৯/১১-এর মতো হামলার মাধ্যমে ইরানকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের সতর্কবার্তা দিলেন লারিজানি
পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১৬, ২০২৬
তেহরান (তাসনিম) — ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্ভাব্য ভুয়া পতাকা (ফলস ফ্ল্যাগ) অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে ১১ সেপ্টেম্বরের মতো একটি ঘটনা ঘটিয়ে ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান তার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে অটল আছে এবং আমেরিকার সাধারণ জনগণের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না।
রবিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযোগের মুখেও ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আমেরিকার জনগণের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না, তবে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
লারিজানি বলেন,
“আমি শুনেছি এপস্টেইন দলের অবশিষ্ট সদস্যরা ১১ সেপ্টেম্বরের মতো একটি ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করেছে। ইরান মৌলিকভাবে এ ধরনের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিরোধী এবং আমেরিকার জনগণের সঙ্গে তার কোনো যুদ্ধ নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কারণে দেশটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। অবশ্য এই প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আগ্রাসীদের শাস্তি দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেই, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের উসকানিমূলক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক হামলা পরিচালনা করেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি