বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের কিছু বিশেষ আকর্ষণ যা না দেখলেই না

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ 

news-image
বাবাব-ই সার্ত এর নাম কখনও শুনেছেন? আর পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান সম্পর্কে কি-ই বা জানেন? এর আগে কখনও হাররা ফরেস্ট দেখেছেন? আপনি যদি এসব স্থানসহ আরও কিছু দর্শনীয় জায়গা পরিদর্শন করতে পছন্দ করেন তাহলে এখনই উপযুক্ত সময় ইরান ভ্রমণের একটি পরিকল্পনা করার।

ইরানের মুনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও দেশটির বিভিন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতিতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু সংখ্যক বিশেষ দর্শনীয় স্থান। আজ আমরা সংক্ষেপে ইরানের সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও মনোরম আকর্ষণগুলোর বর্ণনা তুলে ধরব। ইরান ভ্রমণে সেরা পেছন্দ হিসেবে এইগুলিকে বেছে নিতে পারেন।

বাবাব-ই সার্ত

ইরানের এই দর্শনীয় স্থানটি অবশ্যই দেখতে হবে। বিশেষ করে ভূতত্ত্বে আগ্রহ আছে তাদের জন্য বাবাব-ই সার্ত পরিদর্শন জরুরি। উত্তর ইরানের মাজান্দারান প্রদেশ সারি শহর থেকে প্রায় ১শ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এলাকাটি সোনালি, কমলা এবং পলি শিলার লাল পদবিন্যাস দ্বারা গঠিত।

এরমধ্যে এখানকার ট্রাভারটাইন ভূদৃশ্যের দুই ঝরনাকে ওষুধ সম্পত্তি বলা হয়ে থাকে। ইরানের অনেক ফটোজেনিক স্থানের মধ্যে এখানকার পিচ্ছিল ফ্ল্যাটগুলো অন্যতম। বিস্ময়কর এই প্রাকৃতিক স্থানের দারুণ ছবি নিতে ভুলবেন না। আমরা আপনাদের খুব সকাল সকাল বা সূর্যাস্তের সময় স্থানটি পরিদর্শন করার পরামর্শ দিব।

মাউন্ট দামাভান্দ
মাউন্ট দামাভান্দ ইরানের সর্বাপেক্ষা সুন্দর ভূদৃশ্য নাও হতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত যে এটা দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। স্থানীয় সব মানুষ, বিশেষত তেহরানের বাসিন্দাদের কাছে এটি অন্যতম পছন্দনীয় স্থান। পরিচ্ছন্ন দিনে মাউন্ট দামাভান্দের তুষারাবৃত শিখর দেখার সৌভাগ্য কেবল স্থানীয়দেরই হয়।

জাপানিদের কাছে ফুজিয়ামা পর্বত যেমন পছন্দের জায়গা তেমনি এই শিখরটি স্থানীয়দের কাছে পছন্দের। মাউন্ট দামাভান্দ প্রকৃতপক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ চূড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু পয়েন্ট। এটির উচ্চতা ৫ হাজার ৬৭১ মিটার। মাউন্ট দামাভান্দে ট্রেকিং ও স্কিয়িং অ্যাডভাঞ্চারদের কাছে পছন্দের।

দাশত-ই লুত
ফারসি লুত শব্দের অর্থ পানি ও গাছপালাবিহীন খালি জায়গা। মরুভূমিটি ইরানের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। মরুর পূর্ব অংশ লবণাক্ত সমভূমি দ্বারা আবৃত নিম্ন মালভূমি। আর মাঝখানে রয়েছে পর্যায়ক্রমিক সমান্তরাল গিরিশিরা ও খাঁজ।
   
জুন থেকে অক্টোবর এই শুষ্ক অঞ্চলটিতে প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত হয়। এটি ২০১৬ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয়।

বিশালাকার লবণ মরুভূমিটি বিশ্বের ২৭তম বৃহত্তম মরুভূমি। যা ৫১ হাজার ৮শ কিলোমিটার (২০ হাজার বর্গমাইল) জায়গাজুড়ে অবস্থিত।

লুত মরুভূমির প্রধান প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলো হলো গ্যান্ডম বেরিয়ান, শাহদাদ কালুত এবং রিগ ইয়েলান। এছাড়াও মরুভূমিতে পোকামাকড়, সরীসৃপ এবং মরুভূমির শিয়ালসহ বিচিত্র রকমের প্রাণীর বসবাস রয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা’র স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্যউপাত্ত মতে, পৃথিবীর উপরিভাগের সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান হলো লুত মরুভূমি।

