মিনাবের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে ৪,০০০ শিশুদের ই-বুক ও অডিওবুক বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২৯, ২০২৬
তেহরান— “ইরানের আগামী দিনের আশা” শীর্ষক একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার সমন্বয়ে শিশু ও তরুণদের জন্য ৪,০০০টি ই-বুক ও অডিওবুক বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা মিনাবের শহীদ শিশুদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।
এই প্রচারণাটি এলমি ফারহাঙ্গি, দানি, আভারসা, শিশু ও কিশোরদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সংস্থা (কানোন), ওফক, নারদেবান, কাদিয়ানি, কমিক সিটি ও তোলুয়ে কোকনুসসহ কয়েকটি শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা এবং টাকছে ডিজিটাল বই প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে—ইরনা মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়।
আয়োজকদের মতে, এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনটি বই পড়ার অধিকার রক্ষা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সব শিশুদের মধ্যে আশা ও কল্পনার শিখা জ্বালিয়ে রাখার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই বইগুলো একাকিত্বের মুহূর্তে সঙ্গী হিসেবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য আরও উজ্জ্বল পৃথিবীর সাথে সংযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
এই উদ্যোগটি মিনাবের নিরপরাধ শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের কষ্ট ও ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও দেশটি ভবিষ্যৎ নির্মাতাদের বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উচ্চমানের সাহিত্য থেকে আর্থিক বাধা দূর করার মাধ্যমে এই প্রচারণা প্রতিটি ইরানি শিশুকে গল্প ও জ্ঞানের রূপান্তরকারী শক্তি গ্রহণের সুযোগ দিতে চায়।
২৮ ফেব্রুয়ারি, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তায়্যেবেহ মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভয়াবহ এক হামলার লক্ষ্য হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর তাদের হামলা শুরু করে।
সেই সময় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী বহু শিশু শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিচ্ছিল। তখন স্কুলটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং শিশু ও শিক্ষকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে মোট ১৬৮ জন নিহত এবং অন্তত ৯৫ জন আহত হন—যা সংঘাতের প্রথম দিনের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিত্রের পর এই ঘটনার দায় অস্বীকারের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত ফরেনসিক ও ডিজিটাল তদন্ত ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
আল জাজিরার ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের স্যাটেলাইট ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্কুলটি অন্তত ১০ বছর ধরে একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ছিল এবং এর আশেপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ নিশ্চিত করে যে, স্কুলটি তিনটি পৃথক ও পরিকল্পিত হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি ভেরিফাই, সিবিসি ও এনপিআরসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তদন্তেও যুক্তরাষ্ট্রের দায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।
এই তথ্যগুলো হামলার ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, কারণ হামলার ধরণ ইঙ্গিত করে এটি একটি বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরাসরি লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। মিনাবের এই স্কুল ট্র্যাজেডি এখন যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির একটি করুণ প্রতীক এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: তেহরান টাইমস