চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে: জামায়াত আমির
পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১৭, ২০২৬
বাংলাদেশ আর কারো আধিপত্য মেনে নেবে না এবং বিগত দিনের অন্যায়ের বোঝা জাতি ঘাড় থেকে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দেশকে দখলমুক্ত করেছেন। এখন আমাদের যুবসমাজ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর ১৫ আসনের বাসিন্দাদের মাঝে চীনের সহযোগিতায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াত আমির চীনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং আন্তরিক উন্নয়ন অংশীদার। ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বাংলাদেশের বড় বড় স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে অবদান রেখে চলেছে। তিনি মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এসব স্থাপনা চীনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের নিদর্শন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শনগুলো হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল।’
চীনের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চীন এমন একটি দেশ যারা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অথচ অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই সব নিয়ে যায় এবং যখন-তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন আরও বেশি উদ্যোগী হবে। তিনি বলেন, “তিস্তা প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের মানুষের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। অতীতে কেন এটি হয়নি তা শিশুরাও বোঝে। আমরা সেই লেগাসি আর বহন করতে চাই না।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির জানান, চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল হল নির্মাণের ঘোষণা ও বাজেট বরাদ্দ করেছে। তিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হাতে নেওয়ার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
উপস্থিত মিরপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরই একজন। এই এলাকা আমার নিজের ঘর। সরকার বা বন্ধুরাষ্ট্র থেকে যা আসবে, তা আমানত হিসেবে আপনাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর বাইরে আমরা ব্যক্তিগতভাবেও আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুস্থদের হাতে ফুডপ্যাক তুলে দেন। এসময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি আসনে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন।
সূত্র: ইনকিলাব