রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আন্তর্জাতিক ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবৃতি বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অবকাঠামো এবং নিরীহ মানুষের উপর হামলার নিন্দা জ্ঞাপন

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ৫, ২০২৬ 

news-image

পরম করুণাময়, অনন্ত দাতা আল্লাহর নামে

যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদেরকে যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ, তাদের প্ৰতি অত্যাচার করা হয়েছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। (সূরা হজ : ৩৯)

বিশ্বের জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের আলেমগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক ও গণমাধ্যমকর্মীগণ, রাজনৈতিক মহল এবং বিশ্বের সকল স্বাধীন মানুষের প্রতি!

গভীর দুঃখ ও পবিত্র ক্রোধে পূর্ণ হৃদয়ে, আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীরা, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আন্তর্জাতিক ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে, আমাদের দেশের বৈজ্ঞানিক, গবেষণা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসমূহের বিরুদ্ধে উদ্ধত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং অপরাধী জায়নবাদী শাসনের অব্যাহত বর্বর আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এই কাপুরুষোচিত হামলাগুলো শুরু হয়েছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মুজাহিদদের নেতা, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (কুদস সিররুহুশ শারীফ)-এর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে; এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারের শাহাদাত এবং মিনাব শহরের শাজারে তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে, যেখানে ১৭৫ জনেরও বেশি নিরীহ শিশু ও শিক্ষক শহীদ হন। এ পর্যন্ত এ হামলার ফলে শত শত কর্মকর্তা ও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

এখনও এই অপরাধ, গুপ্তহত্যা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলো মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি, নৈতিক নীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক বিবেকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অপরাধী আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রু, যারা এক মাস ধরে লাগামহীন হামলা চালিয়ে সাহসী মুজাহিদদের মোকাবিলায় শুধু ব্যর্থই হয়নি এবং তাদের কোনো ঘোষিত লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি, বরং সব দিক থেকেই বেদনাদায়ক আঘাত পেয়েছে, তারা এখন অবিরামভাবে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, উপাসনালয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হাসপাতাল, ঔষধ উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে।

এদিকে, একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কাফেরদের যুদ্ধাপরাধ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের ধর্মীয় নেতার শাহাদাতের মুখে ইসলামী দেশগুলোর কাছে প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে, তারা নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াবে; যা অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সাথে ঘটেনি।

অতএব, আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের আলেম ও প্রচারক, রাজনৈতিক অভিজাত, দলীয় নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক, শিল্প ও গণমাধ্যমের মানুষ, গোত্রীয় প্রধান ও শেখ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্মী এবং সংক্ষেপে, বিশ্বের সকল স্বাধীন মানুষ, ন্যায়বিচারকামী এবং নিপীড়িতদের কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, তারা নীরব থাকবেন না এবং সাহসিকতার সাথে এই নৃশংস আক্রমণ ও ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানাবেন।

আমরা আমরা স্বাধীনচেতা বিজ্ঞানী, জাগ্রত ধর্মপ্রচারক, জনপ্রিয় মঞ্চ ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম কর্মী এবং মানবতার ভাগ্য নিয়ে চিন্তিত সকলকে আহ্বান জানাই, যেন তারা ইরানের বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা কেন্দ্র, মসজিদ ও গির্জা, নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, অবকাঠামো, এমনকি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাচীন প্রত্নবস্তুর উপর বোমা হামলার ঘটনায় জায়নবাদী ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের সমর্থকদের অপরাধের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় ও স্বচ্ছ অবস্থান গ্রহণ করেন; এবং বিভিন্ন ফোরাম, অনুষ্ঠান ও গণমাধ্যমে এই নিষ্ঠুর যুদ্ধের নানা দিক উন্মোচন করেন, এবং আন্তর্জাতিক আদালতে রক্তপিপাসু মার্কিন সরকারের নেতা ও শিশুহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনকে দোষী সাব্যস্ত করার পথ প্রশস্ত করেন।

পরিশেষে, আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনার পদক্ষেপকে পরিচালিত করেন এবং আপনার সৎ প্রচেষ্টাকে আপনার নেক আমলের পাল্লায় স্থাপন করেন, যাতে আমরা সবাই পৃথিবীতে অত্যাচারীদের পরাজয় এবং মিথ্যার উপর সত্যের বিজয় প্রত্যক্ষ করতে পারি।

ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা

স্বাক্ষরকারী:

১. মোহাম্মদ হাসান আখতারি, আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান

২. আলিরেজা আরাফি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেমিনারিসমূহের পরিচালক

৩. মোহাম্মদ মেহেদী ইমানিপুর, ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার প্রধান

৪. রেজা রামেজানী, আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব

৫. হামিদ শাহরিয়ারি, ইসলামী মাযহাবসমূহের নৈকট্য বিষয়ক বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব

৬. আলী আব্বাসী, আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান

৭. সাইয়্যেদ আব্দুল ফাত্তাহ নবাব, হজ ও যিয়ারাত বিষয়ক সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি

৮. আহমদ ভায়েজি, ইসলামী প্রচার দপ্তরের প্রধান

 

১৩ ফারভারদিন, ১৪০৫

১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

২ এপ্রিল, ২০২৬