মুসলিম উম্মাহ, আলেমগণ, চিন্তাবিদগণ ও ইসলামি বিশ্বের জ্ঞান-গুণী ব্যক্তিবর্গের প্রতি ইসলামি মাযহাবসমূহের নৈকট্য প্রতিষ্ঠার উচ্চ পরিষদের বিবৃতি
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৫, ২০২৬
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
যাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে এবং যারা যুদ্ধ করছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হয়েছে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। (সূরা হাজ্জ: ৩২)
আল্লাহ তাআলা সেইসব মানুষকে, যারা কাফেরদের দ্বারা অত্যাচার ও হত্যার শিকার হয়েছে, শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাদেরকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মুসলিম উম্মাহ, আলেমগণ, চিন্তাবিদগণ এবং ইসলামি বিশ্বের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ:
যেমনটি সবার নিকট স্পষ্ট, অপরাধী আমেরিকার দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগণ এবং দখলদার ও শিশু-হত্যাকারী ইসরায়েলি শাসন আবারও সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং রোজাদার মুসলমানদের মর্যাদা ভঙ্গ করে ইসলামি ইরানের বিভিন্ন স্থানে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে এবং এক নজিরবিহীন অপরাধে শত শত মিলিয়ন মুসলমানের এবং বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের মহান নেতা ও ধর্মীয় পথপ্রদর্শককে শহীদ করেছে এবং সকল আইনি, মানবিক ও নৈতিক সীমা অতিক্রম করেছে।
এই ভয়াবহ পদক্ষেপ শুধু ইরানের মুসলিম উম্মাহর ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি স্পষ্টভাবে মুহাম্মদী (সা.) উম্মাহর মর্যাদা এবং ইসলামের সমস্ত পবিত্র মূল্যবোধের ওপর আঘাত।
এই বড় বিপর্যয় যদিও ইসলামি উম্মাহ এবং বিশ্বের সকল মুসলমানের হৃদয়কে শোকাহত করেছে, তবুও এটি ধৈর্য, প্রতিরোধ এবং অত্যাচারী ও ঔদ্ধত্যবাদীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার পথে একটি জ্বলন্ত প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছে।
এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি, যার সাথে সাথে সাহসী কমান্ডারগণ, সেবাপরায়ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং ইসলামি ইরানের সাহসী জনগণের একটি অংশ—বিশেষ করে মিনাবের শিশুরা—শহীদের মর্যাদা লাভ করেছেন, এটি ছিল বৃহৎ শয়তান আমেরিকা এবং নোংরা জায়নিস্ট শাসনের পরিকল্পিত একটি সন্ত্রাসী অপরাধ এবং এটি আবারও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের কুৎসিত চেহারা উন্মোচিত করেছে।
ইসলামি মাযহাবসমূহের নৈকট্য প্রতিষ্ঠার উচ্চ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এই ভয়াবহ অপরাধের নিন্দা জানিয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুসলিম ও প্রতিরোধী ইরানের জনগণ, আলেম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানী ও মেধাবীরা ইসলামি বিশ্বের ব্যক্তিবর্গ, বিশ্বের সকল মুসলমান এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অবগত করাচ্ছেন:
- ইসলামি উম্মাহর শহীদ নেতা, মহান মর্যাদাসম্পন্ন নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ইমাম খামেনেয়ী, এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি আল্লাহর পথে জিহাদে শহীদ হয়েছেন এবং তাঁর পবিত্র রক্ত বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের দেহে বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছে।
এই শাহাদাত সেই মহান মুজাহিদের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রতিদান, যিনি ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন; আর শাহাদাত আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য গৌরবের সূচনা।
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত, তাদের প্রতিপালকের নিকট রিযিকপ্রাপ্ত।” (সূরা আলে ইমরান: ১৬৯)
২_ সেই মহান নেতার শাহাদাত ইসলামি উম্মাহর দৃঢ় সংকল্পে কোনো ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি করবে না, বরং প্রতিরোধের গৌরবময় পথ অব্যাহত রাখার ইচ্ছাকে আরও শক্তিশালী করবে। নেতৃত্ব নির্বাচনের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সময়োপযোগী, বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপে হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন)-কে ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা ইসলামি ব্যবস্থার প্রজ্ঞা এবং ইমামত ও নেতৃত্বের বরকতময় ধারাবাহিকতার প্রতীক। এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি বিপ্লব তার জনগণ ও ঐশী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে কখনোই শূন্যতা বা অস্থিরতায় পতিত হয় না।
