইমামদেরকে নিয়োগ করেন।

অবশ্য, ইদানীং মানুষ ধর্মের মৌলিক নীতিমালার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে, সৎকর্মের বিরোধিতা করছে এবং অসৎকর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রে নৈতিক উৎকর্ষ উপেক্ষিত হচ্ছে এবং নৈতিকতাসম্পন্ন ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে উপহাস ও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। অপরদিকে কপট, দুর্নীতিপরায়ণ ও মিথ্যাবাদী লোকেরা প্রশংসিত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের আদর্শ নমুনা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই নৈতিক অবক্ষয় একান্তভাবে কেবল অমুসলিম দেশে সংঘটিত হচ্ছে তাই নয়, সকল মুসলিম সমাজেই নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর গতি অমুসলিম দেশসমূহের তুলনায় মুসলিম দেশসমূহেই বেশি। এর কারণ কী? অমুসলিমরা তো সত্যের সকল দিক সম্পর্কে অবগত নয় এবং যেহেতু তাদের সামনে সমগ্র বিষয়টি উদ্ভাসিত করা হয়নি, সেহেতু তারা সকল কিছু প্রত্যাখ্যানও করেনি। অথচ মুসলমানরা তো চৌদ্দশত বছর ধরে চূড়ান্ত সত্যকে জেনে আসছে এবং সে মোতাবেক তাদেরকে জীবন যাপন করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং তারা যখন এটি প্রত্যাখ্যান করে তখন তা সচেতনভাবেই করে এবং খোদা ও তাঁর শিক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করার মানসেই করে। আর এই নৈতিক অবক্ষয়ের মাধ্যমেই তারা আনয়ন করে খোদার অভিশাপ। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি; কারণ, তারা মিথ্যাচারী। তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’, তারা বলে, ‘আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী।’ সাবধান! এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু এরা বুঝতে পারে না। যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘যেসব লোক ঈমান এনেছে তোমরাও তাদের মতো ঈমান আন’, তখন তারা বলে, ‘নির্বোধ যে রকম ঈমান এনেছে আমরাও কি সে রকম ঈমান আনব?’ সাবধান! এরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা বুঝতে পারে না। যখন তারা মুমিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করেছি’, আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই রয়েছি; আমরা শুধু তাদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি।’ আল্লাহ তাদের সাথে তামাশা করেন, আর তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন। এরাই হেদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি, তারা সৎপথেও পরিচালিত নয়।’ (সূরা বাকারা : ১০-১৬)

আমরা যদি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুশীলন করতে মনোযোগী না হই এবং আমাদের যদি বাহ্যিক ও মাঝামাঝি পর্যায়ের চিন্তা থাকে তাহলে আমরা মুসলমান হওয়ার দাবি করতে পারি না। আমরা কি আমাদের প্রতিবেশীদের সম্মান করি? মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে ঘুমাতে চায় সে মুমিন নয়।’ জ্ঞান অর্জনের তাকিদ দিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন : ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অনুসন্ধান করো।’

আমরা কোন হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ করি না- এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাদের প্রতিটি কাজকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। হারাম নয় অথচ হারামের দিকে প্ররোচিত এমন কিছুও আমাদেরকে অবশ্যই পরিহার করতে হবে। যেমন- খারাপ পরিবেশ, খারাপ সংস্পর্শ ও খারাপ উদ্দেশ্য।

প্রতিদিন আমাদের আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে এবং অনুসন্ধান করে দেখতে হবে যে, আমরা ছোট মনে করি এমন কোন পাপ সেখানে বিরাজ করছে কিনা। কেননা, এসব ছোট ছোট পাপ বড় বড় পাপের রূপ নিয়ে বিস্তার লাভ করতে পারে, তাই অবশ্যই তা পুরোপুরি পরিহার করা দরকার। ছোট ছোট পাপ আত্মার অসুস্থতা সৃষ্টি করে, বড় বড় পাপের দিকে প্ররোচিত করে এবং ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অহমিকা, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, ক্রোধ, আলস্য, লোভ ও মাত্রাতিরিক্ত পানাহার ইত্যাদি বড় পাপ এবং এসব মানুষকে অসৎকর্মের দিকে প্রলুব্ধ করে। ইসলামের নিম্নোক্ত নৈতিক গুণাবলির মাধ্যমে সেগুলোর মোকাবিলা করা যায়। যেমন- বিনয়, প্রেম, পরোপকার, সুধারণা, ধৈর্য, সৎকর্ম, মিতব্যয় ইত্যাদি।

পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এসব সদগুণ শিক্ষা দিয়েছেন। ইমাম খোমেইনী (রহ.) বিশ্বের সামনে এইসব সদগুণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং দেখিয়ে গেছেন যে, বর্তমান বিশ্বেও এর প্রয়োজনীয়তা কত তীব্র! তিনি কেবল কথা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখনী ও সাহিত্যের মাধ্যমেই এ শিক্ষা দেননি; বরং দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁর ধৈর্য ছিল দৃষ্টান্তমূলক ও প্রভাব বিস্তারক। সে কারণে ইরানের জনগণ নানা প্রতিকূলতা ও বিপর্যয়ের মধ্যেও অধিকতর ধৈর্যশীল হতে পেরেছে। ইমাম খোমেইনী (রহ.) ও তাঁর ইরানী জাতি কারবালার শহীদদের এক জীবন্ত প্রতীকে পরিণত হয়। ইমাম হোসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও অনুসারিগণ যেভাবে ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন সেভাবেই ইমাম খোমেইনী (রহ.) ও তাঁর জনগণ হামলা, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জানমালের ক্ষতি, মিথ্যা অপবাদ ও সমালোচনা ইত্যাদির সম্মুখীন হয়।

