এই প্রথম অচল স্টারলিংক বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ইরান
পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংকের ইন্টারনেট কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। মার্তিন ধনকুবের ইলন মাস্কের এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবাকে জ্যাম করা বা বাধা দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে এতদিন মনে করা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উস্কানিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মধ্যে গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে ইরান সরকার। তারপরেও বিক্ষোভে ইন্ধন দেয়ার জন্য স্টারলিংক বিনামূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে শুরু করে। কিন্তু তাদেরকে হতবাক করে দিয়ে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
ইরানের এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘মিয়ান গ্রুপ’-এর ডিজিটাল অধিকার বিষয়ক পরিচালক আমির রাশিদির মতে, গত ৮ জানুয়ারি থেকে মোতায়েন করা সামরিক-গ্রেড জিপিএস (জিপিএস) জ্যামারগুলো দেশটির কিছু অংশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কার্যকারিতা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি মূলত ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এবং ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করে। তেহরান বর্তমানে একটি ‘হোয়াইট লিস্ট’ বা শ্বেততালিকা ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে সরকারপন্থী গণমাধ্যমগুলো বেছে বেছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেলেও সাধারণ নাগরিকরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকছেন। এমনকি যখন পুরো ইরান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কবলে, তখনও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে।
স্টারলিংক মূলত এই ধরনের সেন্সরশিপ মোকাবিলা করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছিল। হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট, পরিবর্তনশীল ফ্রিকোয়েন্সি এবং ভূ-কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায় এটি অধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতিতে থাকা সামরিক বাহিনীর জন্য এক চূড়ান্ত ভরসা হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া এই স্যাটেলাইট পরিষেবা জ্যাম করার চেষ্টা করেছিল। তখন স্পেস-এক্স দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে। কিন্তু মনে হচ্ছে, মস্কো যেখানে ব্যর্থ হয়েছিল, তেহরান সেখানে সফল হয়েছে।
স্পেস-এক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর সেখানে টার্মিনাল পাঠিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালে মাহসা আমিনি প্রোটোস্টের সময় ইরানের ওপর বিম সক্রিয় করেছিলেন। তখন থেকে এই পরিষেবাটি ‘সেন্সরশিপ-মুক্ত’ সংযোগের সমার্থক হয়ে ওঠে। ইরান এখন সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। স্টারলিংক টার্মিনালগুলো স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হতে জিপিএস সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে। এই সিগন্যালে বিঘœ ঘটিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ সরাসরি স্যাটেলাইট স্পর্শ না করেই ডিভাইসগুলোকে অকেজো করে দিচ্ছে।
ইরান ওয়্যার-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবার। চীন অথবা রাশিয়া থেকেই তা সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে যে জিপিএস জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা কৃত্রিম উপগ্রহের সিগনালকে দুর্বল করে দেয়। ২০১৪ সাল থেকে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সূচনা ঘটলে ওই প্রযুক্তির মাধ্যমেই আমেরিকার পাঠানো জিপিএস, স্টারলিংক প্রযুক্তি, ড্রোন পরিষেবা বিকল করে দেয় তারা। চীনও ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। বাইদু স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি, অ্যান্টি-জিপিএস প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে তারা। সূত্র : রয়টার্স।