শনিবার, ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

নওরোজ ও ঈদুল ফিত্‌র উপলক্ষ্যে ইসলামিক সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ মাহদী ইমানিপুরের বাণী

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ২১, ২০২৬ 

news-image

নওরোজের আগমন প্রকৃতির দেহে পুনর্জন্মের এক মহিমান্বিত প্রকাশ; এটি এমন এক মুহূর্ত যখন পৃথিবী এক নতুন পোশাকে সজ্জিত হয় এবং মানুষকে তার জীবনপথ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তার জন্য আহ্বান করা হয়। নওরোজ একটি ঐশী উপহার যা মানুষকে সময়ের প্রবাহে থমকে দাঁড়াতে, তার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম পরিবর্তন প্রার্থনা করতে আমন্ত্রণ জানায়; ঠিক সেই রূপান্তর, সেই একই রূপান্তর যা ‘আহসান হাল’ (সর্বোত্তম অবস্থা)-এ পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বছর শেষের প্রার্থনায় চাওয়া হয়। নওরোজের মূল আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যগুলো ঐশী শক্তি ও প্রজ্ঞার নিদর্শনে পরিপূর্ণ এক সুস্পষ্ট পথে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও নবায়নের জন্য মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এই রূপান্তর ও নবায়নই অস্তিত্বজগতে খোদার সেই চলমান ঐতিহ্য, এবং নওরোজকে প্রকৃতিতে এর প্রকাশবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বছরের সন্ধিক্ষণে, যখন হৃদয় অভ্যন্তরীণ রূপান্তরের আশা নিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানায়, তখন বিভিন্ন জাতি এক অভিন্ন অনুভূতির মাধ্যমে তাদের হৃদয় ও চিন্তাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সংস্কৃতির মধ্যে এক গভীর বন্ধন স্থাপন করে। সুতরাং, নওরোজ এই অঞ্চলের সরকার ও জাতিসমূহের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক মৈত্রীর পথ প্রশস্ত করতে পারে।

নওরোজের আচার-অনুষ্ঠানে নিহিত প্রতীক ও প্রকাশগুলো ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি `গঠনমূলক রূপান্তরের’ মডেল তৈরি করার ক্ষমতা রাখে।

নববর্ষের আগমন সাধারণত বন্ধুত্ব, শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু এই বছর আমাদের প্রিয় ইরানে আমরা এই দিনগুলোর সাথে যুদ্ধের সংমিশ্রণ প্রত্যক্ষ করছি। মানবতার শত্রুদের দ্বারা আমাদের জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া এই অসভ্য ও নৃশংস যুদ্ধ ইরানে নওরোজকে এক ভিন্ন রূপ দিয়েছে; এমন এক রূপ যা মহিমা, সম্মান ও প্রতিরোধের সাথে মিশ্রিত। দুর্নীতি ও ধ্বংসের বীজের বিরুদ্ধে সাহসী ও নির্ভীক ইরানি জনগণ এবং যোদ্ধাদের অনুকরণীয় প্রতিরোধ আবারও বিশ্বের কাছে এই দেশের স্থিতিশীলতার রহস্য উন্মোচন করেছে এবং স্বাধীন জাতিসমূহের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই যুদ্ধে মানবতার শত্রুরা ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) এবং মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবা বালিকা বিদ্যালয়ের ১৬৮ জন ছাত্রীসহ শত শত মানুষকে শহীদ করেছে এবং ইরানি জাতিকে শোকাহত করেছে। আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আজ সারা ইরান থেকে যে পবিত্র ক্রোধ প্রকাশ পাচ্ছে, তা এমন এক জাতির সম্মান ও উদ্দীপনার প্রতীক, যারা শত্রুর নিপীড়ন ও আগ্রাসনের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করেনি।

এ বছর নওরোজের সাথে যুদ্ধের এই সংযোগ ইরানিদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে থেকে যাবে এবং সময়ের শয়তানদের বিরুদ্ধে ইরানিদের মহাকাব্যিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। তাই, বসন্ত শুধু বছরের একটি ঋতুর নাম নয়, বরং ইরানি জাতির বিশ্বাস, সংহতি এবং প্রতিরোধের প্রতীক। এ বছরের নওরোজ এখন আর শুধু প্রকৃতির রূপান্তরের সূচনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূচনা। একটি উন্নততর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বাসীদের সাথে মুসলিমদের অভিভাবক এবং ইসলামী বিপ্লবের তৃতীয় নেতার এক পবিত্র বন্ধনের সূচনা।

অধিকন্তু, এ বছর নওরোজ ও ঈদুল ফিতরের একই সময়ে উদযাপিত হওয়া এবং এই দুটি ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্যের যুগপৎ উদযাপন ইসলামী সমাজকে একটি জোরালো বার্তা দেয়: তা হলো, ইরানি জাতি তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে, আমাদের ভূমির লোভী শত্রুদের সামনে তার আদর্শ ও নীতি থেকে কখনো পিছু হটবে না।

আমি আমার সকল প্রিয় দেশবাসীকে, বিশেষ করে বিদেশে বসবাসরত ইরানিদের এবং নওরোজ অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে, এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এবং নিপীড়িত ও শক্তিশালী ইরান জাতির বিজয়ের জন্য দোয়া করতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সুস্বাস্থ্য, সাফল্য, আশীর্বাদ ও বিজয়ে পরিপূর্ণ একটি বছর প্রার্থনা করি। আমি আশা করি, আগামী বছরটি ইরান এবং শান্তি ও মানবতাকে ভালোবাসে এমন সকল জাতির জন্য সহানুভূতি, অগ্রগতি এবং এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আসবে। ইনশাআল্লাহ।

 

মোহাম্মদ মাহদী ইমানিপুর

ইসলামিক সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার প্রধান