৩_ প্রিয় ইরানের সাহসী, বীর, সচেতন ও সংগ্রামী জনগণ প্রমাণ করেছে যে, তারা বিপ্লব ও ফকীহ নেতার শক্ত ভিত্তি। আজও তারা তাদের বীরত্বপূর্ণ উপস্থিতি ও বিপ্লবী চেতনার মাধ্যমে প্রমাণ করবে যে, ইসলামের পবিত্র আদর্শ রক্ষায় জিহাদ ও আত্মত্যাগের পথে তারা কোনো ত্যাগ স্বীকারে পিছপা হবে না।
যে বীর জনগণ আজ আল্লাহর পথে দৃঢ়তা ও অবিচলতা প্রদর্শন করছে, আল্লাহও তাদের ওপর তাঁর অদৃশ্য সাহায্য বর্ষণ করবেন। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, এবং বিজয় অবশ্যই সত্যের পথে সংগ্রামকারীদেরই হবে।
“হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপ দৃঢ় করবেন।”
(সূরা মুহাম্মদ: ৭)
আমরা, ‘তাকরীব’-এর উচ্চ পরিষদের সদস্যবৃন্দ ইসলামি উম্মাহর সকল সদস্যের ঐক্য, সচেতনতা ও দৃঢ়তার ওপর জোর দিয়ে আবারও শহীদ নেতার পথ অনুসরণ এবং হক-বাতিলের লড়াইয়ে ইসলামের সেনাপতি ও যোদ্ধাদের সর্বাত্মক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছি।
ইনশাআল্লাহ, এই ঐক্য ও দৃঢ়তার বরকতে খুব শীঘ্রই আমরা জায়নিস্ট শাসনের সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অপরাধী আমেরিকার আঞ্চলিক প্রভাবের পতন প্রত্যক্ষ করব।
“কত ছোট দল আল্লাহর ইচ্ছায় বড় দলকে পরাজিত করেছে, আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা বাকারা: ২৪৯)
হে বিশ্বের মুসলিম ভাই ও বোনেরা, জেনে রাখুন যে, আজ আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের অপরাধ সংঘটন—ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতাকে শহীদ করা—তাদের পথচলার সূচনা মাত্র, এবং এই আগ্রাসন ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
যদি আজ ইসলামি ইরান—যা প্রতিরোধের শক্ত দুর্গ এবং বিশ্বের নিপীড়িতদের আশ্রয়স্থল—এই আক্রমণের মুখে দুর্বল হয়ে পড়ে বা পরাজিত হয় (যা আল্লাহর অনুগ্রহে কখনোই ঘটবে না), তবে নিঃসন্দেহে পরবর্তী লক্ষ্য হবে অন্যান্য ইসলামি দেশ ও মুসলিম জাতিসমূহ।
“এভাবেই আমি কিছু জালিমকে অন্য জালিমের ওপর প্রভাবশালী করি, তাদের কৃতকর্মের কারণে।” (সূরা আন‘আম: ১২৯)
এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিন—আজকের আগুন যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে তা আগামীকাল আপনাদের সীমানাতেও ছড়িয়ে পড়বে।
৫_ ইসলামি উম্মাহ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্য ও সংহতির প্রয়োজন অনুভব করছে। শত্রুরা তাদের সর্বশক্তি, সকল উপকরণ এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় একমাত্র কার্যকর অস্ত্র হলো ঐক্য ও পারস্পরিক সংহতি।
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)
আজ প্রয়োজন, ইসলামী উম্মাহর সকল সদস্য ছোটখাটো মতভেদ—মাযহাবী ও রাজনৈতিক—পাশে সরিয়ে রেখে বড় সাধারণ বিপদের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য ও আন্তর্জাতিক জায়নিজমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহতভাবে দাঁড়ানো; একটি শক্তিশালী ও অটল এক উম্মাহ হিসেবে দাঁড়ানো।
“নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মাহ একটিই উম্মাহ, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত কর।” (সূরা আম্বিয়া: ৯২)
৬_ এই সংঘর্ষকে কেবল দুই দেশ বা দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবেন না; এটি ‘হক ও বাতিল’, ‘ঈমান ও কুফর’, ‘ইসলাম ও ঔদ্ধত্য’-এর চিরন্তন দ্বন্দ্ব। জায়নিস্ট শাসন এবং তাদের আমেরিকান সমর্থকরা বর্তমান যুগে কুফরের শিবিরের প্রতিনিধি, এবং তারা প্রতিদিন ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং এখন ইসলামি ইরানের মুসলমানদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে।
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করে; আর জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।” (সূরা তাওবা: ১২৩)
যদি আজ মুসলমানরা একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে না আসে, তবে কবে আসবে? আমাদের এই আহ্বান আর কবে শোনা হবে? আমরা কি অপেক্ষা করব, যতক্ষণ না আমাদের নিজেদের পবিত্র স্থান ও সম্মানের ওপর আঘাত আসে? আমরা কি আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছি, যেখানে তিনি মুমিনদের সাহায্যের কথা বলেছেন?
“আর মুমিনদের সাহায্য করা আমার ওপর অবধারিত।” (সূরা রূম: ৪৭)
হে ইসলামি উম্মাহ! আজ ইসলামি ইরান ইসলাম রক্ষার সম্মুখসারিতে অবস্থান করছে। যদি আজ এই দুর্গকে সমর্থন না করেন, তবে আগামীকালের অনুশোচনা কোনো উপকারে আসবে না। আসুন, আমরা সবাই হাত ধরাধরি করি—ঐক্যের শক্তিতে, প্রতিরোধকে সমর্থন দিয়ে এবং ঔদ্ধত্যের জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে—জায়নিস্ট শাসনের সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং সত্যের বিজয়ের জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ সুগম করি।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে, যেন তারা সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো।” (সূরা সফফ: ৪)
হে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ ও মুসলিম জাতিসমূহ, হে ইসলামি বিশ্বের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ,
গভীর দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে কিছু ইসলামি দেশ শুধু ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা এবং বিশ্ব মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই বড় অপরাধের ক্ষেত্রে নিন্দনীয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেনি, বরং তারা তাদের ভূমি, আকাশসীমা এবং বিভিন্ন সুবিধা অপরাধী আমেরিকান ও জায়নিস্ট শক্তির কাছে উন্মুক্ত করে দিয়ে এই অপরাধে অংশীদার ও সহযোগী হয়ে উঠেছে।
“আর তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, নতুবা আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে; আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।” (সূরা হূদ: ১১৩)
আপনারা কি আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন যে, জালিমদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই? আপনারা কি মনে করেন যে, ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা আপনাদের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে?
জেনে রাখুন, আজ যে আগুন ইরানের সীমান্তে জ্বলছে, তা আগামীকাল আপনাদের সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়বে।
৮_ ইসলামি বিশ্বের প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে—বিশেষ করে মিশরের আল-আজহার শরীফের কাছ থেকে—এই সংবেদনশীল সময়ে আশা করা হয়েছিল যে, তারা আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিন্দা জানিয়ে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ মুসলিম ও নিপীড়িত ইরানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে এবং আগ্রাসী শত্রুকে নিন্দা করার বদলে ইসলামি ইরানকেই নিন্দা করছে।
শত্রুর প্রকাশ্য অপরাধের বিরুদ্ধে এই নীরবতা ও ভুল অবস্থান ইসলামি উম্মাহর সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে: ইসলাম ও কুফরের মধ্যে সীমারেখা কোথায়?
ইসলাম কি জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় না?
“তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের (রক্ষার জন্য) যুদ্ধ করছ না?” (সূরা নিসা: ৭৫)
ইসলাম কি ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা করা বৈধ মনে করে?
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু।” (সূরা মায়েদা: ৫১)
ইসলাম ও কুফরের সীমারেখা বাস্তব কর্মক্ষেত্রেই নির্ধারিত হয়। যে ব্যক্তি জালিমদের ও ইসলামের শত্রুদের কাতারে দাঁড়ায়, অথবা নিজের নীরবতার মাধ্যমে তাদের অপরাধকে সমর্থন করে, তার প্রকৃত মুসলমানদের সারিতে কোনো স্থান থাকবে না।
আমরা সকল ইসলামি দেশ—বিশেষ করে যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে শত্রুর সহযোগিতার পথে জড়িয়ে পড়েছে—তাদের কাছে আহ্বান জানাই যে, তারা নিজেদের অবস্থান ও আচরণ গভীর পুনর্বিবেচনা করুক। আজ সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ।
৯_ হে ইসলামি বিশ্বের আলেমগণ, হে নবীদের উত্তরাধিকারীগণ, হে দ্বীনের আমানতদার ও শরীয়তের রক্ষকগণ!
ইসলামের ইতিহাসে আপনারাই সর্বদা পথপ্রদর্শনের আলো এবং ফিতনার অন্ধকারে উম্মাহর দিশারী হয়ে থেকেছেন। আজ ইসলামের শত্রুরা সর্বশক্তি দিয়ে মুসলমানদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আপনাদের দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুতর।
মহানবী (সা.) বলেছেন: “পৃথিবীতে আলেমদের দৃষ্টান্ত আকাশের নক্ষত্রের মতো, যাদের দ্বারা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ নির্ণয় করা হয়।”
যদি আকাশের নক্ষত্রগুলো আলোকিত না হয়, পথিকরা অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে।
আজ ইসলামি বিশ্বের সকল আলেম, চিন্তাবিদ, মেধাবী ও লেখকদের দায়িত্ব হলো তাঁদের কলম ও বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধী আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের প্রকৃত চেহারা উম্মাহর সামনে উন্মোচন করা। এই শত্রুরা শুধু ইসলামি ইরানের সঙ্গেই নয়, বরং ইসলাম ও মুসলমানদের মূল অস্তিত্বের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছে। এই অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা আল্লাহর আমানতের প্রতি খিয়ানত এবং উম্মাহকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করার শামিল।
আমরা সকল ইসলামি আলেমের কাছে আশা করি, তাঁরা দৃঢ় বিবৃতি প্রদান, সচেতনতামূলক সম্মেলন আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে ইসলামি ইরানের বিপ্লবী নেতার শাহাদাত ও প্রতিরোধের কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাবেন এবং ইসলামের প্রতিরক্ষার শক্ত দুর্গ হিসেবে ইসলামি ইরানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করবেন।
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর সহায়ক হও।” (সূরা সফফ: ১৪)
১০_ আমরা অপরাধী আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের প্রতি ঘোষণা করছি—যেমনটি শহীদ নেতা বারবার বলেছেন—তোমরা ইসলামি উম্মাহ এবং ইরানের মুসলিম জনগণকে চিনতে পারোনি এবং ইরানের ভূমিতে আগ্রাসন চালিয়ে তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হিসাব করেছ। সংগ্রামী ও প্রতিরোধী ইরানের জনগণ আশুরার সংস্কৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে কখনোই জুলুমের সামনে আত্মসমর্পণ করেনি।
এই জাতির ৮ বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষা, বিগত বছরগুলোর অসংখ্য ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং সাম্প্রতিক ১২ দিনের প্রতিরোধ—সবই এর প্রমাণ। আমরা তোমাদের সুসংবাদ দিচ্ছি যে, তোমাদের পরিণতি নিকটবর্তী। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, এবং আল্লাহর নিয়ম এই যে, জালিম ও অত্যাচারীরা শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মের শাস্তি ভোগ করবে।
“আর আমি ইচ্ছা করি পৃথিবীতে দুর্বলদের ওপর অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা বানাতে এবং তাদেরকেই উত্তরাধিকারী করতে।” (সূরা কাসাস: ৫)
আমরা তোমাদের সতর্ক করছি—তোমরা যত অপরাধই করো, মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে যত বিশ্বাসঘাতকতাই করো এবং ইরানের মুসলিম জনগণের ওপর যত বোমাই নিক্ষেপ করো না কেন, তা কেবল তোমাদের প্রতি জাতিসমূহের ঘৃণা বৃদ্ধি করবে এবং তোমাদের ধ্বংসের জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। আমাদের পথ হলো প্রতিরোধের পথ- তোমাদের সম্পূর্ণ পতন না হওয়া পর্যন্ত। আমাদের অঙ্গীকার হলো আল্লাহর প্রতিশ্রুতি—সত্যের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত, এবং ভবিষ্যৎ মুজাহিদ ও মুত্তাকীদেরই।
“আর পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য।” (সূরা কাসাস: ৮৩)
_ পরিশেষে, আমরা বিপ্লবের আদর্শ ও শহীদদের সঙ্গে আমাদের অঙ্গীকার নবায়ন করছি এবং আমাদের শহীদ নেতার সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার করছি যে, আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বেলায়েতের পথে, প্রতিরোধ ও ইসলামের মর্যাদার জন্য অবিচল থাকব। আমরা প্রজ্ঞাবান ইসলামি বিপ্লবের নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী (দামা জিল্লুহু)-এর প্রতি আমাদের দৃঢ় ও সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা করছি।
হে আল্লাহ:
_ ইসলামের মুজাহিদ যোদ্ধাদেরকে সকল প্রতিরোধের ময়দানে আপনার সাহায্য দ্বারা সমর্থন করুন।
_ সম্মানিত ইরানের জাতিকে এই মহা পরীক্ষায় দৃঢ় ও সম্মানিত রাখুন।
_ শহীদ নেতা ও প্রতিরোধের কমান্ডারদের পবিত্র রক্তকে শীঘ্রই জায়নিস্ট শাসনের সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অপরাধী আমেরিকার পতনের কারণ করে দিন।
_ ইসলামি উম্মাহকে গাফিলতির ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলুন এবং তাদেরকে প্রকৃত ঐক্য ও সংহতির পথে পরিচালিত করুন।
_ ইসলামি দেশসমূহ ও ইসলামি বিশ্বের আলেমদের তাওফিক দান করুন যাতে তারা সত্যের কাতারে এবং মজলুমদের পাশে দাঁড়াতে পারে।
এবং আমাদের শেষ কথা—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইসলামি মাযহাবসমূহের নৈকট্য প্রতিষ্ঠার উচ্চ পরিষদ
বৃহস্পতিবার: ৬ / ০১ / ১৪০৫ (ফারসি সাল)
৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি
২৬ মার্চ, ২০২৬