রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

আগ্রাসনকারীদের হাত থেকে সাহসিকতার সাথে দেশ রক্ষার জন্য ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশংসা সর্বোচ্চ নেতার

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 

news-image

রোববার সেনা দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী এর আগে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধগুলোর মতোই সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধেও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জাতিকে রক্ষা করার জন্য দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন,মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসী যুদ্ধের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী “সাহসিকতার সাথে তাদের ভূমি,পানি এবং পতাকাকে রক্ষা করে চলেছে”।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা দিবস ফারভারদিন ২৯ উপলক্ষে জারি করা বার্তায় বলা হয়, “শক্তিশালী ঐশি  ও জনপ্রিয় সমর্থন নিয়ে এবং সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য যোদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবিশ্বাস ও ঔদ্ধত্যের অগ্রভাগে থাকা দুটি সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করেছে এবং বিশ্বের চোখে তাদের দুর্বলতা ও অপমানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।”

ইসলামি বিপ্লবের নেতা যিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ঠিক যেমন ইরানি সেনাবাহিনীর ড্রোনগুলো মার্কিন ও ইহুদিবাদী অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিদ্যুতের মতো আঘাত হানে তেমনি এর সাহসী নৌবাহিনীও শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে প্রস্তুত।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির দ্বারা সেনাবাহিনীর সম্মানে নামকরণ করা দিনে জারি করা এই বার্তায় সেনাবাহিনীর সকল সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ এবং ইরানি জাতিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনেয়ী ইসলামি বিপ্লবের বিজয়কে সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন,যা শত্রু ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া দুর্বলতার যুগের অবসান ঘটিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সেনাবাহিনী স্বৈরাচারী পাহলভি ব্যবস্থার বলয় থেকে বেরিয়ে এসে ইরানি জনগণের উষ্ণ আলিঙ্গনে তার ন্যায্য স্থান খুঁজে পেয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন যে ২৯শে ফারভারদিন ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ীর জন্মবার্ষিকীর সাথে মিলে যায় যিনি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকে সেনাবাহিনীকে বিলুপ্তির অশুভ আহ্বানের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা বাড়াতে অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সেনাবাহিনীর অগ্রগতি দ্বিগুণ প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বিগত পাঁচ দশকে ইরানি সেনাবাহিনীকে নেতৃত্বদানকারী প্রজন্মের বীর সেনাপ্রধানদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যাদের মধ্যে অনেকেই শাহাদাত বরণ করেছেন। যাদের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধান কারানি, ফাল্লাহি, নামজু, ফাকুরি, বাবাই, সেতারি, আরদেস্তানি,সাইয়্যেদ শিরাজি, সেইসাথে সাম্প্রতিক শহীদ সাইয়েদ আব্দুলরহিম মুসাভি এবং আজিজ নাসিরজাদেহ যারা উভয়ই ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।

মার্কিন-ইসরায়েল জোট কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক ৪০-দিনব্যাপী আগ্রাসী যুদ্ধের সময়, ইরানের সেনাবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছে এবং অঞ্চলজুড়ে শত্রু ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে অসংখ্য সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে। সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত ও নিখুঁত সহযোগিতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে শত্রুর ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে সক্ষম করেছে।#

পার্সটুডে