শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

শহীদ সম্রাটের শাশ্বত মহাবিপ্লব-৯ (আশুরা: শ্রেষ্ঠ শহীদদের শ্রেষ্ঠ কুরবানি)

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ২৭, ২০২৩ 

news-image

আজ পবিত্র আশুরা। আজ সৃষ্টিকুলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কুরবানির দিন। এই কুরবানি ছিল সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এতে তিল পরিমাণ খাঁদও ছিল না।

৬১ হিজরির এ দিনে যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের প্রতিটি রক্ত-কণিকা কেবল লক্ষ-কোটি নয় অজস্র-অশেষ রক্ত বিন্দুতে পরিণত হয়ে ইসলামের প্রাণ-প্রবাহকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল। সেদিনের সেই শহীদদের খুন রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত ইসলামে নতুন রক্ত প্রবাহ দান করেছিল। তাই তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতি যুগযুগ ধরে মানুষকে মুক্তির প্রেরণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস দিয়ে যাচ্ছে। এই‌ শহীদরা কিয়ামত পর্যন্ত অমর থাকবেন এবং শেষ বিচারের দিন আল্লাহ তাঁদেরকে এমন জৌলুসসহ হাজির করবেন যে স্বর্গীয় বাহনে উপবিষ্ট নবী-রাসূলরাও তাঁদেরকে সম্মান দেখাতে নীচে অবতরণ করবেন।

ইমাম হুসাইন (আ) আশুরার দিন শুরু হওয়ার আগে রাতের বেলাতেই তাঁর কাফেলার মধ্যে যাদের নিয়্যতে বিন্দু পরিমাণ গোলমাল আছে তাদের কাছ থেকে মুক্ত হতে চাইলেন। তিনি সবাইকে একস্থানে সমবেত করলেন এবং শাহাদাতের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ভাষণ দিলেন। তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন, “আমি আমার সঙ্গী সাথীদের চেয়ে কোন সাথীকে বেশি নেককার এবং আমার আহলে বাইতের চেয়ে কোন পরিবারকে বেশি উত্তম মনে করি না। মহান আল্লাহ তোমাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন।  ভায়েরা আমার! জেনে রাখো আজকের এই রাত হবে তোমাদের শেষ রাত। আমার সাথে থাকলে তোমরা কেউই রেহাই পাবে না। আগামীকালই আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হবে। এমনকি আমার দুধের বাচ্চাকেও এরা রেহাই দেবে না। ভাইসব, তোমরা ইচ্ছে করলে চলে যেতে পারো। আমার হাতে তোমরা যে বায়াত করেছো, তা আমি ফিরিয়ে নিলাম। তোমরা এখন মুক্ত। আমার জন্যে শুধু শুধু তোমরা কেনো প্রাণ দেবে? শত্রুরা শুধু আমাকে চায়, তোমাদেরকে নয়। এখন অন্ধকার রাত। যার ইচ্ছা চলে যাও, কেউ দেখতে পাবে না ।

ইমাম ভাষণ শেষ করে তাঁর সৎ ভাই আবুল ফজল আব্বাসকে প্রদীপ নিভিয়ে দিতে বললেন। নির্ভরযোগ্য ও বেশিরভাগ বর্ণনাকারীর বর্ণনা অনুযায়ী যখন অন্ধকার হয়ে এলো তখন ইমামের সাথে আসা কেউই ইমাম বাহিনী ত্যাগ করার সুযোগ নিলেন না। অথচ রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। ইমাম হুসাইনের সঙ্গীদের সংখ্যা ছিল একশো জনেরও কম। আত্মত্যাগের আদর্শে বলীয়ান বিশুদ্ধ অন্তরের এই মর্দে মুমিনদের দিকে তাকিয়ে ইমামের প্রশান্ত মুখটা উজ্জ্বল দীপ্তিমান হয়ে উঠল। মহাকালের মহাত্যাগের জন্যে এরকম বিশুদ্ধ হৃদয়গুলোই তাঁর প্রয়োজন ছিল। তবুও তিনি তাঁর সাথীদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কেন গেলে না?”

