All posts by dreamboy

হযরত আলী (আ.)-এর কতিপয় বাণী- নাহজুল বালাগা থেকে

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘যার স্বভাব বিনম্র তার বন্ধু-বান্ধব বৃদ্ধি পায়।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২০৫

হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘যে কৃতকার্য হয়, সে উচ্চশির হয়ে থাকে।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২০৭

হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে মানুষের প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২০৮

হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘লোভ তীব্র হলে অধিকাংশ জ্ঞান লোপ পেয়ে থাকে।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২১০

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘মানুষের উপর অত্যাচার করা পরকালের নিকৃষ্ট পাথেয়।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২১২

হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘সম্মানিত ব্যক্তির উত্তম আচরণ হলো তার জানা বিষয়ে নির্লিপ্ততা প্রদর্শন।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২১৩

হযরত আলী (আ.) বলেছেন : ‘লজ্জা যার ভূষণ লোক তার ত্রুটি দেখে না।’- নাহজুল বালাগা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী নং ২১৪

(নিউজলেটার, ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)

চলতি বছর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উৎপাদনে ২০তম স্থানে ইরান

চলতি বছর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উৎপাদন ও গবেষণায় বিশ্বে ২০তম স্থান অধিকার করেছে ইসালামি প্রজাতন্ত্র ইরান। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘থমসন রয়টার্সে’র সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে ২১ হাজার গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে ইরান। পাশাপাশি, চলতি বছর ১.৫৭ শতাংশ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উতপাদন করেছে তেহরান।

এর আগে, ২০০০ সালে চিকিতসা বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশের দিক বিবেচনায় বিশ্বে ৫৩তম স্থান অধিকার করেছিল দেশটি। ২০১১ সালে এসে ইরান অর্জন করে ২৩তম স্থান।

ইন্সটিটিউট অব সায়েন্টিফিক ইনফরমেশন- আইএসআই জানিয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে ইরান ৬০,৯৭৯টি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। এছাড়া, ওয়ার্ল্ড সায়েন্স সাইটেশন সেন্টারের প্রধান জাফর মেহরাদ জানান, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরান ১ম স্থান অর্জন করেছে।

এদিকে, ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ক গবেষণা কাজে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম ও বিশ্বে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

রেডিও তেহরান, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মহাকাশে ইরানের দ্বিতীয় বানর

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আবারো মহাকাশে সাফল্যের সঙ্গে বানর পাঠিয়েছে। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে ‘ফারগাম’ নামের বানরটি বায়ো-ক্যাপসুলে করে মহাকাশে পাঠানো হয়। বানরটি মাত্র ১৫

মিনিটে পূর্ব-নির্ধারিত গতিতে নির্দিষ্ট উচ্চতায় (১২০ কিলোমিটার) পৌঁছার পর জীবন্ত অবস্থায় আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে এসেছে। বানরটি বর্তমানে পরিপূর্ণ সুস্থ আছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি পিশগাম বা অভিযাত্রী নামের বায়ো-ক্যাপসুলে করে মহাকাশে প্রথমবারের মতো বানর পাঠায় ইরান।

প্রথম বাণিজ্যিক বিমান নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসলামি ইরান

ইরান প্রথম যাত্রীবাহী বিমান নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে, দুই ইঞ্জিনের টার্বোজেট বিমানটি দেড়শ’ যাত্রী বহন করতে পারবে।

ইরানের বিমান শিল্প সংস্থা (আইএআইও) এবং ইরানের বেসামরিক বিমান নকশা কেন্দ্র (সিএডিসি) যৌথভাবে এ বিমান নির্মাণ করছে। তিন পর্বের এ প্রকল্পের প্রথম পর্ব আগামী বছরের মার্চে শেষ করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আইএআইও’র নির্বাহী পরিচালক মানুচেহের মানতেকি বলেন, বিশ্বের চারটি মহাদেশের কয়েকটি দেশ এ বিমান নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আগামী দশকে ইরান এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক বিমান রফতানিকারক দেশে পরিণত হবে বলেও জানান তিনি। ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্পাহান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমির কবির প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলীরা এ প্রকল্পে কাজ করছেন।

নির্মাণাধীন বিমানটির পাল্লা হবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। এতে পশ্চিমে ইউরোপ ও পূর্বে ভারত উপমহাদেশের বেশিরভাগ এলাকা পাড়ি দেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সিএডিসি’র নির্বাহী পরিচালক আলীরেজা জাহাঙ্গেরিয়ান।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার (আইসিএও) হিসাবের ভিত্তিতে বিমান  প্রকৌশলীরা বলেন, প্রতিটি বাণিজ্যিক নির্মাণ ও পরিদর্শনে ব্যয় হবে দেড়শ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে বেসামরিক বিমান শিল্প খাতে  কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের বেসামরিক বিমান বহরের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

রেডিও তেহরান, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

ইরানের নৌবাহিনীতে নতুন যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার

ইরানের নৌবাহিনীতে একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার গানশিপ যুক্ত করা হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম  উন্নয়নের পদক্ষেপ হিসেবে এই যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার পুরোপুরি সংস্কার করা হয়েছে।

ইরানি নৌবাহিনীর কারিগরি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্বাস জামিনি জানিয়েছেন, লাভান শ্রেণীর এই যুদ্ধজাহাজ দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বোমা হামলা চালানো এবং হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান বহন করা যাবে।  ৩,০০০ টন ওজনের এ যুদ্ধজাহাজটির সংস্কার কাজ ৩৩ মাসে সম্পন্ন হয়েছে।

