মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন, সুযোগ নেওয়ার চেষ্টায় চীন

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 

news-image

২০২৬ সালের শুরুর দিকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় সেই শূন্যস্থান পূরণে এবং নিজের প্রভাব বিস্তারে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চীন।

গত কয়েক মাস ধরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শীতলতা এবং দিল্লির প্রভাব হ্রাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং এখন ঢাকার জন্য প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশকে চীনের বিনিয়োগের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে বাধ্য করছে। চীন এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বাণিজ্যিক আলোচনার গতি ত্বরান্বিত করেছে।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি এবং সীমান্ত সংক্রান্ত কিছু অমীমাংসিত ইস্যুতে অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা বেইজিংয়ের প্রস্তাবগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

এই পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা প্রতিবেশী প্রথম নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে দিল্লির প্রভাব কমে আসা এবং চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত আধিপত্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ফলে ঢাকার এই পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি এবং বেইজিংয়ের সক্রিয়তা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর