বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

বাকাই: শান্তিপ্রিয় ইরানি জাতির ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কোনো প্রচলিত যুদ্ধ নয়

পোস্ট হয়েছে: মে ১৩, ২০২৬ 

news-image

তেহরান – ইরনা: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার ইরানি জাতির বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রকৃতি সম্পর্কে এক বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, শান্তিপ্রিয় ইরানি জাতির ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কোনো প্রচলিত যুদ্ধ নয়।

বুধবার ভোরে ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রকৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাঘাইয়ের বার্তার পাঠ্য নিম্নরূপ:

সমস্ত সম্মানিত ও বিবেকবান মানুষের প্রতি—ধর্ম, জাতিসত্তা, জাতীয়তা, বর্ণ বা অন্য যেকোনো পার্থক্য নির্বিশেষে;

মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, শিখ, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য সব ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের প্রতি;

এবং তাদের প্রতিও, যারা নিজেদের কোনো ধর্মের অনুসারী মনে করেন না, কিন্তু শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার সার্বজনীন মূল্যবোধে গভীরভাবে বিশ্বাসী:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী শাসনব্যবস্থা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো, আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীন ইরানের বিরুদ্ধে একটি আগ্রাসী ও অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।

আমরা ভুলে যাই না যে, ২০২৫ সালের জুনেও একই অজুহাতে তারা ইরানে হামলা চালিয়ে দাবি করেছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

সতর্ক থাকুন:

এই যুদ্ধ ভূখণ্ড, সম্পদ বা ভূরাজনীতির জন্য নয়। এটি এমন এক যুদ্ধ, যা আমাদের যুগে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য “সত্যিকারের ভালো” ও “মন্দ”-এর অর্থ নির্ধারণ করবে।

শান্তিপ্রিয় ইরানি জাতির ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কোনো প্রচলিত যুদ্ধ নয়।

একপক্ষে দাঁড়িয়ে আছে তারা, যারা যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন ও মানবিক নীতিমালা পদদলিত করতে আনন্দ পায়; যারা বিনোদনের জন্য মানুষ হত্যা করে, পরিবারকে কষ্ট দেওয়ার জন্য শিশুদের হত্যা করে, এবং নারীদের ক্রীড়া হলগুলোতে হামলা চালায় শুধু তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য।

এই যুদ্ধ তাদের মধ্যে, যারা নিরস্ত্র জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়াকে “আরও মজা” বলে গর্ব করে, এবং সেই মানুষের মধ্যে, যারা আগ্রাসনের মধ্যেও নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়।

এই যুদ্ধ পেশাদার মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের সহিংসতার পক্ষে ভুয়া অজুহাত তৈরি করে, এবং সম্মানিত মানুষের পক্ষে, যারা শুধু নিজেদের সামর্থ্য ও ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে মাতৃভূমি ও মানব মর্যাদা রক্ষা করে।

এই যুদ্ধ তাদের বিরুদ্ধে, যাদের সিদ্ধান্ত নৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত হয়, এবং তাদের পক্ষে, যারা স্বচ্ছ ও কলুষমুক্ত বিবেক নিয়ে কাজ করে।

এই যুদ্ধ মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক চূড়ান্ত লড়াই। এই যুদ্ধ নির্ধারণ করবে, মানব সভ্যতার অর্জন, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও নৈতিকতার মৌলিক ভিত্তি—টিকে থাকবে, নাকি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

আমাদের নির্বাচন করতে হবে:

আমরা কি এমন একটি বিশ্ব চাই, যা দাসপ্রভুদের অহংকারী, অত্যাচারী ও জবাবদিহিহীন শক্তির আধিপত্যে পরিচালিত হবে? এমন একটি বিশ্ব, যা জোর, মিথ্যা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শাসিত হয়?

নাকি আমরা এমন একটি বিশ্বের পক্ষে দাঁড়াব, যা সম্মান, ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানব মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে?

মানবতার বিবেক এখনও মৃত নয়। কিন্তু এমন দিনে নীরবতা মানে অশুভ শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা।

যদি আমরা বর্বরতা ও আধিপত্যের বিরোধী হই, তবে আমাদের নৈতিক সাহস থাকতে হবে, কথা বলতে হবে, কাজ করতে হবে এবং ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়াতে হবে। পৃথিবী সম্পূর্ণ আইনহীনতা ও দাসত্বের অতলে পতিত হওয়ার আগেই।

পছন্দ আপনার, এবং ইতিহাস আমাদের কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ করে রাখবে।

সূত্র: ইরনা