সাম্প্রতিক অস্থিরতায় পুড়িয়ে দেওয়া পবিত্র কোরআনের কপিগুলো পুনরুদ্ধার করছেন এক ইরানি ক্যালিগ্রাফার
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০২৬
তেহরান – ইরানি ক্যালিগ্রাফার মোজতবা সাদেকি জানুয়ারির শুরুর দিকের দাঙ্গায় পুড়ে যাওয়া পবিত্র কোরআনের কপিগুলো পুনরুদ্ধারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
তেহরানের হাফত-এ তির স্কয়ারে অবস্থিত “আর্ট টেন্ট”-এ কাজ করে সাদেকি সেই পবিত্র পাতাগুলোকে নতুন জীবন দিচ্ছেন, যেগুলো সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় দাঙ্গাকারীরা একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পোড়া লেখাগুলো সূক্ষ্মভাবে পুনর্গঠন করার এই প্রকল্পটি শিল্পীর জন্য যেমন ব্যতিক্রমধর্মী, তেমনি আবেগঘন এক চ্যালেঞ্জ।
শুক্রবার মেহর সংবাদ সংস্থাকে সাদেকি বলেন, “জানুয়ারিতে দাঙ্গাকারীরা একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার খবর এবং পুড়ে যাওয়া কোরআনের ছবিগুলো প্রকাশ হওয়ার পরই এগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনর্জীবিত করার ভাবনাটি আমার মাথায় আসে।”
সাধারণত কোনো কোরআন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সম্মানার্থে প্রবাহমান পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় অথবা মাটিতে দাফন করা হয়। তবে সাদেকি ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারি, হারিয়ে যাওয়া আয়াতগুলো আবার লিখে এই পোড়া পাতাগুলোকে জীবিত রাখা সম্ভব।”
প্রথমে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাতাগুলোকে মজবুত একটি ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। এরপর তিনি মূল লেখার ধরন শনাক্ত করেন—বিশেষ করে উসমান তাহা ও নাসখ শৈলী—এবং সেই অনুযায়ী হারিয়ে যাওয়া শব্দ ও অক্ষরগুলো অত্যন্ত যত্নসহকারে পুনরায় লিখে দেন, যাতে মূল ক্যালিগ্রাফির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
শিল্পী জানান, একটি অপবিত্র করা মসজিদ থেকে তিনি সাতটি কোরআন পেয়েছেন, যার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উপাসনালয়ে হামলাকারীরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদকারী নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র শত্রু”।
এই অভিজ্ঞ ক্যালিগ্রাফার বলেন, “এই কোরআনগুলোকে পুনর্জীবিত ও সংরক্ষণ করা আমার বিশ্বাসের প্রতি এক ধরনের ঋণ। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এই কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করব।”
এ পর্যন্ত সাদেকি ২০টিরও বেশি পোড়া অংশ পুনরুদ্ধার করেছেন। তিনি জানান, “আর্ট টেন্ট” একটি শান্ত পরিবেশ প্রদান করে, যেখানে তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন। তাঁর এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, অনেকে এটিকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক শিল্পকর্ম হিসেবে দেখছেন।
প্রকল্পটি শেষ হলে তিনি এসব পুনরুদ্ধারকৃত ক্যালিগ্রাফির নিদর্শন নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চান।
“আর্ট টেন্ট” প্রতিদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। এখানে এমন সব শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়, যা বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং প্রতিরোধের চেতনাকে ধারণ করে। অংশগ্রহণকারীরা নানা সৃজনশীল মাধ্যমে জাতির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন।
সূত্র: তেহরান টাইমস