ঢাকায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বিজয়বার্ষিকী অনুষ্ঠিত
পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বিজয়বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘ইরানের ইসলামি বিপ্লব: বর্তমান যুগে ইসলামের পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর ইসরাফিল আমিরি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকার মহাখালি দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ ও খুলনার ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকার ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে দেশটি আধুনিকতার অন্ধ অনুসরণের পথ থেকে বেরিয়ে ইসলামি মূল্যবোধের দিকে ধাবিত হয়। সেই সময় থেকে ইরান শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বিস্ময়কর।
শিক্ষাক্ষেত্রে ইরান বিশেষভাবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উচ্চশিক্ষার বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছে। বিপ্লবের পর ইরান শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ও ইসলামি আদর্শকে সমন্বয় করেছে। স্বাস্থ্যখাতে দেশটি জনসাধারণের জন্য ব্যাপক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। বিশেষ করে ন্যানো প্রযুক্তি, রোবটিক্স, মহাকাশ ও রণনীতির ক্ষেত্রে দেশটি উল্লেখযোগ্য অর্জন করেছে। ইরান নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে, যা তাকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে। এভাবে দেশটি আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও কোনোরকমভাবে আত্মসমর্পণ করে না এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।
ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান কেবল অভ্যন্তরীণভাবে নয়, বৈশ্বিক মুসলিম সমাজের মধ্যে এক প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। ইসলামি মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতার প্রতি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজের আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের এই অবস্থান ও শক্তি আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুসলিমদের জন্য একটি প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা দেখায় যে কোনো দেশের উপর চাপ ও নীতি প্রয়োগ করা গেলেও তারা নিজেদের স্বকীয়তা হারায় না।
সার্বিকভাবে, ইসলামি বিপ্লব ইরানকে একটি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামরিক শক্তির বিকাশ দেশটিকে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় আলাদা ও স্বনির্ভর অবস্থায় রাখে। এছাড়াও, ইরান ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতি অনুসরণের মাধ্যমে মুসলিম সমাজের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। ইসলামি বিপ্লব শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং এটি মুসলিম বিশ্বে পুনর্জাগরণের প্রতীক।