রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ইরান যুদ্ধ ও সংলাপ উভয়ের জন্য প্রস্তুত, কোনোভাবেই চাপ স্বীকার করবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 

news-image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ও সংলাপ উভয়ের জন্য প্রস্তুত, তবে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত মেনে নেবে না।

আঙ্কারায় আজ (শুক্রবার) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আরাকচি বলেন, “ইরান পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, যদি তা সমান অবস্থান, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে হয়। আলোচনাগুলো ন্যায়সঙ্গত হলে আমরা অংশগ্রহণ করব। তবে কোনো জোর বা চাপ গ্রহণ করা হবে না।”

আরাকচি বলেন, তিনি তুরস্কে আসতে পেরে আনন্দিত এবং ফিদানের সঙ্গে আলোচনাকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও তুরস্ক প্রতিবেশী ও বন্ধু, যারা সহজ ও কঠিন উভয় সময়ে একে অপরের পাশে ছিল।

তিনি আরও বলেন, ইরান যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানায় যা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনে, উত্তেজনা কমায় এবং ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে। তেহরান তুরস্কের আঞ্চলিক সংলাপের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে এবং আঞ্চলিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত, যার লক্ষ্য শান্তি, উত্তেজনা হ্রাস ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কিত প্রশ্নে আরাকচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার চেষ্টা করেছে এবং ইরান কোনো সমস্যা দেখছে না। তবে হুমকির ছায়ায় আলোচনা হবে না। তারা হুমকি পরিহার করে ন্যায্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত হবে।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, “ইরান কখনো কূটনীতি পরিত্যাগ করেনি এবং কখনো করবে না।”

করমর্দন করছেন হাকান ফিদান ও সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি 

আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনে কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই। ন্যায্য আলোচনার আগে ফরম্যাট, স্থান ও বিষয় ঠিক করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি আজ মি. ফিদানের সঙ্গে ভালো আলোচনা করেছি। আশা করি শিগগিরই একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে যা মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার নিশ্চয়তা দেবে।”

একই সময়ে, আরাকচি সতর্কবার্তা দেন: “ইরান আলোচনার জন্য যেমন প্রস্তুত, যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। আমরা ১২ দিনের যুদ্ধে আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।”

তিনি ২০২৫ সালের জুনের মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেন, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা ওমানের মাধ্যমে চলছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সংঘাত ভিন্ন হবে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত হয়, এবং এটি “দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধের বাইরে বিস্তৃত হতে পারে।”

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আলোচনা থেকে বাদ

আরাকচি বলেন, “ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আলোচনার বিষয় নয়। ইরানি জনগণের নিরাপত্তা অন্য কারোর উপর নির্ভরশীল নয়। আমরা দেশের প্রতিরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন তা তৈরি ও সম্প্রসারণ করব।”

তিনি আরও বলেন, ইরান ও তুরস্ক একমত যে কিছু বহির্বিশ্ব শক্তির অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিপজ্জনক হচ্ছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, আঙ্কারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইরানি জনগণই সমাধান করবে। তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে প্ররোচিত করছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। তিনি বলেন, তেহরান-ওয়াশিংটনের পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা উত্তেজনা হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই মন্তব্যগুলো এসেছে এমন এক সময়ে যখন ওয়াশিংটনের হুমকিসূচক ভাষা তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, “আরেকটি নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে,” যা আলোচনার জন্য চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি ব্যর্থ হলে সামরিক হামলা হতে পারে যা ২০২৫ সালের জুনের হামলার চেয়ে “অনেক বেশি ভয়ঙ্কর” হবে।

ইরান বারবার হুমকি ও জবরদস্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সতর্ক করেছে যে যেকোনো সামরিক হামলার ক্ষেত্রে তা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।#

পার্সটুডে