ঐতিহাসিক সিরাফ বন্দরকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর্যালোচনার জন্য ইউনেস্কোর কাছে নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে
পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
তেহরান — ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক সিরাফ বন্দরকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য স্বীকৃতির জন্য পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মনোনয়ন নথি জমা দিয়েছে বলে বুধবার দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক উপমন্ত্রী জানিয়েছেন।
আলি দারাবি বলেন, জাতীয় বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর অনুমোদনের পর নথিপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কোতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, সাসানীয় যুগ থেকে শুরু করে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ভারত মহাসাগর ও উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে প্রাচীন ইরানের সংযোগস্থল হওয়ায় সিরাফকে মনোনয়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাচীন বিশ্বের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে সিরাফ একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে এবং এটি ইরানের অর্থনৈতিক শক্তি, নৌচালনা দক্ষতা ও আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগের প্রতীক ছিল।”
দারাবি জানান, এই স্থানে ৫,০০০-এরও বেশি শিলাকাটা স্থাপনা রয়েছে, যা তিনি ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভৌত নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী যুগের প্রথম শতাব্দীর সিরাফের গ্র্যান্ড মসজিদ তার নকশা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রারম্ভিক ইসলামী স্থাপত্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
এই কর্মকর্তা বন্দরের ধাপযুক্ত স্থাপত্য বিন্যাসের কথাও তুলে ধরেন, যা এলাকার প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত এবং পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের প্রতিফলন।
দারাবি জানান, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পানি সরবরাহ করে আসা ১৫০টিরও বেশি সক্রিয় কূপের উপস্থিতি ঐতিহাসিক বন্দরের উন্নত প্রকৌশল জ্ঞান ও জল ব্যবস্থাপনার প্রমাণ বহন করে।
তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক, স্থাপত্যিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্যের কারণেই জাতীয় বিশ্ব ঐতিহ্য নিবন্ধন নীতিনির্ধারণী পরিষদ সিরাফকে ইউনেস্কোতে মনোনয়নের জন্য “অসাধারণ সার্বজনীন মূল্য”সম্পন্ন স্থান হিসেবে নির্বাচন করেছে।
দারাবি আশা প্রকাশ করেন, সিরাফের সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপনা সংক্রান্ত পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং নিকট ভবিষ্যতে স্থানটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
সাসানীয় যুগ থেকে চতুর্থ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত সিরাফ ছিল ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং নবম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে পশ্চিম এশিয়া, ভারত, দূরপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্যে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করে।
১৯৬৬ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব পার্সিয়ান স্টাডিজ সিরাফে সাতটি প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও জরিপ পরিচালনা করে, যেখানে পারস্য উপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত একটি বৃহৎ বন্দর নগরীর বিস্তৃত নিদর্শন শনাক্ত করা হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রারম্ভিক ইসলামী যুগে সিরাফের জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখে পৌঁছেছিল, যেখানে বর্তমানে আধুনিক শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৭,০০০।
বুশেহর প্রদেশে অবস্থিত এই প্রাচীন বন্দরটি এলামীয়, আখেমেনিদ, পার্থীয়, সাসানীয়, ইসলামী ও কাজার যুগের অসংখ্য ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের আবাসস্থল।
সূত্র: তেহরান টাইমস