সুলতান নামে পরিচিত এসএইচ৩ডি জঙ্গী হেলিকপ্টারটির সংস্কার সম্পর্কে জানাতে গিয়ে অ্যাডমিরাল জামিনি বলেন, এটি ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও টর্পেডো বহন করতে পারে।

রেডিও তেহরান, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

নতুন ধরনের সাবমেরিন নির্মাণ করছে ইরান

ইরান আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিজ বিশেষজ্ঞদের তৈরি নতুন ধরনের সাবমেরিন প্রদর্শন  করবে। দেশটির একদল উচ্চ-পদস্থ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান এই সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ তৈরি করবে এবং তা হবে আধাআধি ভারী বা সেমি-হেভি সাবমেরিন।

ইরানের নৌ-বাহিনীর শিল্প-গবেষণা ও স্বনির্ভর-জিহাদ সংস্থার প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি গোলামজাদেহ বলেছেন, চলতি ফার্সি বছরের শেষের দিকে এই সাবমেরিন প্রদর্শন করা হবে। আগামী মার্চের ২০ তারিখে শেষ হচ্ছে চলতি ফার্সি বছর। তিনি জানান, ইরান বর্তমানে নানা মডেলের বহু হাল্কা সাবমেরিন নির্মাণ করছে।

গোলামজাদেহ বলেছেন, ইরানের এইসব সাবমেরিনের মান সেইসব দেশের সাবমেরিনের চেয়েও উন্নত যে দেশগুলো এই শিল্পে ও বিশেষ করে, আধাআধি ভারী সাবমেরিন নির্মাণ ও এমনকি সংস্কারের জন্যও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করছে।

ফ’তেহ, গ্বাদির, কায়েম ও নাহাং- ইরানের নির্মিত কয়েকটি অত্যাধুনিক মডেলের সাবমেরিন। ইরানের নৌ বাহিনী ‘জামারান’সহ নানা ধরনের আধুনিক মডেলের ডেস্ট্রয়ারও নির্মাণ করছে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

রেডিও তেহরান, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

নতুন রাডার ব্যবস্থা উন্মোচন করল ইরানের নৌবাহিনী

ইরানের নৌবাহিনী আজ (বুধবার) দেশে প্রস্তুত একটি অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে। ‘আসর’ বা যুগ নামের এ রাডার দিয়ে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা যাবে।

ইরানের নৌবাহিনী দিবসের আগে এ রাডার উন্মোচন করা হল। এ অনুষ্ঠানে ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি এবং ডেপুটি আর্মি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল রহিম মুসাভিসহ সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

ব্রিগেডিয়ার মুসাভি জানান,এ রাডারকে নৌবাহিনীর যেকোনো জাহাজে স্থাপন করা যাবে এবং তাতে নৌবাহিনীর যুদ্ধ ক্ষমতা আরো বাড়বে।

এ ছাড়া, অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি জানান,এ রাডার দিয়ে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ১১০ মাইল দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু নির্ণয় করা যাবে।

রেডিও তেহরান, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বৃহত্তম ড্রোন উদ্বোধন করেছে ইরান

গোয়েন্দা নজরদারি ও সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পাইলট বিহীন বিমান বা ড্রোন ‘ফোটরোস’ উদ্বোধন করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

ইরানের ড্রোনগুলোর মধ্যে ফোটরোস হলো সবচেয়ে বড় আকারের দূর নিয়ন্ত্রিত বিমান এবং এর বিশেষ কিছু সক্ষমতা রয়েছে। তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীর এভিয়েশন সংস্থা- আইএএফএআইও’র সদর দপ্তরে ড্রোনটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান।

ইরানের প্রতিরক্ষার কথা বিবেচনা করে দেশটির বিমান নির্মাণকারী সংস্থার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ড্রোনটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক কমান্ডার একথা জানান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, কৌশলগত ড্রোনটি ভূ-পৃষ্ঠের ২৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে একটানা দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। সেই সঙ্গে ড্রোনটি একবার জ্বালানী নিয়ে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, ফোটরোস আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালাতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকা, তেল পাইপলাইন, টেলিযোগাযোগের লাইন, রাস্তাঘাটের যানজট, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও বন্যা বিধ্বস্ত অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে ফোটরোস ড্রোন।

এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইরান ‘ইয়াসির’ নামে দেশে তৈরি একটি কম্ব্যাট ড্রোন উদ্বোধন করে। এটি ১৫ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়তে পারে।

রেডিও তেহরান, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

উম্মতের ব্যাপারে মহানবী (সা.)-এর শঙ্কা ও অন্যান্য বিষয়

নবী করিম (সা.) বলেন : ‘আমার পরে আমার উম্মতের ব্যাপারে তিনটি বিষয়ে আমি শঙ্কিত : (খোদায়ী) জ্ঞানলাভের পর গোমরাহিতে লিপ্ত হওয়া, পথভ্রষ্টকারীদের সৃষ্ট বিপর্যয় এবং পেট ও যৌনতার পূজা।’- উসূলুল কাফী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭৯।

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.) বলেন : ‘আল্লাহর বান্দার সৌভাগ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, তার অন্তর হিংসা বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকবে।’- গুরারুল হিকাম ও দুরারুল কালাম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৯৯

হযরত আলী (আ.) আরও বলেন : ‘যখন তোমরা দারিদ্রের মধ্যে নিপতিত হও তখন সাদাকা-খয়রাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে ব্যবসা আরম্ভ কর।’- নাহজুল বালাগা, উক্তি নং ২৫৮, পৃ. ২১০

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেন : ‘প্রকৃত মুমিন হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে কম কথা বলে এবং অধিক কাজ করে এবং মুনাফিক হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে অধিক কথা বলে এবং কম কাজ করে।’

(নিউজলেটার, জুন ১৯৯২)