বৃহস্পতিবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামি পর্যটনের রাজধানী ইরানের তাবরিজ

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৭, ২০১৮ 

news-image

ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর তাবরিজ। ২০১৮ সালের জন্য ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ইরানের ঐতিহাসিক এ শহরটি। এ উপলক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক ভাবে গত জানুয়ারিতে ‘তাবরিজ ২০১৮’ নামের একটি ইভেন্টের উদ্বোধন করেছে দেশটি। আগামী ফার্সি নববর্ষে (২১ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এই ইভেন্টের। এতে যোগ দেবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও কয়েকটি মুসলিম দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ওই ইভেন্টের উদ্বোধনীতে ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী আব্বাস সালেহি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার (আইসিএইচএইচটিও) প্রধান আলি আসগর মুনেসান, ইরানের পার্লামেন্ট ‘মজলিসে’র প্রথম ডিপুটি স্পিকার মাসুদ পেজেশকিন, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর জেনারেল মজিদ খোদাবাখস, তাবরিজ ইরাজ শাহিন-বাহেরের মেয়র ও কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত যোগ দেন। এতে তাবরিজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে লোক সঙ্গীত ও নৃত্যও পরিবেশনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী তাবরিজ শহরের নানা গুরুত্ব তুলে ধরেন। মূলত যেসব যোগ্যতা শহরটিকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানীর মর্যাদা এনে দিয়েছে সেসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি। একইসাথে অন্যান্য শহরের জন্য তাবরিজ একটি মডেল শহর হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

‘‘বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইরানের সংস্কৃতির সঙ্গে সেতুবন্ধন করবে তাবরিজ’’, বলেন মন্ত্রী।সালেহি আরও জানান, তাবরিজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির প্রতীক হিসেবে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবে। ২০১৮ সালের শেষে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি অমরত্ব লাভের জন্য সীমান্ত ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িযে পড়বে।

‘মজলিসে’র প্রথম ডিপুটি স্পিকার মাসুদ পেজেশকিয়ান শহরটির অতীত গৌরবজ্জল সময়কাল তুলে ধরেন। বলেন, বিশ্বের সঙ্গে ভাব বিনিময় বৃদ্ধি করতে গৌরবজ্জল ওই সময়কার সফল অভিজ্ঞতা আজকের দিনে কাজে লাগানো যেতে পারে।

আইসিএইচএইচটিও প্রধান আলি আসগর মুনেসানও তার বক্তব্যে ‘তাবরিজ ২০১৮’ ইভেন্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, ২০১৮ ইভেন্ট চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। তবে তাবরিজ শহরের অধিকতর উন্নয়নের জন্য এটা একটি শুরুর স্থান মাত্র। আমাদের বিস্তৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জনে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

তিনি জানান, ইরানের পাঁচটি সেরা পর্যটন গন্তব্যের মধ্যে পূর্ব আজারবাইজান অন্যতম। চলতি ইরানি বছরের প্রথমার্ধে সেখানে তিন লাখ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬ শতাংশ বেশি।

তিনি বলেন, তাবরিজে ১৮শ জাতীয় ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় এলাকা রয়েছে। যেসব জায়গায় ইরানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই ভ্রমণ করেছে।

মুনেসান আরও জানান, তাবরিজ শহরের সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসের মূল্যবান সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবসর এবং প্রকৃতি পর্যটনের জন্য এর ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে। জাতীয় লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি ইসলামি সম্মেলন সংস্থা ওআইসি যেসব লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন শহরকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করে ইরান যেসব সাধারণ লক্ষ্যও পূরণ করবে।

তিনি বলেন, ওআইসি সুনির্দিষ্টভোবে ইসলামি পর্যটনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই ইসলামি পর্যটকদের কাছে তাবরিজকে একটি আদর্শ গন্তব্য প্রমাণিত করতে অতীতে যেসব শহরকে ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে সেসব শহরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীদের নবম সম্মেলনে তাবরিজকে ২০১৮ সালের ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালে সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা শহর ও ২০১৬ সালে তুরস্কের কোনিয়া শহর ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে মনোনীত হয়।

২০১৮ সালের ইতোমধ্যে কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ফার্সি নববর্ষে (২১ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ইভেন্টটি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয় কথা রয়েছে। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও কিছু সংখ্যক মুসলিম দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগ দেবেন।

সূত্র: ফিনানসিয়াল ট্রিবিউন।