সোমবার, ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি: ইরানে সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতার সঙ্গে মোসাদের সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০২৬ 

news-image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানে সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতার সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের যোগসূত্রের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

আরাঘচি রোববার সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি ইরানের রাস্তায় মোসাদ এজেন্টদের চলাফেরার কথা বলেন।

আরাঘচি বলেন, ইরানি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকৃত সন্ত্রাসীরা হত্যা করছে, যাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে সেই মোসাদ এজেন্টরা—যাদের পরিচয় পম্পেও প্রকাশ্যেই দিয়েছেন। এসব গোষ্ঠী ইরানজুড়ে অর্থনৈতিক প্রতিবাদকে অস্থিরতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শীর্ষ এই ইরানি কূটনীতিক প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কি তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে এ ধরনের নৃশংসতা সহ্য করত?

আরাঘচি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নৃশংসতাকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছে এবং একে “আত্মরক্ষা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, অথচ অন্যান্য দেশকে সহিংস দাঙ্গাবাজদের বিষয়ে নীরব থাকতে বলেছে।

তিনি মিনিয়াপোলিসে এক আইসিই (ICE) এজেন্টের হাতে এক তরুণীর হত্যার প্রসঙ্গও টানেন, যেখানে ট্রাম্প ওই এজেন্টকে সমর্থন করেন এবং ভুক্তভোগীকে “ঘরোয়া সন্ত্রাসী” বলে অভিহিত করেন।

আরাঘচি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আমেরিকানদের হুমকি দিয়ে বলেছিল, “আপনি যদি কোনো ফেডারেল কর্মকর্তা বা এজেন্টের গায়ে আঙুলও তোলেন, তবে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হবেন।”

শনিবার এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকে দাঙ্গাবাজদের প্রতি তাদের সমর্থনের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

আরাঘচির মতে, চলতি মাসের শুরুতে এক্সে পম্পেও যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সেই অভিযোগকে খণ্ডন করে—যেখানে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততার কথা বলাকে “ভ্রম” বলা হয়েছিল।

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ দলের সাবেক সিআইএ পরিচালক প্রকাশ্য ও নির্লজ্জভাবে দেখিয়েছেন, মোসাদ এবং তাদের মার্কিন সহযোগীরা আসলে কী করছে,”—লেখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে “ভ্রমগ্রস্ত” হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই ভ্রমের মধ্যে রয়েছে এমন বিশ্বাস যে “অগ্নিসংযোগকারীরা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই পুড়ে যায় না।”

রোববার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি বলেন, একটি “ধ্বংসাত্মক ও সংগঠিত নেটওয়ার্ক” সাম্প্রতিক দাঙ্গায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং ইরানের বিভিন্ন শহরে দাইশ (আইএস) সন্ত্রাসীদের কৌশলের মতো সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

রোববার তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে লারিজানি বলেন, সাম্প্রতিক দিনের সহিংস দাঙ্গাকে অবশ্যই অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে বৈধ প্রতিবাদ থেকে আলাদা করে দেখতে হবে।

নিরাপত্তা প্রধান সতর্ক করে বলেন, একটি আলাদা গোষ্ঠী বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে “চরম সহিংস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড” চালিয়েছে, যার মধ্যে হত্যা ও অগ্নিসংযোগ রয়েছে—যা তিনি দাইশের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেন।

তাসনিম এর আগে জানিয়েছিল, দেশজুড়ে দাঙ্গায় ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।

ইরানি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার জনগণের বৈধ অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত, তবে প্রতিবাদ ও সহিংস দাঙ্গার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই এই সহিংসতার নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারণ তারা “অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি” করতে চায়।

প্রেসিডেন্ট নাগরিকদের আহ্বান জানালেন ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ দ্বারা ইরানকে অস্থিতিশীল হতে না দিতে।
তিনি ইরানি জনগণকে আহ্বান জানান, মানুষ হত্যা এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগকারী “দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের” থেকে নিজেদের দূরে রাখতে।

সূত্র: প্রেস টিভি