বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

অর্থমন্ত্রী: যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করবে না, তারা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা পাবে

পোস্ট হয়েছে: মে ১৩, ২০২৬ 

news-image

তেহরান – ইরনা: সাই্যেদ আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করবে না, তারা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা পাবে এবং সরকার এসব উৎপাদন ইউনিটকে শতভাগ সমর্থন দেবে।

মঙ্গলবার রাতে ইরনার অর্থনৈতিক প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাদানিজাদেহ বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময়েও আমরা কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতা তাদের প্রধান বিক্রি এসফান্দ মাসে (ইরানি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস) সম্পন্ন করেন এবং দেশের অধিকাংশ কর আয়ও এ সময়েই আসে। কিন্তু গত বছরের এসফান্দ মাসে জনগণ অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়েছিল, তাই তাদের ওপর করের চাপ বাড়ানো সম্ভব ছিল না। এজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয় যাতে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কর মওকুফ বা স্থগিত করা যায়।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কর বিভাগ ও শুল্ক দপ্তরে বহু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যাতে নওরোজ ও রমজান মাস—যা যুদ্ধকালীন সময়ের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল—সে সময় জনগণ শান্তিতে থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সচল থাকে।

তিনি বলেন, অনেক ব্যাংককর্মী শাখায় যেতে ভয় পেলেও অধিকাংশ কর্মী সাহসিকতার সঙ্গে কাজে উপস্থিত হয়ে জনগণকে সেবা দিয়েছেন।

মাদানিজাদেহ যোগ করেন, বীমা ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল। বহু ট্রাকচালক পণ্য পরিবহনের বীমা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় তাদের পণ্য বীমার আওতায় আনা হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় আবাসিক বাড়ির যুদ্ধবীমা চালু করা হয়েছিল এবং পরবর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও তা পুনরায় প্রচার করা হয়েছে, যাতে আগ্রহী পরিবারগুলো তাদের বাড়ির বীমা করতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক দলের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যুদ্ধের সময় জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া।

মাদানিজাদেহ বলেন, ইরানের জনগণ এমন উদারতা দেখিয়েছে যে, অন্যান্য দেশের যুদ্ধের সময় যেভাবে দোকানের তাক খালি হয়ে যায়, তা ইরানে ঘটেনি।

বড় ও মাঝারি শিল্প পুনর্গঠনে সরকারের পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও কারখানাগুলোতে হামলা চালানো। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে—কোন প্রতিষ্ঠানের কত ক্ষতি হয়েছে, পুনর্গঠনে কত অর্থ লাগবে এবং এই সময়ে তাদের কত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, পুনর্গঠনের পরিকল্পনা কয়েকটি স্তরে সাজানো হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে বড় শিল্পকারখানা—ইস্পাত, পেট্রোকেমিক্যাল ও আসালুই গ্যাস কমপ্লেক্স পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এগুলোর বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, বড় শিল্প পুনর্গঠনের অর্থায়নের একটি অংশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আজও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বড় শিল্পের পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হবে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান। এছাড়া, যারা ইস্পাত ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প পুনর্গঠনে বিনিয়োগ করবে, তাদের জন্য কর ছাড়ও দেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহায়তা

তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ী মূলধনী ঋণ, কর সুবিধা, কর ও সামাজিক বীমা পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিন্তু ইস্পাত ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারাও পরোক্ষভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব শহরে হামলা বেশি হয়েছে এবং যেখানে বহু মানুষ শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল, সেখানে বিশেষ করে সেবা খাতে বিক্রি মারাত্মকভাবে কমে যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধনের ঋণ, কর ও সামাজিক বীমা স্থগিতের সুবিধা রাখা হয়েছে।

মাদানিজাদেহ বলেন, এসব পরিকল্পনা কার্যকর করতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন এবং আশা করা হচ্ছে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে তা অনুমোদিত হবে।

কর্মী ছাঁটাই না করার শর্তে ঋণ

অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সব ধরনের সুবিধা ও ঋণ দেওয়ার শর্ত হলো কর্মী ছাঁটাই না করা।

তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে আশা করা হচ্ছে, উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সক্ষম হয়, তবে তারা কর্মী ছাঁটাই করবে না, যাতে বেকারত্ব আরও না বাড়ে।

মন্ত্রী জানান, গত এক-দুই সপ্তাহে ৫০ জনের কম কর্মী রয়েছে এমন ছোট ব্যবসার জন্য একটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কর্মীর বেতনের জন্য ২২ মিলিয়ন তুমান ঋণ দেওয়া হয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের “কাত” সিস্টেমে নিবন্ধন করে এ সুবিধা নিতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও শর্ত ছিল কমপক্ষে ৮০ শতাংশ কর্মী ধরে রাখা। অর্থাৎ, ১০ জন কর্মী থাকা একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ২ জনকে ছাঁটাই করতে পারবে।

সূত্র: ইরনা