মানবতার প্রতি ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর ভালোবাসা ছিল প্রচুর। সকল মানুষের জন্যই তিনি ভালো আনয়ন করেন, কেবল ইরানীদের জন্য নয়। ইমাম খোমেইনীর কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ উপকৃত হয়েছে। ইরান, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, আফ্রিকা তথা বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করে এবং তাঁর থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। তিনি সকলের জন্য দোয়া করতেন। গোটা মানবতার জন্য তিনি ছিলেন এক আশীর্বাদ।

ইমাম খোমেইনীর উত্তম চরিত্র ও খোশমেজাজ সম্পর্কে সকলেই ছিলেন সম্যক অবহিত। শিশু ও দরিদ্র কৃষক থেকে শুরু করে সুশিক্ষিত পণ্ডিত ও বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করত। ইমাম খোমেইনী ছিলেন অত্যন্ত দয়ার্দ্র হৃদয়, কিন্তু দৃঢ়চেতা। তাঁর শত্রু ও আক্রমণকারীদের বেলায়ও তাঁর এই বৈশিষ্ট্যের ব্যত্যয় ঘটতো না।

যে কোন লোকের তুলনায় ইমাম খোমেইনী বেশি পরিশ্রম করতেন। তিনি তাঁর দেশবাসী ও মুসলিম বিশ্বের সমস্যার ব্যাপারে সবসময় মনোযোগী থাকতেন। তিনি কখনই ব্যক্তিগত বৈষয়িক সুবিধা অর্জন করেননি; বরং একটি অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তাঁর বাসগৃহ ছিল সাধারণ ইরানীদের বাসগৃহের চেয়েও সাধারণ। তিনি কখনই বিলাস পছন্দ করতেন না এবং সবসময় তোষামোদ ও পার্থিব সম্মান এড়িয়ে চলতেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে, সকলেরই সুখে থাকার প্রয়োজন রয়েছে এবং ইসলামে তাই বলা হয়েছে। তিনি বস্তুবাদী মানুষদের থেকে সত্যনিষ্ঠ মানুষদের পৃথক করার একটি রেখাচিহ্ন এঁকে গেছেন। তাঁর অনুসারীদেরকেও তাঁর মতো হতে হবে এবং ধনী ও শক্তিশালী লোকদের টেবিল থেকে পতিত হাড় ও রুটির টুকরো নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হওয়া উচিত হবে না।

ইমাম খোমেইনী (রহ.) সবসময় কেবল ইসলামের বাণী প্রচার করে গেছেন তাই নয়, তিনি ইসলামের সত্যকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতেন। ইসলামী সত্যের একজন প্রেমিক হিসাবে তিনি ইসলামের সেবা করতে গিয়ে কোন ত্যাগ স্বীকারে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি এই প্রেমে তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। যুবক বয়সে ইমাম খোমেইনী (রহ.) তাঁর এক চাচাকে তাঁর জন্য একটি মেয়ের সাথে বিয়ের আয়োজন করতে বলেন। কেননা, কিশোর বয়সেই ইমাম খোমেইনীর পিতৃবিয়োগ ঘটে। মেয়েটিকে যখন বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন মেয়েটি এই প্রস্তাব এই বলে অপছন্দ করে যে, তিনি (ইমাম খোমেইনী) ধর্মকে খুব বেশি ভালোবাসেন। তাই সে এই বিয়ের মাধ্যমে সুখী জীবন যাপন করতে পারবে না। সে রাতে স্বপ্ন দেখে যে, মহানবী (সা.) তাঁকে বলছেন : ‘তুমি কেন আমার সন্তানকে অস্বীকার করছ?’ পরের দিন সকালে সে তার পিতামাতাকে বলে : ‘আমি তাঁকে বিয়ে করব।’ এই মহিলাই ছিলেন ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর সারা জীবনের প্রিয় সঙ্গিনী এবং তিনি  সমগ্র জীবন ধরে তাঁর সঙ্গে সত্যের সন্ধানে যাবতীয় কষ্ট ও কাঠিন্য ভোগ করেছেন।

ইমাম খোমেইনী (রহ.) মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধকে জাগ্রত করে গেছেন এবং সমগ্র বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন যে, কোন ব্যক্তি ইসলাম অনুযায়ী সুখী জীবন যাপন করতে পারে এবং ইসলামই হচ্ছে সকল যুগের সকল মানুষের জন্য সঠিক জীবনপন্থা। তিনি আমাদেরকে সকল নবী-রাসূলের মাধ্যমে প্রেরিত এবং পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে চিরতরে প্রতিষ্ঠিত খোদার শাশ্বত ও সত্য আইন স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর রুহকে রহমত দ্বারা সিক্ত করেন, তাঁর কর্মপ্রচেষ্টা কবুল করে পুরস্কার ও সান্ত্বনা দান করুন, তাঁর অনুসারীদের তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ এবং তাঁর উত্তরাধিকারকে রক্ষা ও সাহায্য করার অনুপ্রেরণা দান করুন এবং তাঁর সাধনার ফল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে হেফাজত করুন।