এ প্রশ্ন শুনে আহলে বাইতের সদস্যরা বলে উঠলেন, “একি বলছেন হযরত! আমরা আপনাকে একা ফেলে চলে যাব- এও কি সম্ভব!!? লোকের কাছে গিয়ে কীভাবে মুখ দেখাব!? আমরা কি বলব মহানবী (সা.) এর সন্তানকে আমরা একা ফেলে চলে এসেছি। তা কখনো হবে না। নিজের জীবন দিয়ে দেব তবুও আপনাকে ছেড়ে যাব না! আপনার সাথে থেকে শহীদ হব! বীরত্ব ও সাহসিকতার অনন্য পরাকাষ্ঠা ইমাম হুসাইন ( আ ) এর সৎভাই আবুল ফজল আব্বাস সবার আগে এগিয়ে এসে বললেন , ‘আমরা তোমাকে একা রেখে নিজ নিজ শহরে ফিরে যাবো-এরকম কোনো দিন যেন না আসে৷

‘মুসলিম বিন আউসাজা দাঁড়িয়ে বললেন, “প্রিয় ইমাম একি বলছেন আপনি! আপনাকে দুশমনদের হাতে ফেলে রেখে পালিয়ে যাব? খোদা আপনার পরে যেন আমাদের জীবিত না রাখেন। আমরা যুদ্ধ করব। গায়ে শক্তি থাকা পর্যন্ত দুশমনের গায়ে তলোয়ার চালাব, বর্শা চালব। ওগুলো ভেঙে গেলে পাথর মেরে মেরে যুদ্ধ করব।”সাঈদ বিন আবদুল্লাহ হানাফী বললেন, প্রিয় ইমাম! খোদার কসম আপনাকে রেখে আমরা কোথাও যাবো না। আপনার জন্যে যদি নিহত হই এবং জীবন্ত দগ্ধ হই এবং তা যদি ৭০ বারও হয় তবুও আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না। আপনি মরে যাবেন আর আমরা বেঁচে থাকব- এ কি করে হয়!? যুহাইর ইবনে কাইন উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে মহানবীর প্রিয় সন্তান, খোদার শপথ, আপনি ও আপনার পরিবারকে রক্ষার জন্যে ইচ্ছে করে হাজার বার মরি ও হাজার বার জীবিত হই-এভাবে হাজারবার মরে বেঁচেও চাই নবীজীর খান্দান এবং এই যুবকদের জীবন সব বালা-মুসিবত্‍ থেকে রক্ষা পাক।-

ইমাম হাসানের ইয়াতিম পুত্র তেরো বছরের সুদর্শন কাসেম (আ) ইমামের পাশে চিৎকার করে বললেন, চাচাজান ! আমিও কি এই যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যাবো? ইমাম তাঁর দিকে দয়ার্দ্র চিত্তে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মৃত্যু তোমার দৃষ্টিতে কেমন? কাসেম বললেন, ‘চাচাজান! আল্লাহর দ্বীনের সহযোগিতা করতে গিয়ে এবং জুলুম-অত্যাচার দূর করতে গিয়ে যেই মৃত্যু ঘটে তাকে আমি মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি বলে মনে করি !’  ইমাম এবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, হ্যাঁ, ভাতিজা আমার! তুমিও শহীদ হবে ৷ একথা শুনে এই কিশোর তখনই অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত হতে লাগলেন৷ আর ইমাম হুসাইন (আ) চাঁদের রূপালি জ্যোছনায় তাঁর সঙ্গী-সাথীদের জন্যে দোয়া করলেন ৷ অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিতে তিনি শত্রুদের শিবিরগুলোর দিকে তাকিয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৭৮ ও ১৭৯ নম্বর আয়াত দুটি তিলাওয়াত করলেনঃ ‘কাফেররা যেন এই চিন্তা না করে যে, তাদের আমরা যে অবকাশ দিয়েছি তা তাদের মঙ্গলের জন্যে ৷ আমরা তাদেরকে অবকাশ দেই এইজন্যে যে,যাতে তারা তাদের গুনাহের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তোলে,তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি ৷ এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের অবস্থার মধ্যে ফেলে রাখবেন, তবে যে পর্যন্ত না ভালো থেকে মন্দ আলাদা হয়।

সঙ্গী-সাথীদের এরকম দৃঢ়তা দেখে ইমামের চেহারা মুবারক এক অভূতপূর্ব প্রফুল্লতায় হলো উদ্ভাসিত । তিনি মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালেন। ইমাম হুসাইন (আ.)’র ভাষণের পর সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে মশগুল হলেন ইবাদতে। কেউ সিজদায়, কেউ নামাজে, কেউ মুনাজাতে। কারবালার প্রান্তর সিক্ত হয়ে উঠল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শহীদদের অশ্রুতে। দুনিয়ার সব ফেরেশতা যোগ দিলেন তাদের এই প্রার্থনায়। বলা হয় ইমাম হুসাইন সে রাতেই তাঁর প্রত্যেক সঙ্গী সাথীকে বেহেশতে তাঁদের অবস্থানগুলো কোথায় হবে তার বাস্তব দৃশ্য দেখিয়েছিলেন। ফলে তাঁরা যে সত্যের পথে আছেন এবং সত্যের পথে শাহাদাতের মহাপুরস্কারও শিগগিরই পেয়ে যাবেন- এ নিয়ে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস সুনিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়। এমন সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের সম্পর্কেই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: হে  পরিপূর্ণ প্রশান্ত মন! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।–

সে রাতে ইমামের সঙ্গীদের একজন বয়স্ক সঙ্গী অত্যন্ত গম্ভীর প্রকৃতির হওয়া সত্ত্বেও এক বন্ধুর সঙ্গে  বার বার কৌতুক ও হাসি-ঠাট্টা করতে থাকায় বন্ধুটি এক সময় ধৈর্যচ্যুত হয়ে বিরক্তিমাখানো মহাবিস্ময় প্রকাশ করে বলেন: বন্ধ করোতো এসব! এ রাত কি হাসি ঠাট্টার রাত!? বন্ধুটি জবাবে বললেন, হ্যাঁ! ঘটনাক্রমে হাসি-ঠাট্টার জন্য এটাই সবচেয়ে উপযু্ক্ত রাত! কারণ কালই আমরা বেহেশতে যাচ্ছি! আত্মবিশ্বাসের প্রবল শক্তিতে বলিয়ান ছিলেন বলেই আশুরার দিন তাঁরা একেকজন যেন একশ জন বা হাজার জনের শক্তি নিয়ে লড়াই করছিলেন।

কারবালা ও আশুরা ছিল রক্তে-রাঙ্গানো ঈমানি পরীক্ষার কঠিনতম ময়দান। মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে কেউ যেন এমনটি না ভাবে যে আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদের বেহেশত দিয়ে দেয়া হবে! না, বরং আল্লাহ পরীক্ষা করবেন কারা সংগ্রামের ময়দানে অবিচল ও কারা ভীরু কাপুরুষ বা সুবিধাবাদী! আল্লাহ মুমিনদের ঈমান ও ধৈর্যকে পরীক্ষা করেন কখনও ভয় দিয়ে, মৃত্যু, রোগ-শোক ও নানা বিপদ-আপদ দিয়ে!  হ্যাঁ, আশুরার বিপ্লবকে নিয়েও ঈমানের মহাপরীক্ষা হয়েছিল। অনেক গণমান্য ব্যক্তিও সেই পরীক্ষায় ফেল করেছেন!  এমনকি নবীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনেরও কোনো কোনো পুরুষ মৃত্যুর ভয়ে বা মৃত্যুকে এড়াতে ইমামের প্রতিরোধ আন্দোলনে শরীক হননি! অন্যদিকে নবী-পরিবারের সঙ্গে জ্ঞাতিগোষ্ঠীগত সম্পর্ক নেই এমন অনেক পুরুষ ও এমনকি নারীও ইমামের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন এবং তাদের কারো কারো বয়স ছিল মাত্র দশ এগারো বছর!

বহু বছর আগে সিফফিনের যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার সময় হযরত আলী কারবালার পাশে থেমে সঙ্গীদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেছিলেন, এখানে তাঁদের মালসামানা নামানো হবে ও ঐখানে তাঁদের উট বা ঘোড়াগুলো বিশ্রাম নেবে এবং ওই জায়গাটা হচ্ছে তাঁদের শাহাদাতের স্থান! এভাবে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ভবিষ্যদ্বানী করে অঝোর ধারায় কেঁদেছিলেন। ফলে তাঁর সঙ্গীরাও ব্যাপক কান্নাকাটি করেন। সেই ঘটনায় উপস্থিত এক ব্যক্তি কারাবালায় ইয়াজিদ বাহিনীর সদস্য হয়ে আসলে হঠাৎ সেই ঘটনার স্মৃতি তার মনে জাগে! বিশেষ করে হযরত আলীর এ কথাটাও তার মনে পড়ে যে তিনি বলেছিলেন, এখানে যারা হুসাইনের পক্ষে যুদ্ধ করবে তারা বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে আর বিপক্ষরা হবে জাহান্নামী। তখনই সে ইমামের শিবিরে গিয়ে ইমামের কাছে ওই ঘটনাটির স্মৃতি তুলে ধরে। ইমাম হুসাইন তখন বললেন, এখন তুমি কি আমাদের পক্ষে না ইয়াজিদের দলে? লোকটি বলল, আমি নিরপেক্ষ! কারণ আপনাকে সমর্থনের কারণে ইয়াজিদিরা আমার পরিবার বা সম্পদের ক্ষতি করতে পারে! মানুষ দুর্ভাগা হলে এমনই হয়!  ইমাম তাকে  খুব দ্রুত বহুদূরে চলে যেতে বলেন! কারণ একজন ইমাম যখন সত্যের পথে সাহায্যের আবেদন জানান তখন তাতে সাড়া না দিলে আল্লাহর শাস্তি অনিবার্য হয়।

