মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২০, ২০২৬ 

news-image

পার্স টুডে – ইসলামী বিপ্লবের নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি মহানবীর (সা) পবিত্র নবুওত-মিশন শুরুর বার্ষিকী ও মেরাজ দিবসে বিভিন্ন শ্রেণির হাজারো মানুষকে দেয়া সাক্ষাতে ঐতিহাসিক ২২ দেই তথা গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে–এ জাতির অবস্থানের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

 তিনি বলেছেন: ইরানি জাতি ফেতনার কোমর ভেঙে দিয়েছে, তবে এই ফেতনার প্রকৃতি, লক্ষ্য এবং এর “প্রশিক্ষিত” ও “প্রতারণার শিকার” লোকজনদের ভালোভাবে চেনা জরুরি।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ইরানের সর্বোচ্চজ নেতার নতুন অবস্থান আবারও ভালোবাবে তুলে ধরেছে—অশান্তি সৃষ্টিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের ভূমিকা এবং তা শেষ করতে জনগণের ভূমিকা। পার্স টুডের এই প্রতিবেদনে ওই বিশেষ ইসলামী দিবসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের তিনটি মূল দিক তুলে ধরছি:

১. ইসলামী বিপ্লবের নেতা: সাম্প্রতিক ফেতনা ছিল একটি আমেরিকান ফেতনা

ইরানের সর্বোচ্চ  নেতা সাম্প্রতিক ফেতনার প্রকৃতিকে “আমেরিকান” বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন:

যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী লক্ষ্য—শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্ট নয়—ইরানকে গ্রাস করা এবং দেশটির ওপর তাদের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। কারণ, এমন বিস্তৃত ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সম্পদ, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি—তার ওপর আবার অত্যন্ত সংবেদনশীল ভৌগোলিক অবস্থান—যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহনীয় নয়।

২. আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই সাম্প্রতিক ফেতনার প্রধান অপরাধী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন ধ্বংসকারীদের ও হত্যাকারীদের “ইরানি জাতি” বলে উল্লেখ করেন তখন এটি ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপবাদ।

তিনি আরও বলেন:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ফেতনাকারীদের উৎসাহ দিয়েছেন, এবং পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট তথা ইহুদিবাদী ইসরায়েল তাদের সহায়তা করেছে। সুতরাং, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অপরাধী মনে করি—

একদিকে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য, অন্যদিকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার জন্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি

 

৩. ইমাম খামেনেয়ি: ইরানি জাতি ফেতনার কোমর ভেঙে দিয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেন: ইরানি জাতি ২২ দেই–এ তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন-মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে ফেতনাকে পরাজিত করেছে, এবং এই দিনটিকে তাদের গৌরবময় ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিনে পরিণত করেছে। তারা শক্ত মুষ্টি দিয়ে বড়াইকারীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামান্য সংখ্যক ফেতনাকারীকে আন্তর্জাতিক জায়নিস্টমুখী বা ইহুদিবাদী-ঘেঁষা গণমাধ্যমে বড় করে দেখানো এবং বিপরীতে ১২ জানুয়ারির তথা ২২ দেই–এ ইরানি জনগণের বিশাল উপস্থিতিকে অস্বীকার বা ছোট করে দেখানো—এগুলো তাদের পুরোনো অভ্যাস।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষায়: “এভাবে বাস্তবতা বদলায় না। বাস্তবতা সেটাই যা জাতি নিজ চোখে তেহরান ও অন্যান্য শহরে দেখেছে।” #
পার্স টুডে