সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি)

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০২৬ 

news-image

তেহরান (তাসনিম) – ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।

এসএনএসসি সচিবালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে আগ্রাসী পক্ষগুলোর ব্যর্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বানের পর, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান সংঘাত শেষ করার উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে আলোচনায় সম্মত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধি দল দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও দেশটির অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। তবে আলোচনার সময় অপর পক্ষ অতিরিক্ত শর্ত উত্থাপন করলে তা ইরান প্রত্যাখ্যান করে, কারণ তারা নিজেদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি। ফলে আলোচনা স্থগিত রাখা হয়, যতক্ষণ না অপর পক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের অবস্থান সামঞ্জস্য করে।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন কিছু প্রস্তাব এসেছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।

এসএনএসসি জোর দিয়ে জানায়, ইরানের আলোচক দল জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করবে না এবং ইরানি জনগণের অধিকার ও ত্যাগের পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি—এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইসরায়েলি শাসন শুরু থেকেই লেবাননে নৃশংস হামলা চালিয়ে এই শর্ত ভঙ্গ করেছে, যেখানে হিজবুল্লাহ বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।”

এতে আরও বলা হয়, ইরানের জোরালো অবস্থানের কারণে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়। তখন একটি সমঝোতা হয় যে, যদি সব ফ্রন্টে শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তবে হরমুজ প্রণালী সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে—কিন্তু কোনো সামরিক বা শত্রু দেশের অ-সামরিক জাহাজের জন্য নয়। এটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং নির্ধারিত রুটে পরিচালিত হবে।

এসএনএসসি আরও জানায়, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অধিকাংশ লজিস্টিক সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে হয়, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত প্রণালীর ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সিদ্ধান্তে ইরান দৃঢ়।

বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করা হয়, এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হবে প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, ইসলামিক রিপাবলিক ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রানজিট সনদ প্রদান, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত সেবার ফি আদায় এবং ইরান নির্ধারিত রুট অনুসরণ করার মাধ্যমে।

আরও বলা হয়, যদি শত্রুপক্ষ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বা নৌ অবরোধের মতো ব্যবস্থা নেয়, তবে ইরান সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করবে এবং হরমুজ প্রণালী আংশিক বা শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও বাতিল করবে।

সবশেষে সচিবালয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেয়ির পরামর্শ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জন সুসংহত করা ও কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য জনগণের সক্রিয় উপস্থিতি, সর্বস্তরে সতর্কতা এবং রাষ্ট্রীয়, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি