মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে ইরানে ৩১০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত, ৭৫০টির বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ৭, ২০২৬ 

news-image

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি জোটের আক্রমণের ফলে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩১০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং ৭৫০টিরও বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিরেজা কাজেমি আরও জানান, এই সময়ে ২১০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ শুরু করে, যেখানে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনেয়ী, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয় এবং পারমাণবিক স্থাপনা, স্কুল ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

দেশটির শিক্ষা খাতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে কাজেমি বলেন, “প্রায় ৯০০টি শিক্ষা ও প্রশাসনিক ইউনিট, পাশাপাশি ক্যাম্পিং ও ক্রীড়া সুবিধাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মধ্যে ৭৫০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শিক্ষা অবকাঠামোর ওপর হামলার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হরমোজগান, মার্কাজি, তেহরান এবং পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে।

কাজেমি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাতে ইরানি শিক্ষার্থীদের জন্য আইনগতভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে শত শত সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৭০ জন শিশুও নিহত হয়।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এর জবাবে “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪” নামে প্রায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি