মিলিয়ন ম্যান মার্চে উত্তাল ইরান: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের অঙ্গীকার
পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
ইরানের সর্বস্তরের মানুষ আজ সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একযোগে রাস্তায় নেমে এক ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করেছেন।
১২ জানুয়ারি (সোমবার) বেলা দুইটায় রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে একযোগে শুরু হয় “মার্কিন–ইহুদিবাদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংহতি সমাবেশ”। এতে জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেয়ি, প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি। তারা জনগণের সঙ্গে মিলে মার্কিন-ইসরায়েলি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও দাঙ্গাবাজদের অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান।
বুশেহর, খোরাসান রাজাভি, পশ্চিম আজারবাইজান, ইস্ফাহান, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি, গিলান, দক্ষিণ খোরাসান, সিস্তান ও বালুচিস্তান, বন্দর আব্বাস, কুর্দিস্তান, কেন্দ্রীয় প্রদেশ, কাশান এবং কেশম দ্বীপসহ প্রায় সব অঞ্চলের রাজপথে জনতার ঢল নামে। সকাল থেকে রাস্তাঘাট ও স্কয়ারগুলো মুখরিত থাকে জনতার শ্লোগানে। এসময় তাঁরা সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা, ধ্বংসাত্মক তৎপরতা এবং বিদেশি প্ররোচনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু অসন্তুষ্টি ঘিরে যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখন দাঙ্গাকারীরা তাতে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালায়। তবে আজকের এই সারাদেশব্যাপী গণঅংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, ইরানের জনগণ জাতিগত বা মতাদর্শিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের নিরাপত্তা, স্থিতি ও স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। জনগণের এই সংহতি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠায় যে, চাপের মুখে ইরান নত কিংবা বিভক্ত হবে না।
এদিকে, সাম্প্রতিক সহিংস হামলায় নিহতদের হওয়া নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান।
ইরানের জনগণ আবারও দেখিয়ে দিলেন— যত প্রতিকূলতাই আসুক, তারা একে অপরের পাশে থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আদর্শের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবেন এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখে কোনোভাবেই নত হবেন না।
সূত্র: ইনকিলাব