ইরানজুড়ে জাঁকজমকের সঙ্গে ‘গাদির উৎসব’ উদযাপিত
পোস্ট হয়েছে: জুন ৭, ২০২৬
তেহরান — বৃহস্পতিবার সারা দেশে লাখো মানুষ ঈদুল গাদির উদযাপন করেছে। এই উদযাপন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি সামাজিক ঐক্যের এক বৃহৎ প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
তেহরানে অনুষ্ঠানটি ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত রাজধানীর একটি প্রধান সড়কজুড়ে বিস্তৃত ছিল। এতে লক্ষাধিক পরিবার, তরুণ-তরুণী ও শিশু অংশ নেয়। ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসাধারণের বিনোদনের সমন্বয়ে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথজুড়ে ছিল জনগণের উদ্যোগে পরিচালিত আপ্যায়ন কেন্দ্র, শিল্প-সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কোরাস দল, পথনাট্য, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং খাবার বিতরণ কেন্দ্র। ফলে এটি দেশের বছরের অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়।
ঈদুল গাদির ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের একটি উৎস। এই দিনেই শিয়া মুসলমানদের প্রথম ইমাম হজরত আলী (আ.)-কে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজ (হজ্জাতুল বিদা) থেকে ফেরার পথে গাদির খুম নামক স্থানে নবী মুহাম্মদ (সা.) বিরতি নেন। সেখানে তিনি এক ভাষণে তাঁর চাচাতো ভাই হজরত আলী (আ.)-কে নিজের উত্তরসূরি ও প্রথম ইমাম হিসেবে ঘোষণা করেন বলে শিয়া ঐতিহ্যে বর্ণিত আছে। এই ঘোষণা তাঁর ইন্তেকালের অল্প কিছুদিন আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহির ভিত্তিতে করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
পরবর্তীতে দুটি তাঁবু স্থাপন করা হয়। একটিতে মুসলমানরা নবী (সা.)-কে তাঁর এই নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং অন্যটিতে বিভিন্ন গোত্রের মুসলমানরা আলী (আ.)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হজরত ফাতিমা (সা.), যিনি ছিলেন ইমাম আলী (আ.)-এর স্ত্রী এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী বলেছেন, গাদিরের মাধ্যমে ইসলামী সমাজে সরকার, ক্ষমতা ও নেতৃত্বের নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে। এটাই গাদিরের প্রকৃত গুরুত্ব।
তিনি বলেন,
“নিঃসন্দেহে ঈদুল গাদির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। শিয়া বর্ণনা অনুযায়ী এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঈদ। এর গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর মূল বিষয়বস্তুতে ‘উইলায়াত’ (নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা)। বলা যেতে পারে, নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য নবী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সকল প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল আল্লাহর উইলায়াত প্রতিষ্ঠা করা।”
সূত্র: তেহরান টাইমস