রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের সমর্থনে এবং আগ্রাসী মার্কিন-জায়নবাদী জোটের সাথে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার নিন্দা জানিয়ে মুসলিম আলেমগণের যৌথ বিবৃতি

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২৯, ২০২৬ 

news-image

পরম করুণাময় ও দাতা আল্লাহর নামে।

হে ঈমানদারগণ! কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের কাছাকাছি অবস্থান করে তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন। (সূরা তাওবা: ১২৩)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নির্যাতিতদের সাহায্যকারী এবং অত্যাচারীদের দমনকারী। দয়ার নবি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ, তাঁর পরিবার, তাঁর সাহাবিগণ এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা ন্যায়ের সাথে তাঁকে অনুসরণ করে, তাদের সকলের উপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক।

মহৎ ও জাগ্রত জাতি এবং ইসলামী দেশগুলোর অভিজাত ব্যক্তিবর্গ ও শাসকগণ

ইতিহাসের এই সংকটময় মুহূর্তে, যখন আগ্রাসী আমেরিকান-জায়নবাদী জোট সকল মানদণ্ড লঙ্ঘন করে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করেছে, তখন নীরব থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা, ইসলামী মাযহাবের একদল আলেম এবং শরীয়তের সেবকগণ, এই ঐশী বাণীর উপর ভিত্তি করে যে, ‘যারা আল্লাহর বার্তা বহন করে এবং তাঁকে ভয় করে ও আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না’ (আল-আহযাব: ৩৯) সর্বশক্তিমান আল্লাহ এবং ইসলামী উম্মাহর সামনে আমাদের দৃঢ় ধর্মীয় ও আইনগত অবস্থান নিম্নরূপভাবে ঘোষণা করছি:

১. মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা এবং ইরানকে সমর্থন করার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা

ইসলামী ভূখণ্ডের কোনো অংশে আক্রমণ করা সমগ্র জাতির উপর আক্রমণের সমান। ইসলামী মাযহাবের ফকীহদের ঐকমত্য অনুসারে এবং কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের উপর ভিত্তি করে:  ‘আর যদি তারা তোমাকে দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করে, তবে তোমার উপরই বিজয়’ (আনফাল: ৭২); ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই’ (আল-হুজুরাত: ১০); এবং মহানবির হাদিসসমূহের উপর ভিত্তি করে যে, ‘মুমিনরা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতিতে একটি একক দেহের মতো; যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন শরীরের  সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অনিদ্রা এবং জ্বরে ভোগে’ (ইবনে হাম্বলের মুসনাদ: ৬/৩৭৯/১৮৪০৮); ‘একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের ভাই; সে তার প্রতি অবিচার করে না এবং তাকে পরিত্যাগও করে না’(সহীহ আল-বুখারী: ২/৮৬২/২৩১০ এবং খণ্ড ৬/২৫৫০/৬৫৫১)- মুসলিম ভূমির উপর শত্রুর আক্রমণের ক্ষেত্রে মুসলিম ভাইদেরকে রক্ষা করা এবং সমর্থন করা ওয়াজিবে আইনী।

২. আগ্রাসী শত্রুকে সহায়তা করার সম্পূর্ণ নিষেধ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শক্ৰকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করো না,’ (মুমতাহিনা: ১); ‘আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করাতে সাহায্য করেছে। আর তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারাই তো যালিম।’ (মুমতাহিনা: ৯)— কুরআনের এই আয়াতগুলোর আলোকে আমেরিকান ও জায়নবাদী আগ্রাসনকারীদের প্রতি যেকোনো ধরনের সমর্থন, নীরবতা বা অনুমোদন ইসলামে নিষিদ্ধ এবং অন্যতম বড় পাপ।

এছাড়াও, পথ রুদ্ধ করার বিধান অনুসারে, আল্লাহ কখনই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফেরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না। (আন-নিসা: ১৪১), যেকোনো রাজনৈতিক, সামরিক বা রসদ সংক্রান্ত পদক্ষেপ যার ফলে মুসলিম ভূমির উপর কাফিরদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তা আইনত অবৈধ এবং সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইরানের উপর হামলা চালানোর জন্য আমেরিকান-জায়নবাদী জোটের সাথে সহযোগিতা হলো ইসলামের শত্রুদের জন্য মুসলিমদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।

৩. আগ্রাসনকারীদের জন্য আকাশসীমা ও ভূখণ্ড উন্মুক্ত করা নিষিদ্ধ

ইসলামী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উপর আক্রমণ সহজতর করার জন্য আকাশসীমা, সামরিক ঘাঁটি, স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত, কিংবা যেকোনো তথ্য ও রসদ সরবরাহ করা যুদ্ধবাজ কাফেরদের প্রতি আনুগত্য এবং আল্লাহ, নবী ও ইসলামী উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। যে শাসকেরা তাদের ভূমি বা আকাশকে শত্রুর যুদ্ধযন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত করে, তারা মুসলমানদের রক্তপাতে সহযোগী এবং এই মহিমান্বিত আয়াতের একটি উদাহরণ: “আর তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে নিশ্চয় তাদেরই একজন।” (আল-মায়েদাহ: ৫১)। ‘পাপ ও সীমা লঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।’ (আল-মায়েদাহ: ২) – এই মহিমান্বিত আয়াতের উপর ভিত্তি করে পাপ ও আগ্রাসনে সহায়তা করার নিষেধাজ্ঞার আইনশাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, যে কোনো দেশ শত্রুকে জ্বালানি ভরার জন্য, গুপ্তচরবৃত্তির জন্য, অথবা আগ্রাসী যুদ্ধবিমানের যাতায়াতের জন্য তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলে, সেই দেশ মুসলিম হত্যা এবং মুসলিম দেশ ধ্বংস করার পাপে জড়িত হয়ে পড়ে।

পরিশেষে, ইসলামী বিশ্বের আলেমগণ সকল মুসলিম জাতি, অভিজাত মহল এবং গণমাধ্যমকে সতর্ক ও দূরদর্শী হওয়ার, শত্রুদের বিভেদ সৃষ্টিকারী চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়ার এবং তাদের সকল বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে ইরানের মুসলিম জাতির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। আল্লাহর অটুট প্রতিশ্রুতি অনুসারে, বিজয় ধৈর্যশীল ও সংগ্রামীদেরই। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন যে আল্লাহকে সাহায্য করে।নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী। (হজ্জ: ৪০)।

ইসলামী বিশ্বের একদল আলেম:

১- সাইয়্যেদ হাশেম হোসেইনি বুশেহরি

২- আলিরেজা আরাফি

৩- মোহসেন কোমি