পেজেশকিয়ান: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান একটি জাতীয় গৌরব
পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১২, ২০২৬
তাসনিম নিউজ এজেন্সির সরকারি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তদারকি ও মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা এবং তিনটি কৌশলগত মন্ত্রণালয়—তেল, বিদ্যুৎ (শক্তি) ও জিহাদ কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। তিনি সরাসরি বিভিন্ন কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত হন।
এই পরিদর্শনগুলো বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে নির্বাহী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা এবং তার প্রভাব দেশের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদের ওপর কীভাবে পড়েছে, তা বিবেচনায় রেখে।
রাষ্ট্রপতি এসব সংস্থা পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ও বিশেষায়িত প্রতিবেদন শোনেন এবং জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থায় পেজেশকিয়ান বিশেষভাবে বাজেট আইনের বাস্তবায়ন, এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্পদের জোগান ও বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। তিনি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধকালীন সহায়তা প্রকল্পের অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি এই সংস্থার কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করে সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর তিনি তেল মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সাম্প্রতিক হামলায় তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই মন্ত্রণালয় হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল, কিন্তু কঠিন পরিস্থিতি ও ব্যাপক হুমকি সত্ত্বেও জনগণের জীবনে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পরিকল্পনা ও ত্যাগের কারণে।
রাষ্ট্রপতি এই প্রচেষ্টাকে একটি বড় ও স্মরণীয় গৌরবময় ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, সবচেয়ে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও কর্মীরা সেবা প্রদান থেকে বিরত থাকেননি।
পরে তিনি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট ব্যবস্থাপনায় তাদের কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুর হামলায় কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত পুনর্গঠন এবং জনসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন এড়ানো এই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সক্ষমতা ও ত্যাগী মানসিকতার প্রমাণ।
তিনি জনগণকে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া, তিনি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন।
পরবর্তীতে তিনি জিহাদ কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিতরণ ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকটকালেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি এবং বিতরণ ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও কার্যকর ছিল।
রাষ্ট্রপতি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
কৃষিমন্ত্রীও বলেন, এই সাফল্য সরকারের সমর্থন, পরিকল্পনা এবং জনগণের মাঝে রাষ্ট্রপতির সরাসরি উপস্থিতির ফল। তিনি উল্লেখ করেন, গত চল্লিশ দিনের সংকটকালে রাষ্ট্রপতির সক্রিয় উপস্থিতি জনগণের মনোবল ও প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি