ক্যাথলিক বিশ্বের শ্রদ্ধেয় নেতা মহামান্য পোপ লিও চতুর্দশের প্রতি ইরানের মিনাব শহরের ১৬৮ জন শহীদ শিক্ষার্থীর মধ্য হতে একদল শোকাহত অভিভাবকের পত্র
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২১, ২০২৬
ক্যাথলিক বিশ্বের শ্রদ্ধেয় নেতা মহামান্য পোপ লিও চতুর্দশ,
আমরা দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের স্কুলগুলোর ছাই ও ধ্বংসস্তূপ থেকে কম্পিত হাতে এবং বেদনাভরা হৃদয়ে আপনাকে এই চিঠি লিখছি। আমরা ১৬৮ জন শিশুর বাবা-মা, যারা আজকাল আমাদের সন্তানদের উষ্ণ শরীরকে আলিঙ্গন করার পরিবর্তে তাদের পোড়া ব্যাগ আর রক্তাক্ত খাতাগুলো বুকে আঁকড়ে ধরে আছি; নিষ্পাপ শিশু, যাদের একমাত্র অপরাধ ছিল শ্রেণিকক্ষে হাসা, কিন্তু এই অপরাধটি আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল অযৌক্তিক যুদ্ধবাজদের প্ররোচনা ও মদতে।
মহামান্য, সেই অন্ধকার দিনগুলিতে যখন বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর শব্দ আমাদের প্রার্থনার প্রতি বিশ্বের কান বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন আপনার শান্তিপূর্ণ কথার প্রতিধ্বনি আমাদের অন্তহীন ক্ষতের জন্য মলমের মতো হয়ে উঠেছিল। যখন আপনি সাহসিকতার সাথে বিশ্বের শক্তিগুলোকে সহিংসতা ও বোমাবর্ষণের মাত্রা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন আমরা আপনার প্রতিটি কথায় আমাদের সন্তানদের বাঁচানোর একটি প্রচেষ্টা দেখতে পেয়েছিলাম; সেইসব অসহায় মানুষ, যাদের জীবন আপনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।
ব্যথিত হৃদয়ে ও দিব্যদৃষ্টিতে আপনি বিশ্বের জাগ্রত বিবেককে সতর্ক করেছিলেন যে, ঘৃণা বাড়ছে, সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আজ মিনাবের শূন্য শ্রেণীকক্ষগুলো এই সত্যের এক তিক্ত সাক্ষী; এমন এক সত্য যা অযৌক্তিক যুদ্ধবাজদের নির্দেশনায় আমেরিকান বোমা তৈরির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল। যুদ্ধের কোলাহলের মাঝে ন্যায়ের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য এবং আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই যে, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব ‘শক্তি ও অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং সংলাপ এবং সকলের জন্য একটি সমাধানের আন্তরিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে।’
আমাদের সন্তানেরা একটি উন্নততর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আর কখনো ঘরে ফিরবে না, কিন্তু শোকাহত পিতামাতা হিসেবে আমাদের কামনা এই যে, আপনাদের ‘অস্ত্র ত্যাগ করো’ বার্তাটি যেন শোনা যায়, বিশেষ করে যখন আমেরিকা এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা তাদের বাড়াবাড়ির মাধ্যমে এই অপরাধের আগুনে ঘি ঢালছে। আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা যেন এই কণ্ঠহীন শিশুদের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকেন এবং ‘আলোচনার সকল পথ’ উন্মুক্ত করার জন্য কাজ করে যান, যাতে আর কোনো অস্ত্র তৈরি না হয় এবং এই গ্রহের কোথাও কোনো পিতামাতাকে যেন তাদের সন্তানের কবরের শীতল পাথরের ওপর শুয়ে রাতে ঘুমপাড়ানি গান গাইতে বাধ্য হতে না হয়।
অসীম ও গভীর দুঃখের সাথে
মিনাব শহরের ১৬৮ জন শহীদ শিক্ষার্থীর একদল শোকাহত অভিভাবক।