ইসরায়েলকে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে: ইসমাইল কায়ানি
পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৩১, ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, ইসরায়েলকে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। এই বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে অঞ্চলে প্রতিরোধশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব।
আইআরজিসির কুদস বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি আজ (সোমবার) বলেছেন, লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘সিকিউরিটি বেল্ট’ সম্প্রসারণের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, আনসারুল্লাহ গত সপ্তাহান্তে জানায়, তারা দক্ষিণ ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি সামাজিক মাধ্যমে ফারসি ভাষায় এক পোস্টে বলেন, “নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন এই সিকিউরিটি বেল্ট প্রকল্পটি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত করতে। কিন্তু উত্তরে আমাদের হিজবুল্লাহ ভাইদের এবং দক্ষিণে আনসারুল্লাহর বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী হামলা- এই শাসনব্যবস্থার ভুয়া প্রতিশ্রুতিকে তাদের বসতিস্থাপনকারীদের কাছে উন্মোচিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ইরান, হিজবুল্লাহ এবং আনসারুল্লাহর সমন্বিত হামলা সেই লক্ষ্যই বাস্তবায়ন করছে, যা একসময় প্রতিরোধের শহীদ কমান্ডাররা চেয়েছিলেন।
ইসমাইল কায়ানি বলেন, “প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত যুদ্ধকক্ষ রয়েছে। অঞ্চলের নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিন।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহর যুদ্ধ ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন দেশটি ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি।
তারা আরও বলেন, যদি আনসারুল্লাহ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে কার্যক্রম বাড়িয়ে সেখানে জাহাজ চলাচল সীমিত করে, তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যার ফলে এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।#
পার্সটুডে