রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

গায়ক মোহসেন চাভোশি ইসলামিক বিপ্লবের বর্ষসেরা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 

news-image

তেহরান – খ্যাতিমান ইরানি পপ গায়ক ও সুরকার মোহসেন চাভোশিকে ১৪০৪ (২০২৫–২০২৬) সালের “ইসলামিক বিপ্লবের বর্ষসেরা শিল্পী” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক বিপ্লব আর্ট উইকের ১২তম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ কোমি (ইসলামিক আইডিওলজি ডিসেমিনেশন অর্গানাইজেশনের প্রধান) এবং মোহাম্মদ-মেহদি দাদমান (আর্ট ব্যুরোর প্রধান)। শিল্পী, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

চাভোশি মূলত তাঁর জনপ্রিয় গান “আলাজ” এবং “হাসবি আল্লাহ”-এর জন্য এই সম্মান অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কর্তৃক দেশের ওপর আরোপিত যুদ্ধের সময়ে গানগুলো মানুষের মাঝে গভীর সাড়া জাগায়। তিনি চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব—চিত্রশিল্পী ও সাংবাদিক সাইয়্যেদ আলি মিরফাত্তাহ, নির্মাতা সিরুস মোকাদ্দাম এবং থিয়েটার পরিচালক মরিয়ম শাবানি—কে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হন।

ঘোষণার সময় সঞ্চালক নাজমেদ্দিন শরিয়াতি জানান, এই নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে জনমতের ভিত্তিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পুরো সন্ধ্যা জুড়েই উপস্থিত দর্শকরা চাভোশির নাম উচ্চারণ করেছেন। আপনাদের কণ্ঠকে সম্মান জানিয়ে আমরা মোহসেন চাভোশিকে বর্ষসেরা ইসলামিক শিল্পী ঘোষণা করছি।”

অনুষ্ঠানে স্ট্রিট পারফরম্যান্সও ছিল। পাশাপাশি শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনেয়ীকে স্মরণ করে শহীদত্ব ও প্রতিরোধের থিমে সংগীত ও মিডিয়া উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে শিশু ও কিশোররা “হাসবি আল্লাহ” ও “আলাজ” গানের লিরিক লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। শেষদিকে হাজারো মানুষের কণ্ঠে “আলাজ” গেয়ে এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের দৃশ্য তৈরি হয়।

এর আগে মার্চ মাসে চাভোশি “হাসবি আল্লাহ” (অর্থ: ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’) গানটি প্রকাশ করেন, যা ইমাম আলির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি।

নতুন গান প্রকাশের সময় দেওয়া এক বার্তায় চাভোশি সাম্প্রতিক সামাজিক অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, তিনি “মাঝামাঝি” অবস্থানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকতে চান এবং বিদেশি প্রভাবিত বর্ণনার পরিবর্তে জাতীয় যুক্তিকে গুরুত্ব দেন। বিদেশি গণমাধ্যমের মানসিক চাপ ও প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রভাব যে কোনো সমৃদ্ধ দেশেও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিদেশি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলেও, তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ধর্মীয় পবিত্রতার অবমাননার পক্ষে নন বলে জানান। বরং তিনি নিজের দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগ্রামী পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

“হাসবি আল্লাহ” তাঁর ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক গানের ধারার সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে তিনি “ইয়া মাওলা,” “আদল-এ মুভাসসাক,” এবং “আসাদুল্লাহ” গানগুলোও প্রকাশ করেছেন, যা ইমাম আলির গুণাবলিকে কেন্দ্র করে তৈরি।

প্রতিবছর এই আর্ট উইক আয়োজন করে ইসলামিক আইডিওলজি ডিসেমিনেশন অর্গানাইজেশনের আর্ট ব্যুরো, ডকুমেন্টারিয়ান মোর্তেজা আভিনির শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণে।

এই সপ্তাহজুড়ে শিল্প প্রদর্শনী, কর্মশালা এবং সংগীত-নাট্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯৩ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সাবেক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ল্যান্ডমাইনে নিহত হন আভিনি। সে সময় তিনি “আ সিটি ইন দ্য স্কাই” নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছিলেন, যেখানে খোররামশাহরের পতন ও পুনরুদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরা হয়।

তিনি “দ্য ন্যারেশন অব ট্রায়াম্ফ” কাজের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এবং সহকর্মী ও যুদ্ধসেনারা তাঁকে “শহীদ লেখকদের গুরু” বলে অভিহিত করতেন।

বিভিন্ন সময় ইরানের নানা ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন তাঁকে স্মরণ ও সম্মান জানিয়েছে।

 

সূত্র: তেহরান টাইমস