মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের আটক ৭ বিলিয়নের ৩০মিলিয়ন ডলার ছাড় দক্ষিণ কোরিয়ার

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০২১ 

news-image

ইরান-সাউথ কোরিয়া জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্সের প্রধান হোসেইন তানহায়েই জানান তেল বিক্রির ৩০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ইরান এখন কোভিড ভ্যাকসিন কিনবে। এ অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া আটকে রেখেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করে ইরান। তারপর দুটি দেশের মধ্যে দরকষাকষির পর সিওল তেহরানকে আটক অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিলে ইরান দক্ষিণ কেরিয়ার জাহাজটি ছেড়ে দেয়। হোসেইন তানহায়েই জানান দক্ষিণ কোরিয়া তার দেশের সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে একটি চুক্তি করেছে। তেহরান টাইমস

ইরানের এই চেম্বার নেতা অন্যান্য দেশগুলিতে অবরুদ্ধ ইরানের সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্যে ভিয়েনায় যৌথ সমন্বিত পরিকল্পনার (জেসিপিওএ) আলোচনার তাৎপর্যকে তুলে ধরে বলেন, যদি আলোচনায় কোনও চুক্তি হয় তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আটক সম্পদ ইরানে ফিরিয়ে আনা সহজ এবং ত্বরান্বিত হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ভিয়েনা আলোচনায় তার দেশের শক্তিশালী উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নিশ্চিত ব্যর্থতার প্রমাণ। ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের ফলে শত্রুর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজে এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এখন ভিয়েনা আলোচনায় অতীতের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থেকে কথা বলছি। ভিয়েনা বৈঠকে এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, মার্কিনীরা সততা দেখালে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের পরমাণু সমঝোতায় দেশটির ফিরে আসা দ্রæত ও সহজ হবে না। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার চেয়ে ভালো চুক্তি সই করার লক্ষ্যে সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছিল তার সমালোচনা করে ওয়াশিংটন বলেছে, সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি যে সঠিক ছিল না তা প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভিয়েনায় ইরানের পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক বৈঠক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অভিন্ন লক্ষ্যে এগুচ্ছে এবং তা হচ্ছে পরমাণু সমঝোতার প্রতিশ্রæতিতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়া। ভিয়েনা আলোচনা গঠনমূলক ও ইতিবাচক হওয়া সত্তে¡ও এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে আলোচনা পরোক্ষ হওয়ার কারণে তা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানান নেড প্রাইস।

মার্কিন মুখপাত্র এমন সময় এসব কথা বললেন যখন ইরানের উপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান বলেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে নিজেই বেরিয়ে গেছে এবং অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে সবগুলো এক সঙ্গে করতে হবে। ভিয়েনা আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র ইরানের প্রেস টিভিকে এ তথ্য দিয়ে বলেছে, একসঙ্গে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার ছাড়া ইরান কোনোভাবেই অন্য কোনো প্রস্তাব মেনে নেবে না। ইরান আরো বলেছে, ভিয়েনা আলোচনায় অংশ নেয়া পাঁচ জাতিগোষ্ঠী যদি সঠিক পথে ফিরে না আসে এবং বাড়তি দাবি ও সময় ক্ষেপণ করে তাহলে ইরান এই আলোচনায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের গত কয়েক মাস ধরে আটক সম্পদ ছাড়িয়ে নিতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের ৭ বিলিয়ন ডলার আটক আছে যা তেল বিক্রি বাবদ তেহরানের পাওনা।