রহমত: ইমাম মাহদি- আ. ও নবী ঈসার আবির্ভাব যুগের মূল স্তম্ভ
পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”-পরম করুণাময় ও অনন্ত দাতা মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি-শীর্ষক বাক্য পবিত্র কুরআন ও অন্যান্য ঐশী গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণীর সূচনা হিসেবে শুধু একটি শুরুই নয়; একইসঙ্গে এক বিশ্বজনীন ঘোষণা, যা প্রমাণ করে যে ঐশী রহমতই সকল মুক্তি-আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। হজরত মাহদি (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.)-এর দর্শনে এই নীতি কেবল একটি স্লোগান নয়, একইসঙ্গে আবির্ভাবের যুগ ও মানবজাতির মুক্তির জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তিও বটে।
শেষ ত্রাণকর্তা বা ইমাম মাহদি-আ’র আবির্ভাব মানব ইতিহাসের শীর্ষবিন্দু; এটি এমন এক মুহূর্ত, যখন ন্যায়, আধ্যাত্মিকতা ও সত্য পৃথিবীজুড়ে বিকশিত হবে। কিন্তু এই মহা-রূপান্তরকে সম্ভব করে তোলে শুধু শক্তি বা কঠোরতা নয়; বরং রহমতের বিস্তার। রহমত মানে হৃদয় উন্মুক্ত করা, বিদ্বেষ দূর করা এবং মানুষকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা।
হাদিসগ্রন্থসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, বিশেষত মহানবীর (সা) পবিত্র আহলে বাইতের অনুসারীদের বক্তব্য ও লেখালেখি অনুযায়ী, হজরত ইমাম মাহদি (আ.)’ রহমতের দর্শনে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলবেন, যেখানে ন্যায়বিচার হবে দয়া-ভিত্তিক; ন্যায়বিচার কেবল দুষ্টদের শাস্তি দেয়া নয়, একইসঙ্গে ক্ষত সারিয়ে তোলা ও ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করারও মাধ্যম।
হজরত ঈসা (আ.)-ও প্রতিশ্রুত ত্রাণকর্তাকে সহায়তা করতে একই রহমতের চেতনায় মানুষের মধ্যে ভেঙে-যাওয়া সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করবেন এবং ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ভাষায় শান্তির বার্তা পুনরায় উচ্চারণ করবেন। এই দুই মহান সত্তা প্রকৃতপক্ষে একই সত্যের দুই প্রকাশ—ঐশী রহমত। যেমন প্রতিটি ঐশী কর্মের সূচনায় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” উচ্চারিত হয়, তেমনি আবির্ভাবের যুগের শুরুতেও এই আয়াত মানবজীবনে বাস্তব রূপে প্রতিফলিত হবে। সুতরাং রহমত শুধু একটি নৈতিক শক্তি নয়, একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ ঐশী সভ্যতার চালিকাশক্তি; যে সভ্যতা তাওহিদ, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানব মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হবে।
অতএব, আবির্ভাবের দর্শনকে রহমতের দর্শন বলেই গণ্য করতে হবে; এটি এমন এক দর্শন, যা অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে বর্জনের পরিবর্তে আলিঙ্গনের কথা বলে; ভয়ের পরিবর্তে আশা সৃষ্টি করে; ক্ষতের পরিবর্তে আরোগ্য সাধন করে। একই সঙ্গে অশুভ ও অত্যাচারের নেতারা ঐশী ন্যায়বিচারের সম্মুখীন হবে, যাতে রহমত ও শান্তির বিস্তারের পথ সুগম হয়। এটাই সেই মহান রহস্য, যা মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বকে সকল মানুষের জন্য একটি বাসভূমিতে পরিণত করবে। #
পার্সটুডে