লেক উরমিয়া
লেক উরমিয়া আগে লেক রেজাইয়েহ হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি আজারবাইজান ডিস্ট্রিক্টের উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত। ইরানের সর্বশেষ সাবডিভিশন বিন্যাসে লেক উরমিয়া পূর্ব আজারবাইজান ও পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের মধ্যে পড়ে।

আনজালি লেগুনের পর লেক উরমিয়া ন্যাশনাল পার্ক ইরানের অন্যতম সবচেয়ে মজার প্রাকৃতিক বাসস্থান। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে  বাস্তুতন্ত্রটি নিবন্ধিত হয়েছে। ইরানের পরিবেশ অধিদপ্তর লেকটির অধিকাংশ অংশকে ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

লেক উরমিয়া ইরানের সর্ববৃহত অন্তর্দেশীয় হ্রদ এবং এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সল্ট লেক। ইরানি মালভূমির উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত লেকটি পশ্চিম এশিয়ার সর্ববৃহত পানির হৃদ। লেকের পানি খুবই লবণাক্ত।

শুশতার হিস্টোরিক্যাল হাইড্রলিক সিস্টেম
শুশতার হিস্টোরিক্যাল হাইড্রলিক সিস্টেম ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয় ২০০৯ সালে। ইউনেসকো সিস্টেমটিকে ‘‘মাস্টারপিস অব ক্রেয়েটিভ জিনিয়াস’’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ব্রিজ, ওয়েয়ারস, বাঁধ, কল, পানির ক্যাসকেড, খাল এবং টানেলের আন্ত:সংযুক্ত একটি সেট নিয়ে হাইড্রলিক সিস্টেম নির্মাণ করা হয়েছে। কমপ্লেক্সটিতে ব্যবহৃত মূল উপাদান হচ্ছে গ্রানাইট, চুনের প্লাস্টার ও মর্টার।

বিখ্যাত ফরাসি স্থপতি প্রত্নতত্ত্ববিদ জেন ডায়ুলাফয় শিল্প বিপ্লবের আগে স্থানটিকে বৃহত্তম শিল্প কমপ্লেক্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তুর্কমেন সাহরা
তুর্কমেন সাহরা অর্থ তুর্কমেনের সমতলভূমি। ইরানের অন্যতম সেরা মনোরম ভূদৃশ্য এটি। কাসপিয়ান সাগরের নিকটে তুর্কমেনিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন দেশের উত্তরপূর্বে এটি অবস্থিত। এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশ তুর্কমেন। শ্বাসরুদ্ধকর ঘূর্ণায়মান সবুজ পাহাড়গুলো কার্যত অস্পৃষ্ট রয়েছে। নিজস্ব গাড়ি ছাড়া এখানে প্রবেশ করা কঠিন।

পাহাড়ের মাথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো খালেদ নবীর সমাধি যা এর সমাধিস্তম্ভের জন্য বিখ্যাত।

কেশম দ্বীপ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি মনোরম দ্বীপ হলো কেশম দ্বীপ। সাথে অসাধারণ একটি জিওপার্ক আছে। বিস্ময়কর দ্বীপটিতে কিছু অসাধারণ ও আশ্চর্যজনক বন্যপ্রাণী ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

এছাড়া অঞ্চলটি দুটি অঞ্চলের মধ্যবর্তী হওয়ায় এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ইরানি ও আরব সংস্কৃতির মিশ্রণ রয়েছে। কম দেখা হয়েছে এবং প্রত্যন্ত স্থান পরিদর্শন করতে আগ্রহী যারা তাদের জন্য কেশম দ্বীপ একটি আদর্শ স্থান।

দ্বীপটির আছে সুন্দর ভূদৃশ্য। সঙ্গে রয়েছে একটি বিশাল বালুকাময় সৈকত এবং কিছু সংখ্যক দর্শনীয় স্থান। এখানকার কিছু জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হলো চাহ কুহ উপত্যকা, হাররা বন, খারবাস গুহা, লবণের গুহা এবং পর্তুগিজ ক্যাসল।

 
হাররা ফরেস্ট

কেশম দ্বীপ ও ইরানের একটি আশর্যজনক ইকোট্যুরিজম সাইট হচ্ছে হাররা ফরেস্ট। ২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বনাঞ্চলটি অবস্থিত। সমুদ্রে জোয়ার-ভাটার সময় উপভোগ করার মতো দৃশ্য বিরাজ করে এখানে।