কারবালা ও আশুরা থেকে এ মহাসত্যটি ফুটে উঠে যে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ততক্ষণই ধর্মের পথে টিকে থাকতে পারে যতক্ষণ ধর্ম মানতে গেলে কোনো কঠিন বিপদ-আপদ আসে না বরং নানা সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যায়! অন্যদিকে সাচ্চা মুমিন বা বলিষ্ঠ ঈমানের অধিকারী মুমিন তথা আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন জিহাদের আহ্বান আসলে এটা নিয়ে মোটেই চিন্তিত হন না সন্তানসন্ততি, স্ত্রী ও সম্পদের দেখাশুনার কি হবে! শত্রুপক্ষের শক্তি ও সংখ্যার প্রাধান্যও তাঁদের হতাশ করে না, তাঁরা একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া অন্য কিছুকেই ভয় করেন না! এমনকি  আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের কারণে তাঁরা বিনা অস্ত্রে বা খালি হাতেও সংগ্রামের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন, পরিবারের বিষয় সঁপে দেন স্বয়ং আল্লাহর ওপর।  কারবালার ময়দানে ইমাম হুসাইনের সঙ্গী-সাথীরা ছিলেন এমনই প্রকৃতির।

ইমাম হুসাইন (আ) তাঁর অনেক সঙ্গীকে সেদিন তথা আশুরার দিন জোর করেও যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেননি। তাঁদের একজন ছিলেন ইমামের ও নবী পরিবারের বৃদ্ধ এক খাদেম। জুন নামের এই খাদেমকে ইমাম হুসাইন বললেন, তুমি বহু বছর আমাদের খেদমত করেছ, এখন বৃদ্ধ বয়সে নিরাপদ কোনো স্থানে চলে যাও! কিন্তু জুন নাছোড়বান্দার মত পীড়াপীড়ি করতে থাকে। ইমামকে সহজে রাজি করানো যাবে না ভেবে জুন তখন কল্পিত অভিযোগ দাঁড় করিয়ে গভীর অভিমানের সুরে বললেন: তাইতো! আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ খাদেম ও আমার গায়ে গন্ধ বলেই আপনি চান না শহাদাতের উচ্চ মর্যাদা আমার হোক্!  ইমাম হুসাইন তখন তাঁকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিলেন! শহীদ হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের কয়েক মুহুর্ত আগে ইমাম জুনের মুখের ওপর নিজের মুখ রাখলে জুন উচ্চস্বরে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেন, আমার কত বড় সৌভাগ্য ফাতেমার সন্তান আমার মুখে মুখ রেখেছেন! ইমামের দোয়ার কারণে পরবর্তীকালে এই জুনের লাশ ও কবর থেকে সব সময়ই সুগন্ধ পাওয়া যেত!

ইমাম কারবালায় তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা সঙ্গী-সাথী বলে উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ যে কোনো নবী-রাসুলের বা ইমামের সঙ্গীদের তুলনায় তাঁরা কঠিনতম পরিস্থিতিতেও নিঃসন্দেহে অনেক বেশি বিশ্বস্ত, আন্তরিক ও নিবেদিত প্রাণ ছিলেন।

আশুরার বিপ্লব এত বহুমাত্রিক শিক্ষায় পরিপূর্ণ যে স্বপ্ল পরিসরে সেসবের  বর্ণনা সম্ভব নয়। মোটকথা আশুরা আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে সর্বোত্তম সব গুণের প্রেরণা এবং অন্যায়-অবিচারসহ সব ধরনের মন্দ স্বভাবের প্রতি ঘৃণা। এ কারণেই এমন বিপ্লবের সংস্কৃতি আতঙ্কিত করে খোদাবিমুখ ও খোদাদ্রোহী শক্তিকে। মহান আল্লাহ আশুরা বিপ্লবের নানা আলোয় আমাদের জীবনকে আলোকিত করার তৌফিক দিন। আমিন। #

পার্সটুডে