পেজেশকিয়ানঃ যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ কূটনীতির পথকে হুমকি, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে
পোস্ট হয়েছে: মে ৭, ২০২৬
তেহরান–ইরনা: মাসউদ পেজেশকিয়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ–এর সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ কূটনীতির পথকে হুমকি, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, কার্যকর কোনো আলোচনা হতে হলে যুদ্ধের অবসান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট ভবনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে এই ফোনালাপে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, চলমান আলোচনা এবং কৌশলগত বিষয়—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পেজেশকিয়ান ফ্রান্সের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ইরান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে এবং ফ্রান্সের এই অবস্থানকে স্বাগত জানায়।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল বারবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে এবং গাজাতেও একই কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব অপরাধ দেখেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, ফলে লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী কাজ করছে।
তিনি অতীত আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে নিউইয়র্কে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে অগ্রগতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করে। পরে ইউরোপীয় দেশগুলোও “স্ন্যাপব্যাক” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ায়, যা কূটনীতির পথকে সহযোগিতার বদলে চাপ ও নিষেধাজ্ঞার দিকে ঠেলে দেয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সবসময় ইউরোপের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করেছে, কিন্তু প্রতিদান একইভাবে পাওয়া যায়নি।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার কারণ হিসেবে বলেন, অতীতে দুইবার আলোচনার সময়ই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা হয়েছে, যা “পিঠে ছুরি মারা”র মতো আচরণ।
তিনি হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপই সেখানে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও সমুদ্র বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির অভিযোগও করেন।
তিনি বলেন, ইরান সব সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী করতে প্রস্তুত, তবে আলোচনার আগে অবরোধ ও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ বন্ধ হতে হবে।
লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যেন তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করতে দেয়।
আলোচনার শেষদিকে তিনি বলেন, ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা সফল হতে হলে যুদ্ধ বন্ধ ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
অন্যদিকে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার পক্ষে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও লেবাননে হামলার বিষয়গুলোকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
সূত্র: ইরনা